আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

নাগেশ্বরী হাসপাতালে ইউনিসেফের প্রকল্পে হরিলুট

নুরুন্নবী সরকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিসেফের অর্থায়নে ওয়াশ ফিট প্রকল্পে ডিএসকের (দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র) উদাসীনতায় হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ সুত্রে জানাযায়,প্রায় ৩০লক্ষ টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলার মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও ওয়াশ ফিট (পয়ঃনিষ্কাশন,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ডিএসকের মাঠ পর্যায়ের নিষ্কৃয়তায় স্ব-ঘোষিত ঠিকাদার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের মহোৎসব চলছে।

সরেজমিনে দেখাযায় দরপত্র ছাড়াই গোপনে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ,মনগড়া ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকল্প বাস্থবায়ন কমিটি গঠন,নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে রাতের আধারে তরিঘরি করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নকরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
এসব বিষয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের মিডিয়া স্পেশালিষ্ট ফারিয়া সেলিম ও মিডিয়া উইং অফিসার ফারজানা সুলতানার নিকট জানতে চাইলে তারা জানায়, মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প তদারকি করার মতো ইউনিসেফের অতো জনবল নেই। ওয়াশ ফিট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএসকের কাজে অবহেলার অভিযোগ পেলে বিষয়াটি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে প্রকল্প বাস্কবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডিএসকের এম এ রব পাটোয়ারী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তিনি জানায়, এটা সরকারি কাজ আপনারা সরকারকেই জিজ্ঞাসা করেন।

অন্যদিকে প্রতিবেদক রাতের আধারে চলা প্রকল্পের কাজ দেখতে চাইলে প্রকল্প সহকারী প্রোকৌশলী নাবিদ ফয়সাল জানায়, কাজ এখনো শুরু হয়নি,কাজ শুরু হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাজ দেখা নিষেধ। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন,ইউনিসেফের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আমাকে তেমন কিছুই জানানো হয়নাই। দুয়েক বার মিটিং করেছে এই যা।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন গুরুতর অভিযোগ করে বলেন,আমার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। কাজ কবে কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এসব বিষয়ে আমার জানা নাই এবং হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ারও আমার নেই।

অপরদিকে ঠিকাদার পরিচয় দেয়া স্বঘোষিত ছাত্র সমাজের বহিস্কৃত নেতা আব্দুল (ছদ্ম নাম) সংসদ সদ্যসের নাম ভাঙ্গিয়ে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিসেফের কাজটা আমি করছি, এমপি সাহেবও বিষয়টি জানেন। কাজের অসংগতির বিষয়ে আপনারা লিখিয়েন না,প্লিজ। আপনাদের সম্মানির বিষয়টা দেখবো। এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডাক্তার সাহেব আলী ও সদস্য ডাক্তার ফতেখার উল ইসলাম এ বিষয়ে প্রতিবেদককে জানায়, কমিটিতে আমাদের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৩০ কার্টন সিগারেট ও স্মার্টফোন জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে দুইজন যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করেছে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে পরিচালিত অভিযানে এগুলো জব্দ করা হয় বলে বুধবার সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আটক যাত্রীরা হলেন, বাঁশখালীর মোহাম্মদ আরাফাত এবং আমিরাবাদের মোহাম্মদ রায়হান।

বিমানবন্দর কাস্টমস জানায়, জব্দ করা পণ্য ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম (ডিএম) মূল্যে বাজেয়াপ্ত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এনএসআই চট্টগ্রামের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। এ সময় আবুধাবি থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের (বিজি-১২৮) দুই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৬৩০ কার্টন সিগারেট (মন্ড) এবং ৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে সিগারেট থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, একটি আইফোন থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং চারটি স্যামসাং ফোন থেকে ৬০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, জড়িত দুই যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম-ফেনীতে র‌্যাবের যৌথ অভিযান, ৪৮ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোজ্যতেল ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব সদস্যরা। অভিযানে সাড়ে ৪৮ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ ও ১২ একর সরকারি জমি উদ্ধার এবং ফুটপাথের ৯টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া নানা অনিয়মের দায়ে মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, বিপিসি ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।সোমবার র‌্যাব-৭ এর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ভোজ্যতেল, অকটেন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখল করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল মজুত, অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং স্ট্যাম্পবিহীন ওজন ও পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহারসহ নানা অপরাধের দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া পণ্যের মেয়াদ না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও মজুত এবং ভুয়া সিল ব্যবহারের দায়ে আরও ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, অভিযানে সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখলের অপরাধে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১২ একর সরকারি জমি উদ্ধার ও ফুটপাথের ৯টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া অপরিশোধিত ফার্নেস অয়েল আমদানি, পরিবহন, মজুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ