আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

রূপগঞ্জের সড়ক মহাসড়কে কোনক্রমেই থামছে না নিষিদ্ধ যানবাহন

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রূপগঞ্জের হাইওয়ে সড়কে হাইওয়ে পুলিশেকে মাসোহারা দিয়েই চলছে নসিমন,করিমন, ভ্যানগাড়ি, অটোরিক্সা ও সিএনজি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে হাইওয়ে সড়কে চলছে এ নিষিদ্ধ যানবাহন। এমন অভিযোগ উঠেছে হাইওয়ে পুলিশের উপর।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে মহামান্য আদালত হাইওয়ে সড়কে থ্রী-হুইলার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একমাত্র হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারার কারণেই হাইকোটের রায় অমান্য করে নিষিদ্ধ যানবাহনের চালকরা ব্যস্ততম সড়ক কিংবা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনুমোদন না থাকার পরেও কিভাবে এসব থ্রী-হুইলার যানবাহন মহাসড়কে চলে এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। জানাযায়, হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সড়কে চালাচ্ছে নিষিদ্ধ যানবাহনের চালকরা। সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়, রূপগঞ্জের প্রতিটি সড়ক, মহাসড়ক ও হাইওয়ে সড়কে। উপজেলা ভূলতা, কাঞ্চন, রূপসী,বরপা, বরাবর, যাত্রামুড়া, গোলাকান্দাইল, নতুন বাজার, এলাকায় মহাসড়কের উপর গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ থ্রী-হুইলার (তিন চাকার) স্ট্যান। এ সব অবৈধ গাড়ী চলাচলের কারনে সড়ক, মহাসড়ক ও হাইওয়ে সড়কসহ উপজেলায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ঢাকা, গাজীপুর, ভূলতা বাইপাস সড়কের কাঞ্চন টোলপ্লাজা, কালাদী এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের মায়ার বাড়ি ও কাঞ্চনের চাঁন টেক্সটাইল এলাকায় কয়েকশ নিষিদ্ধ থ্রী-হুইলার যানবাহন চলাচল করে হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারার বৃত্তিতে। হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া বিভিন্ন ফল,ফুল ও পশুপাখির ছবির স্টিকার দিয়েই অবৈধ গাড়ি সড়কে চলাচলের অনুমোদন নেওয়া হয়। সেগুলোর খবর নিয়ে জানা যায়। নসিমন, ভটভটি, অটোরিক্সা, ভ্যান গাড়ি এই সমস্ত নিষিদ্ধ যানবাহন মাসোহারায় অনুমোদন দেওয়া হয় । নসিমন ও টমটম চালকরা বলেন, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কালাদীতে অটো রিক্সা টমটম, নসিমন গাড়ি থেকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দিতে হয় হাইওয়ে পুলিশের নিয়োজিত মঞ্জু ও শাওনকে টাকা দিলেই স্টিকার লাগিয়ে দেয় তারা। প্রতি মাসে বিভিন্ন ধরনের স্টিকার যেমন ফুল, বাঘ, সিংহ ও বাণিজ্য মেলার ভবনের ছবি দিয়ে স্টিকার লাগিয়ে চলে এসব অনুমোদনহীন গাড়ি। টাকা না দিয়ে কোন থ্রী-হুইলার (তিন চাকার) গাড়ী সড়কে চলাচল করতে পারেনা। মঞ্জু এবং শাওনের মাধ্যমে স্টিকার বিক্রি করে পুলিশ টাকা নেয় বলে জানান ভুক্তভোগী চালকরা।
অটো রিক্সা চালক কবির বলেন, আমাদের কী দোষ আমার প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাই। পুলিশ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সড়ক, মহাসড়ক ও হাইওয়ে সড়কে গাড়ি চালাতে দেয়। এরকমই অভিযোগ উঠেছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে চালক ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভূলতা হাইওয়ে পুলিশে ইনচার্জ আলী আশরাফ মোল্লা বলেন, হাইওয়ে পুলিশ কোন যানবাহনে স্টিকার দেয়না। আমরা কোন মাসোহারা নেই না। যেসকল গাড়ি আইন অমান্য করে মহাসড়কে চলাচল করে তাদেরকে আটক করি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের আবাসিক হোটেলে অভিযানে গ্রেফতার-১১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাজাখালীর ইউনিপার্ক হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. শাহীন (২০), মো. কামাল উদ্দীন (২৫), মো. নয়ন (২৬), শারমিন আক্তার (১৯), রিনা আক্তার (৩৮), বিউটি আক্তার (২০), শারমিন আক্তার (২০), মো. ইউসুফ (৩২), মনি আক্তার (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন (২৫) এবং মনি আক্তার (১৯)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নম্বর মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ