আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নাগেশ্বরী হাসপাতালে ইউনিসেফের প্রকল্পে হরিলুট

নুরুন্নবী সরকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিসেফের অর্থায়নে ওয়াশ ফিট প্রকল্পে ডিএসকের (দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র) উদাসীনতায় হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ সুত্রে জানাযায়,প্রায় ৩০লক্ষ টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলার মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও ওয়াশ ফিট (পয়ঃনিষ্কাশন,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ডিএসকের মাঠ পর্যায়ের নিষ্কৃয়তায় স্ব-ঘোষিত ঠিকাদার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের মহোৎসব চলছে।

সরেজমিনে দেখাযায় দরপত্র ছাড়াই গোপনে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ,মনগড়া ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকল্প বাস্থবায়ন কমিটি গঠন,নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে রাতের আধারে তরিঘরি করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নকরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
এসব বিষয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের মিডিয়া স্পেশালিষ্ট ফারিয়া সেলিম ও মিডিয়া উইং অফিসার ফারজানা সুলতানার নিকট জানতে চাইলে তারা জানায়, মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প তদারকি করার মতো ইউনিসেফের অতো জনবল নেই। ওয়াশ ফিট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএসকের কাজে অবহেলার অভিযোগ পেলে বিষয়াটি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে প্রকল্প বাস্কবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডিএসকের এম এ রব পাটোয়ারী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তিনি জানায়, এটা সরকারি কাজ আপনারা সরকারকেই জিজ্ঞাসা করেন।

অন্যদিকে প্রতিবেদক রাতের আধারে চলা প্রকল্পের কাজ দেখতে চাইলে প্রকল্প সহকারী প্রোকৌশলী নাবিদ ফয়সাল জানায়, কাজ এখনো শুরু হয়নি,কাজ শুরু হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাজ দেখা নিষেধ। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন,ইউনিসেফের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আমাকে তেমন কিছুই জানানো হয়নাই। দুয়েক বার মিটিং করেছে এই যা।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন গুরুতর অভিযোগ করে বলেন,আমার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। কাজ কবে কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এসব বিষয়ে আমার জানা নাই এবং হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ারও আমার নেই।

অপরদিকে ঠিকাদার পরিচয় দেয়া স্বঘোষিত ছাত্র সমাজের বহিস্কৃত নেতা আব্দুল (ছদ্ম নাম) সংসদ সদ্যসের নাম ভাঙ্গিয়ে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিসেফের কাজটা আমি করছি, এমপি সাহেবও বিষয়টি জানেন। কাজের অসংগতির বিষয়ে আপনারা লিখিয়েন না,প্লিজ। আপনাদের সম্মানির বিষয়টা দেখবো। এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডাক্তার সাহেব আলী ও সদস্য ডাক্তার ফতেখার উল ইসলাম এ বিষয়ে প্রতিবেদককে জানায়, কমিটিতে আমাদের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ