আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কোটা পুনর্বহাল আদেশের বিরুদ্ধে গৌরীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ওবায়দুর রহমান গৌরীপুর ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল আদেশের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সর্বস্তরের ছাত্র সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ জুন) সকাল ১১ টায় উপজেলার পৌর শহরের হারুন পার্কের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়-বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ‘১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দেয়’ ইত্যাদি শ্লোগানযুক্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রিদুওয়ানুল হাসান ফাহাদ, মোঃ আশিকুর রহমান রাজিব, মোঃ মোজাম্মেল হক, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ, মেহেদী হাসান, মোঃ মনির, রাজিবুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ফাহিম, রাজন প্রমুখ।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘জনগণের জন্য হাইকোর্ট, জনগণের জন্য আইন, আইন সংশোধন করে হাইকোর্টের এই রায় আপনারা বাতিল করবেন। এই রায় বাতিল না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচী পালন করবো।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা বাংলার ছাত্র সমাজ, আমরা বাংলার ছাত্র, আমরা দেখিয়ে দিয়েছি এর আগে বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের অধিকার আদায় করতে হয়। যারা উপর মহলে আছেন, যারা এইটার দায়িত্বে আছেন তাদের উদ্দেশ্যে করে তারা বলেন, সারা বাংলায় আপনারা ছাত্রদের রাজপথে নামাবেন না। আমরা কৃষকের সন্তান। আমরা আমাদের পরিশ্রম দিয়ে বাবার খেত-খামারে কাজ করা টাকা দিয়ে পড়াশোনা করে, মেধা অর্জন করে তারপর যাই একটা সরকারি চাকরির আশায়। আপনারা কি করেন সেখানে কোটা তৈরি করেন। একটি দেশের সরকারি চাকরিতে ৫৬% কোটা দিয়ে চাকরি হয় আর মাত্র মেধাবীদের জন্য ৪৪% হয়।
এ সময় বক্তারা আরো বলেন, সরকারি নিয়োগগুলো হবে মেধার ভিত্তিতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোটা প্রথা চালু রয়েছে কিন্তু আমাদের দেশের মতো এত বড়ো বৈষম্য কোথাও দেখি না। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন, তাদেরকে স্যালুট জানাই, সম্মান করি। তাদেরকে পারিবারিকভাবে সরকার সহযোগিতা করছে। কিন্তু তাদের নাতি-নাতনিদের পর্যন্ত কোটা দিতে হবে এটাকে আমরা মানতে পারি না, মানতে পারবো না। এটা একটা চরম বৈষম্য, এই বৈষম্য আমরা কখনো মেনে নেবো না। আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে সিদ্ধান্তকে অচিরেই বাতিল করতে হবে।
হাইকোর্টের এই রায় বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্ররা।
উল্লেখ্য যে, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র গত ৫ জুন অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এই রুলটিকে যথাযথ বলে ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব: সাঈদ আল নোমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান এমপি বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না, বরং তাদের দক্ষ ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘সামার ২০২৬’ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাঈদ আল নোমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে রামিসার অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।তিনি বলেন, রামিসার এই চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।নবীন শিক্ষার্থীদের সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি সামার ২০২৬ সেশনের নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান এবং একাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সমানভাবে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম. সেকান্দার খান। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন ইকোটেক্স লিমিটেডের এইচআর ডিরেক্টর শাফায়েত কবির চৌধুরী। তিনি বর্তমান করপোরেট জগতের চাহিদা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির নানাদিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেজর রেজাউল করিম (অব.)।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ