আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

১৮ কোটি ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় পৃথক ভোক্তা অধিকার মন্ত্রণালয়ের দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বানিজ্যিক নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভোক্তাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও বাংলাদেশে ভোক্তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে। দেশের ১৮ কোটি ভোক্তার অধিকার নিয়ে সারাক্ষন সক্রিয় ক্যাব দেশব্যাপী দীর্ঘদিন ধরেই সভা, সেমিনার, মানববন্ধনসহ নানা ভাবে দাবি করে আসলেও বর্তমান সরকারের আমলেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯, ভোক্তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান সিন্ডিকেট ও অস্থিরতা ঠেকাতে ভোক্তাদের জন্য সমন্বিত ভাবে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ট্যারিফ কমিশন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সকলকে নিয়ে ওয়ান স্টপ সেবা প্রদানের জন্য পৃথক ভোক্তা অধিকার মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভূমিকা ও মূল কাজ হলো ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষা দেয়া। ব্যবসায়ীরা দেশে ব্যবসা শিল্প বানিজ্য, আমদানি-রপ্তানির যারা চালিকা শক্তি, তাদের প্রতি অধিকতর সহানুভূতিশীল থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। দেশে ন্যায্য ব্যবসার চর্চা থাকলে হয়তো ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বানিজ্যের অন্যতম অংশীজন ক্রেতা-ভোক্তাদের বিষয়টি বিবেচনায় থাকতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করে সব পরিস্থিতিতে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পৃথক মন্ত্রণালয় হলে ১৮ কোটি ভোক্তার সমস্যাগুলি আরও দ্রুত সমাধানে সরকারের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্ঠিগোছর করাা সম্ভব হবে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্যও কিছুটা হ্রাস পাবে। ১১ জুন ২০২৪ইং চট্টগ্রামের এতিহ্যবাহী সিআরবি শিরিশ তলায় পৃথক ভোক্তা অধিকার মন্ত্রনালয়ের দাবিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদী মানববনন্ধনে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়।

ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগররের সদস্য রাসেল উদ্দীনের সঞ্চালনায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগ এবং ক্যাব যুব গ্রুপের আয়োজনে আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সুপ্রীম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিশিষ্ঠ মানবাধিকার নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক ডঃ ইদ্রিস আলী, ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম ক্যাব মহানগরেরর যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব পাহাড়তলী থানা সভাপতি হারুন গফুর ভুইয়া, মানবাধিকার নেতা ওসমান জাহাঙ্গীর, উন্নয়ন কর্মী সৈয়দ আবুল হাসান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহনগরের সদস্য মোহাম্মদ করিমুল ইসলাম, তানিয়া সুলতানা, নাফিসা নবী, রিদওয়ানুল হক, আবরারুল করিম নেহাল, নিলয় বর্মন ও অভিজিত দে সঞ্জীব প্র্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা লগ্নে ১৯৪৭ সালেই ভোক্তা বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ভারত শুরুতেই অন্তত কাঠামোগত দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। তার কারনে ভারতে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সব সময় সম্ভব হচ্ছে।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোক্তা সমাজ দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক গোষ্ঠি হলেও তাদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় কোন পৃথক মন্ত্রণালয় নাই। অধিকন্তু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ক্ষুদ্র অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও এটিও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। আবার ভোক্তাদের অধিকার ও সুবিধা প্রদানের সবকিছুর ভার দেয়া হয়েেেছ ব্যবসায়ীদের ওপর। সেকারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত বানিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তা স্বার্থের বিষয়টি দেখভাল করার কারনে ভোক্তা স্বার্থ বারবার উপেক্ষিত ও ভুলন্টিত হচ্ছে। বিষয়গুলি অনেকটাই “বিড়ালকে মাছ পাহারা দেবার মতো”। ফলে ব্যবসায়ীরা মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার মসলা, একবার তেল এভাবে পুরো বছর জুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনগনের পকেট কাটছে। দেশের ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বার্ষিক চাহিদা নিরুপণ, উৎপাদন, যোগান, বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে অনুসন্ধান, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে চিন্তা করার সময় বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের থাকে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদ আমলের বৈষম্য দূর করতে হবে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন( সিএমইউজে)এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিববৃতিতে বলেন- আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রমিক শ্রেণির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সিএমইউজে লক্ষ্য করছে—গণমাধ্যম অঙ্গনে এখনো ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুরু হওয়া বৈষম্য আজও বহাল রয়েছে। তখন চাকুরীচ্যূত অনেক সাংবাদিক এখনো চাকুরী ফেরত পায়নি। সংবাদপত্র মালিকদের একটি অংশ এখনো বেছে বেছে ফ্যাসিবাদের সমর্থক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের অনুগত সাংবাদিকদের চাকরি প্রদান করছে, পেশাগত ন্যায্যতা ও নৈতিকতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক বাধাগ্রস্ত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও হয়রানির বহু ঘটনা এখনো বিচারহীনতায় রয়ে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।

সিএমইউজে দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে—সেই সময়ের সকল নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকরা একদিকে পেশাগত অনিশ্চয়তাসহ নানা চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা বকেয়া, চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে।

সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, আইনি সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা এই চারটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম অব্যাহত আছে। এই প্রেক্ষাপটে সিএমইউজে অবিলম্বে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছে—
* নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।
* সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিনা কারণে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
* গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।
* বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সকল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
* সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
* ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
* সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও কল্যাণ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
* ফ্রিল্যান্স ও অনলাইন সাংবাদিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সমান অধিকার প্রদান করতে হবে।
* ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং সংগঠন পরিচালনায় কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।
* গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

সিএমইউজে স্পষ্টভাবে বলতে চায়—সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিচার নিশ্চিত না হলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহান মে দিবসের এই দিনে সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ নিজেদের অধিকার রক্ষায়, পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালনে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ