আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের সেমিনার

সহনশীল আচরণের অভাবে রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার চর্চা ও চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শুধুমাত্র আন্তরিকতা, নৈতিকতার চর্চা ও সহনশীল আচরণের অভাবে রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাতে নগরীর ও আর নিজাম রোডে হোটেল ওয়েল পার্কে এ সেমিনারের আয়োজন করে চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, চট্টগ্রাম’। সংগঠনের জেলা সভাপতিত্বে ডা. চন্দন দাশের সভাপতিত্বে সেমিনারের শুরুতে ‘মেডিকেল ইথিকস এন্ড ডক্টর-পেশেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. নন্দন কুমার মজুমদার। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনেস্থেশিয়া (অবেদন) বিশেষজ্ঞ ডা. দুলাল দাস ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস সি ধর।
ডা. দুলাল দাস বলেন, পৃথিবী অস্থির, দেশ অস্থির, সমাজ অস্থির। অস্থিরতার প্রভাব থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা মুক্ত থাকবে, এটা আশা করা বোকামি। স্বাভাবিকভাবেই অস্থিরতার প্রভাব চিকিৎসকদের মধ্যেও পড়েছে। ৫৪ বছরের প্র্যাকটিসিং লাইফে কোনোদিন এমন দুর্নীতিপরায়ণ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমি দেখিনি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। ডাক্তাররা এখন ব্রোকার (দালাল) পোষেন, ব্রোকারদের কাছ থেকে রোগী নেন, তারপর ১০ হাজার টাকার পরীক্ষা দেন আর কমিশন খান, তাহলে সুচিকিৎসা হবে কিভাবে? বড় বড় ডাক্তার, উনার নম্বর নেয়ার জন্য তার স্টাফকে ১০০ টাকা দিতে হয়। কোনো হাসপাতাল-ক্লিনিকে কোনো সিস্টেম নেই। ব্রোকারনির্ভর ডাক্তার, এমনও দেখা যায়, সার্জনের চেয়ে ব্রোকারের ফি বেশি।
রোগীর বিদেশযাত্রা ঠেকানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলেন, আমরাও বলি, চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এটা সত্য নয়। আমাদের মেধা-যোগ্যতা কোনো অংশে বিদেশের ডাক্তারদের চেয়ে কম নয়। ওরা যা পড়েছে, আমরাও তা পড়েছি। হয়তো আমাদের লজিস্টিকস কম থাকতে পারে। কিন্তু রোগী চিকিৎসা পাচ্ছে না, এমন নয়। আমি রোগীদের অনেককে জিজ্ঞেস করেছি। তারা বলছে- ডাক্তার কথা বলে না, জিজ্ঞেস করলেও বলে না, শুধু স্লিপের পর স্লিপ লিখে দেয়।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস সি ধর বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের মানুসের নৈতিকতা-অনৈতিকতায়ও পরিবর্তন হয়েছে। মাথায় পচন ধরেছে, সেটার চিকিৎসা না করে শুধুমাত্র পেশা ধরে ধরে ব্যক্তি মানুষকে ইথিকস মানানোর চেষ্টা করা হলে এটা হাস্যকর হবে। চিকিৎসকদের সম্পর্কে বদনামগুলো যদি দূর করতে হয়, তাহলে আগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ সমস্যা শুধুমাত্র চিকিৎসকের সমস্যা, এটা ভাবলে ভুল হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন ডাক্তারের কাছে রোগীর অনেক জিজ্ঞাসা থাকে, তাকে সেগুলোর জবাব দেয়া আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আপনি যদি মনে করেন, আপনার পক্ষে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাহলে ছেড়ে দেন, অন্য কোনো ডাক্তারের কাছে পাঠান, কিন্তু তাকে ধরে রেখে বদনামের ভাগীদার হবেন না। একজন রোগী যখন আপনার কাছে আসবে, তাকে আগে অবজার্ভ করেন। শুধুমাত্র তার রোগ অবজার্ভ নয়, ফিজিক্যালি, মেন্টালি, তার ইকোনমিক্ কন্ডিশন অবজার্ভ করতে হবে। আপনি প্রয়োজন ছাড়া তাকে ৮টা-১০টা পরীক্ষা লিখে দিলেন, সক্ষমতা আছে কি না তো দেখতে হবে। সক্ষমতা থাকলেও সে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে কেন ?
এস সি ধর আরও বলেন, একজন চিকিৎসকের আচরণ হতে হবে ইক্যুয়েল। রোগী মন্ত্রীর ছেলে না কি রিকশাওয়ালার ছেলে, সে হিন্দু না কি মুসলিম, ধনী না কি গরীব- এটা দেখা আপনার দায়িত্ব নয়। সে আপনার রোগী, শুধু এটা মাথায় রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। বিত্তশালী কাউকে আপনি খুব মনযোগ দিয়ে চিকিৎসা দিলেন, গরীব পেশেন্টকে আপনি অবহেলা করলেন, এটা নয়, ইক্যুয়েল হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. চন্দন দাশ বলেন,আসলে সংকটটা রাষ্ট্রে, আমাদের সমাজে। এর প্রভাবে আমাদের মূল্যবোধে, মননে সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অজুহাতে চিকিৎসকদের হয়রানি করা হচ্ছে। সেটা মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। সেই আইন প্রণয়নের জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আজকের পৃথিবীতে সবকিছুকেই পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেও পণ্যের জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা মানুষের মৌলিক চাহিদা, মৌলিক অধিকারগুলোকে পণ্যের ধারণা থেকে বের করে আনতে কাজ করছি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন, কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নারীনেত্রী লতিফা কবির, ডা. দিলীপ দে, ডা. পূর্ণেন্দু বিকাশ সাহা, আইনজীবী জহীর উদ্দীন মাহমুদ ও নাসির উদ্দিন।

কামরুল হাসান বাদল বলেন, আমরা সবাই অস্থিরতায় আক্রান্ত। কেউ কারও কথা শুনতে চাচ্ছি না, শোনার আগ্রহ নেই, শোনাতে আগ্রহী সবাই। ডাক্তাররা এমন, আইনজীবীরা এমন, সাংবাদিকরা এমন- এভাবে টার্গেট করে বলার সুযোগ নেই। অনেকে ডাক্তারদের কসাই বলেন, মানসিক অস্থিরতা কোন পর্যায়ে গেলে এমন কথা মানুষ বলতে পারেন, এটা তার একটা বাস্তব উদাহরণ। এর থেকে বের হতে হলে সমাজে মানবিকতা, উদারতা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, সামাজিক অস্থিরতার প্রভাব শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে পড়েছে এমন নয়, রোগীদের মধ্যেও পড়েছে। চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে আস্থার একটা সংকট তৈরি হয়েছে। আগে যে বলা হতো- ডাক্তার মানে ঈশ্বরের পরে, সেই ধারণা আর নেই। ডাক্তারের কাছে গিয়েও রোগী কিংবা তাদের স্বজনরা জিততে চান। এর ফলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগী কিংবা স্বজনদের চড়াও হওয়া, বিভিন্ন অভিযোগ তোলা এসব ঘটনা ঘটে। এসবের অবসান হওয়া দরকার। একজন চিকিৎসকের ভূমিকা হচ্ছে রোগীর স্বজনদের প্রাসঙ্গিক বিষয় জানানো। আর রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের উচিৎ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন না করা।
ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, মেডিকেলে একজন রোগীকে আমি মনপ্রাণ দিয়ে চিকিৎসা করলাম, যাবার সময় তিনি বললেন, ডাক্তার আমাকে একটা বেড পর্যন্ত দিল না, আমাকে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। রোগী মনে করেন তাকে বেড দেয়ার মালিক ডাক্তার। সমাজের মানুষের এমন ধারণার মধ্যে ইথিকসের চর্চা কঠিন। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু- এ চারটা শব্দ জেনেই অনেকে চিকিৎসা সাংবাদিকতা শুরু করে দিচ্ছেন। ডাক্তার সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়ানোই যেন সংবাদপত্রের একমাত্র কাজ। আমি পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস পাস করলাম, সার্ভিস ট্রেনিং ছাড়াই আমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামগঞ্জে।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা খারাপ কাজের নিন্দা করতে ভুলে গেছি। খারাপ লোকের প্রশংসায় মশগুল থাকি। এর ফলে সমাজে নৈতিকতা-অনৈতিকতার চর্চাটা, শৃঙ্খলাটা ভেঙ্গে গেছে। আমরা মারাত্মক অবক্ষয়ের জায়গায় চলে এসেছি। সকল ইনস্টিটিউশন আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। সেগুলো আমরা রক্ষা করতে পারছি না। নীতিবিদ্যাই তো আমরা শিখাচ্ছি না। ধর্মের সঙ্গে নীতিবিদ্যা যোগ করে দেয়া হয়েছে। ধর্ম দিয়ে নীতিবোধের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। অথচ ধর্ম এক বিষয়, নীতিবিদ্যা আরেক বিষয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে না : সাঈদ আল নোমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেছেন, রাজনীতি শুধু নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জন্য কী উপকারী, কোন উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে-তা ভেবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাই সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেণ, নিজের জীবন, পরিবার, চিন্তা-ভাবনা এবং সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এটিকে নিজের সেবামূলক জীবনের প্রথম ও প্রধান কাজ হিসেবে দেখি। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের পিতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের উন্নয়নমূলক অবদানের কথা তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু নির্মাণ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে চার শহীদের স্মরণে কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়-যা একটি মুরগির খামার থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এ ছাড়া স্টেডিয়াম উন্নয়ন, জমিয়াতুল ফালাহ ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণে কাজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সাঈদ আল নোমান বলেন, আমার পিতা শুধু গণমানুষের নেতা ছিলেন না, নীরবে উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছেন।এখন সময় এসেছে, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কার্যকর অবদান রাখার যোগ্যতা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত। এটিকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাহাড়তলী, খুলশী ও হালিশহর এলাকায় সরকারি হাসপাতালের ঘাটতি প্রকট। খুলশীতে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও হালিশহর ও পাহাড়তলীতে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ উন্নত বেসরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে না।

ফলে চিকিৎসাসেবাকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। বড় পরিসরে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।তিনি হালিশহর ও পাহাড়তলী এলাকায় বৃহৎ পরিসরে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।তাঁর মতে, এতে শুধু একটি এলাকা নয়, পুরো চট্টগ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

চমেক হাসপাতালে পানির প্ল্যান্টে দৈনিক মেটাবে ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য রোববার এ ব্যাবস্থা চালু করেছে। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন।

জানা গেছে, প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতাল ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে।

রোববার হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শামসুল আলম। ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ। চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি।হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির।

প্রজেক্টের মূল উদ্যোক্তা ও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
ভবিষ্যতেও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ