আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন সরে দাঁড়ালেন জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৫ জুন বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের ৪র্থ ধাপে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
নির্বাচনের দুই দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল। তিনি বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটর সাইকেল প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। আজ রবিবার (২রা জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালের কেবিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। মোটর সাইকেল প্রতীকের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী লিখিত বক্তব্যে বলেন প্রিয় বাঁশখালীবাসী ৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য এতদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রচারণা চালিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ আমার শারিরিক অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রামের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোন ভাবেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছি না। এমন অবস্থায় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সবদিক বিবেচনা করে আমি এই নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলাম। মোটর সাইকেল প্রতীকের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী আরো বলেন এতদিন আপনারা যারা সহযোগিতা আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়েছেন সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন সুস্থ হয়ে আপনাদের সেবায় ফিরে আসতে পারি। আমি নিজেই স্বেচ্ছায় এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এসময় হাসপাতালে তাঁর কাছের আত্মীয় স্বজন ও কর্মী সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মার্শাল নিজেই তাঁর কর্মী সমর্থকদের কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম (দোয়াত কলম), বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. এমরানুল হক ইমরান (আনারস), বাঁশখালীর সাবেক পৌর মেয়র শেখ ফখরুদ্দীন চৌধুরী (ঘোড়া)। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সাবেক জিএস জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শাল মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে সরব থাকলেও আজ সরে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে তালা প্রতীকের আকতার হোসেন ও বই প্রতীকের মো. হোছাইন, টিয়া প্রতীকের মো. আরিফুর রহমান সুজন, চশমা প্রতীকে মো. আরিফুজ্জামান আরিফ, মাইক প্রতীকে মো. ওসমান গণী, টিউবওয়েল প্রতীকে ইমরুল হক চৌধুরী ফাহিম, উড়োজাহাজ প্রতীকের এম.এ মালেক মানিক।অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকে নুরী মন আক্তার নুরী, কলসি প্রতীকের রেহেনা আকতার কাজমী, ইয়ামুন নাহার প্রজাপতি প্রতীকে মাঠে লড়েছেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার এ.কে.এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে আমরা শতভাগ ভালো নির্বাচন করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ, এ উপজেলায় তিনটি পদে মোট ১৪ জন প্রার্থী মাঠে লড়েছেন। আগামী ৫ জুন সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের ৮৫৬টি ভোট কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাঁশখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯শত ৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২ হাজার ৩শত ২১জন, মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৭৪ হাজার ৫শত ৮১জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ৪ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

সিএমএম ; শুধু সন্দেহে নয়, কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার পুলিশকে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা ছাড়া কাউকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। গত সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিকটিমের মেডিকেল সনদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম। এতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, চমেক হাসপাতাল এবং আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে কেস ডায়েরির অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং সেখানে গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিক কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা যাবে না বলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিএমএম।

কনফারেন্সে ভিকটিমকে পরীক্ষাকারী চিকিৎসকের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা, মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংযুক্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন সিএমএম। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ সরাসরি জানাতে ‘সিএমএম চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে চালু করা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিএমএম বলেছেন, বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ইমেইল চালু করা হয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি অভিযোগ জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ