আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে উপহার দেয়া হবে

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহার বলেছেন, আগামী ৫ জুন বুধবার চতুর্থ ধাপে বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে ইতোপূর্বে ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপে এখানকার ১১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উল্লেখিত এ দু’টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য, অত্যৗল্প সুষ্ঠুভাবে উপহার দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জগণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর সমর্থক আচরণবিধি লংঘন করলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ উপলক্ষে (৩০ মে) বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখল বা অন্য কোন অজুহাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোন ধরণের গুজব ছড়ালে ছাড় নেই। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবর্দা আপনাদের পাশে থাকবে। নির্বাচনে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা একেএম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে। একজন প্রার্থীর পোষ্টারের উপর অন্য প্রার্থীর পোষ্টার লাগানো যাবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান বা পরিপত্র মেনে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট কেন্দ্রে বা বাইরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। কোন অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করবো না। ৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যে কোন ধরণের সহিংসতা রোধে জেলা পুলিশ প্রস্তুুত রয়েছে। সভায় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, নির্বাচনে কেউ জয়ী হবে, কেউ পরাজিত হবে, এটা বাস্তবতা ও মেনে নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির পরিবেশ সৃষ্টিকরা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কমিশন কোন ধরণের ছাড় দেয়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সবাই আপনাদের পাশে আছে। আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোন অবহেলা হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে যা যা করণীয় তা-ই করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় অনুমতি ব্যতীত কোন যানবাহন চলবে না। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘন্টা আগ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা করা যাবে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ.কে.এম গোলাম মোর্শেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইনামুল হাছান, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, আনসার ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট এএইচএম সাইফুল্লাহ হাবীব, সিএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ নুরুল ইসলাম সিদ্দিক, বিজিবির সহকারী পরিচালক উপেন্দ্র নাথ হালদার, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হারুন মোল্লাহ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হোসাইন, র‌্যাবের ডিএডি মোহাম্মদ মনির হোসেন, লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাশেদুল ইসলাম ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। সভায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ সুষ্ঠু নির্বাচন বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঋণখেলাপীর দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া কুমিল্লা–৪ আসনের বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
১০ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এক ভিডিওতে তিনি বলেন- যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন বক্তব্যের পর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

দলীয় ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থি বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরে আমাদের অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আমরা মনে করি তার এ সফর বিএনপিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
নির্বাচনের প্রত্যাশা কি! এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা একটাই যেটা আমরা গত ১৫ বছরে পাইনি। আমরা ভোট দিতে পারিনি। এ নির্বাচনটি সুষ্ঠু হলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কমবেশি সতর্কতার সাথে তাদের নিজস্ব সক্রিয়তার মাধ্যমে এ নির্বাচনে কাজ করেছেন। আমি আশাবাদী এখানে এবারের নির্বাচন অনেক ভালো হবে।

তিনি আরো বলেন, অনেক দিন নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের ভিতরে একটা উদ্বেগ কাজ করতো যে নির্বাচনটা ঠিকঠাক হবে কিনা। কারণ বিগত ১৫ বছরে নির্বাচনে এতো কারচুপি হয়েছে যে একটা ভালো নির্বাচন হতে পারে এটাই অনেকে ভাবে না।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ