আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ঝাড়ফুঁকের কথা বলে বাড়িতে নিয়ে বৃদ্ধা মহিলাকে খুন

ওবায়দুর রহমান গৌরীপুর ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাবিকুন্নাহার টুনি(২৫) নামে এক নারীর হাতে ফুলজান (৮৮) নামে এক বৃদ্ধা নারী খুন হয়েছে। সোমবার (৩জুন) দুপুরে উপজেলার ভালুকাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত ফুলজান ভালুকাপুর পশ্চিম উলুয়াকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের স্ত্রী। এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত সাবিকুন্নাহার টুনিকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে একই গ্রামের মোঃ আনারুলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সাবিকুন্নাহার টুনি(২৫) পেট ব্যাথার প্রশমনের জন্য নিহত নারীকে ঝাড়ফুঁক দেয়ার জন্য নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পেট ব্যাথা না কমায় সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বৃদ্ধাকে সাবিকুন্নাহার শাবল দিয়ে গলাসহ তিন-চারটা আঘাত করে। নিহতের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই বৃদ্ধা মারা যান।
নিহতের বড় ছেলে মুজিবুর রহমান জানান, মায়ের কোমড়ে সবসময় টাকা থাকতো। মেয়েটার সাথে কোন ধরণের শত্রুতা ছিলো না। মেয়ে সবসময় আমার মায়ের কাছে আসতো। আমার মা ঝাড়ফুঁক করতো। জোহরের নামাজের সময় টুনি আমার মাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। আমি নামাজ পড়ে ভাত খেয়ে বিছানায় বিশ্রাম নেয়ার সময় প্রতিবেশিদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে জানতে পারি আমার মাকে আঘাত করা হয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ^রগঞ্জ হাসপাতালে পাঠাই।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধা ফুলজানকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখানে তাকে ব্যান্ডেজ করে ডাবল স্যালাইন দিয়ে মূমূর্ষ অবস্থায় এ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন চন্দ্র রায় বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ