আজঃ শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন সরে দাঁড়ালেন জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৫ জুন বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের ৪র্থ ধাপে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
নির্বাচনের দুই দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল। তিনি বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটর সাইকেল প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। আজ রবিবার (২রা জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালের কেবিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। মোটর সাইকেল প্রতীকের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী লিখিত বক্তব্যে বলেন প্রিয় বাঁশখালীবাসী ৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য এতদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রচারণা চালিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ আমার শারিরিক অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রামের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোন ভাবেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছি না। এমন অবস্থায় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সবদিক বিবেচনা করে আমি এই নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলাম। মোটর সাইকেল প্রতীকের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী আরো বলেন এতদিন আপনারা যারা সহযোগিতা আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়েছেন সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন সুস্থ হয়ে আপনাদের সেবায় ফিরে আসতে পারি। আমি নিজেই স্বেচ্ছায় এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এসময় হাসপাতালে তাঁর কাছের আত্মীয় স্বজন ও কর্মী সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মার্শাল নিজেই তাঁর কর্মী সমর্থকদের কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম (দোয়াত কলম), বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. এমরানুল হক ইমরান (আনারস), বাঁশখালীর সাবেক পৌর মেয়র শেখ ফখরুদ্দীন চৌধুরী (ঘোড়া)। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সাবেক জিএস জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে সরব থাকলেও আজ সরে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে তালা প্রতীকের আকতার হোসেন ও বই প্রতীকের মো. হোছাইন, টিয়া প্রতীকের মো. আরিফুর রহমান সুজন, চশমা প্রতীকে মো. আরিফুজ্জামান আরিফ, মাইক প্রতীকে মো. ওসমান গণী, টিউবওয়েল প্রতীকে ইমরুল হক চৌধুরী ফাহিম, উড়োজাহাজ প্রতীকের এম.এ মালেক মানিক।অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকে নুরী মন আক্তার নুরী, কলসি প্রতীকের রেহেনা আকতার কাজমী, ইয়ামুন নাহার প্রজাপতি প্রতীকে মাঠে লড়েছেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার এ.কে.এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে আমরা শতভাগ ভালো নির্বাচন করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ, এ উপজেলায় তিনটি পদে মোট ১৪ জন প্রার্থী মাঠে লড়েছেন। আগামী ৫ জুন সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের ৮৫৬টি ভোট কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাঁশখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯শত ৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২ হাজার ৩শত ২১জন, মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৭৪ হাজার ৫শত ৮১জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ৪ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ