আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বোয়ালখালীতে চাহিদার চেয়ে ৯ হাজার পশু বেশি

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় এবার কোরবানি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে বোয়ালখালী উপজেলার হিসাব করলে চাহিদার তুলনায় ৯ হাজার পশু বেশি রয়েছে। চট্টগ্রামের চাহিদা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টির। তবে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি। কাগজে কলমে ৩৩ হাজার ৪০৬টি পশু ঘাটতি থাকার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। অন্যান্য বছরের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারিদের আনা গরু দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা হবে। চট্টগ্রামে উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি কোরবানি পশুর জোগান আসে সন্দ্বীপ থেকে। এ বছর এই উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর লালনপালন করা হয়েছে ৮২ হাজার ৮০৭টি। এর মধ্যে গরু হচ্ছে ৩৫ হাজার ৭১২টি। এর মধ্যে ষাঁড় ২২ হাজার ৬৪৪টি, বলদ ১০ হাজার ৪২৫টি, গাভি ২ হাজার ৬৪৩টি। এছাড়া মহিষ রয়েছে ১৫ হাজার ১০৮টি, ছাগল ১৪ হাজার ৯৮৭টি ও ভেড়া ১৭ হাজার। অপরদিকে অভ্যন্তরীণভাবে সবচেয়ে কম কোরবানি পশু লালনপালন করা হয় নগরীর কোতোয়ালি থানায়। এখানে সব মিলিয়ে কোরবানি পশু রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২৫৪টি।
উপজেলা ও থানা গুলোর মধ্যে সন্দ্বীপে চারণ ও তৃণভূমির পরিমাণ বেশি। ফলে উন্মুক্ত পরিসরে প্রাকৃতিকভাবে গবাদিপশু লালন পালনের সুযোগ ও বেশি এ উপজেলায়। এ কারণে লোকজন ঘরে ঘরে কমবেশি গরু, ছাগল, মহিষ, এমনকি ভেড়াও লালনপালন করে থাকেন। ফলে কোরবানিতে এ উপজেলায় গবাদি পশুর তেমন একটা ঘাটতি থাকে না বললেই চলে।চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানিদাতা বাড়ছে প্রায় ৬ হাজার। গত বছর৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৩টি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়। এবার কোরবানিতে পশুর চাহিদা আছে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি, মহিষ ৭১ হাজার ৩৬৫টি, ছাগল এক লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩টি, ভেড়া ৫৮ হাজার ৬৯২টি এবং অন্যান্য পশু আছে ৪৪টি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রতিবছরই কোরবানিতে অভ্যন্তরীণভাবে গবাদি পশু লালনপালনের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকরা ঘরে ঘরে কয়েকটা করে গরু-ছাগল লালনপালন করেন। পাশাপাশি অনেক খামার গড়ে উঠেছে। অনেক উদ্যোক্তা এখন এ খাতে বিনিয়োগ করছেন। এমনকি তরুণরাও এগিয়ে আসছেন। ফলে আমদানিনির্ভরতা কেটে যাচ্ছে। এবার চাহিদার তুলনায় ৩৩ হাজার ৪০৬টি পশুর ঘাটতি থাকলেও কোরবানিতে সংকট হবে না। বিভিন্ন জেলা থেকে আনা গবাদি পশু দিয়ে চাহিদা পূরণ করা হবে।
যে উপজেলায় যত উৎপাদন : চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলায় লালনপালন করা হয়েছে ৪৫ হাজার ২৮০ কোরবানি পশু, চন্দনাইশ ৪৪ হাজার ৬০টি, আনোয়ারা ৬৬ হাজার ৩৬৩টি, বোয়ালখালী ৪৭ হাজার ৯৭৯টি, পটিয়ায় ৭১ হাজার ১১২টি, কর্ণফুলীতে ২৯ হাজার ৩৫৫টি, মিরসরাই ৫৭ হাজার ৮৮৩টি, সীতাকুণ্ডে ৫৩ হাজার ৮০৪টি, হাটহাজারীতে ৪৪ হাজার ৯৮১টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৫০ হাজার ১২টি, ফটিকছড়িতে ৭৪ হাজার ৫২৯টি, লোহাগাড়ায় ৪৮ হাজার ৮৯৮টি, রাউজানে ৪১ হাজার ২৯টি, বাঁশখালীতে ৬১ হাজার ৮৮৩টি, সন্দ্বীপে ৮২ হাজার ৮০৭টি, ডবলমুরিং থানায় ৯ হাজার ২৩টি, কোতায়ালি থানায় ৪ হাজার ২৫৪টি এবং পাঁচলাইশ থানায় ১৯ হাজার ১১২টি।

উপজেলা ও থানাভিত্তিক চাহিদার চিত্র
জেলার ১৫ উপজেলা এবং নগরীর মধ্যে পশুর চাহিদা আছে। এর মধ্যে সাতকানিয়ায় চাহিদা ৪৩ হাজার ২৮৮টির মধ্যে আছে ৪৫ হাজার ২৮০টি, চন্দনাইশে ৪৮ হাজার ৭৯৯টির মধ্যে আছে ৪৪ হাজার ৬০টি, আনোয়ারায় ৫২ হাজার ৩৩৮টির মধ্যে আছে ৬৬ হাজার ৩৬৩টি, বোয়ালখালীতে ৩৮ হাজার ৮১৫টির মধ্যে আছে ৪৭ হাজার ৯৭৯টি, পটিয়ায় ৬৬ হাজার ৮৩৬টির মধে আছে ৭১ হাজার ১১২টি, কর্ণফুলীতে ২৮ হাজার ১৫৫টির মধ্যে আছে ২৯ হাজার ৩৫৫টি, মীরসরাইয়ে ৬০ হাজার ৮৪৯টির মধ্যে আছে ৫৭ হাজার ৮৮৩টি, সীতাকুণ্ডে ৫৩ হাজার ১৫০টির মধ্যে আছে ৫৩ হাজার ৮০৪টি, হাটহাজারীতে ৫১ হাজার ২৫৬টির মধ্যে আছে ৪৪ হাজার ৯৮১টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৫২ হাজার ৫৬০টির মধ্যে আছে ৫০ হাজার ১১টি, ফটিকছড়িতে ৫৫ হাজার ৩৩৮টির মধ্যে আছে ৭৪ হাজার ৫২৯টি, লোহাগাড়ায় ৫০ হাজার ৫৩৮টির মধ্যে আছে ৪৮ হাজার ৮৯৮টি, রাউজানে ৪২ হাজার ৩৬৪টির মধ্যে আছে ৪১ হাজার ২৯টি, বাঁশখালীতে ৪৫ হাজার ৮৮৬টির মধ্যে আছে ৬১ হাজার ৮৮৩টি, সন্দ্বীপে ৭৯ হাজার ৬৩৮টির মধে আছে ৮২ হাজার ৮০৭টি, নগরীর ডবলমুরিংয়ে ৬০ হাজার ৩৮৯টির মধে আছে ৯ হাজার ২৩টি, কোতোয়ালিতে ১৩ হাজার ৬৯৮টির মধ্যে আছে চার হাজার ২৫৪টি এবং পাঁচলাইশে ৪১ হাজার ৮৫৯টির মধ্যে আছে ১৯ হাজার ১১২টি। জেলায় পশুর খামার আছে ১৪ হাজার ২৫৮টি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এডিসের প্রজনন দুর্গ খুঁজতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এছাড়া গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মূলে ছিল এডিস মশার অস্বাভাবিক প্রজনন।

বিগত বছরের সেই বিষাদ অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবার ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার বংশবিস্তার চিহ্নিত করতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে জরিপকারী দলের সদস্যরা কোতোয়ালীর পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, নন্দনকাননসহ আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ ও আশপাশের এলাকাতেও মশার লার্ভা শনাক্তে ল্যাব-নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে কাজির দেউড়ি, ব্যাটারি গলি ও বাগমনিরাম এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনেও পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশেষ টিম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কীটতাত্ত্বিকদের বিশেষ টিম এই জরিপ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে নগরের কোন কোন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব (ব্রেটো ইনডেক্স) বেশি, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ শুরু করেছ।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর (২০২৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পাওয়া গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান (১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর চলতি জুনের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। আক্রান্তের এই চিত্র গত বছরের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিন্ত হতে নিষেধ করছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যেখানে আক্রান্ত ছিল ২৮৩ জন, জুলাইয়ে তা এক লাফে পৌঁছায় ২ হাজার ৩১১ জনে। একইভাবে ২০২৫ সালের জুনে ১৭৬ জনের বিপরীতে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় ৪৩০ জন। যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে।

চিকিৎসকদের মতে, জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর আসল ‘পিক সিজন’ বা বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। আর সেই হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য নগরের এডিসের প্রজনন দুর্গগুলো খুঁজতে জুনের আগাম এই জরিপ।

এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করে ‘এডিসের হটস্পট’ বা রেড জোনগুলো চিহ্নিত করে দিলেও, মশক নিধনের মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এই ‘বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন’ বা ম্যাপ ব্যবহার করে চসিক এবার কতটা সফলভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলতি বছরের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ইতিমধ্যে মশক নিধনের জন্য বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপের ফলাফল হাতে আসলে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যক্রম চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যে অস্বাভাবিক প্রজননের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, এবার মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে জরিপ ও লার্ভা চিহ্নিতকরণের এই উদ্যোগ এবং চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শতভাগ কার্যকর হলে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ