দিনাজপুর:

ফুলবাড়ীতে গোখাদ্যের চড়া দামের প্রভাব পড়ছে কোরবানির হাটে

অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় খামারিরা। তবে গোখাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় এবার লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। প্রান্তিক এসব খামারির দাবি, গোখাদ্যের এমন উচ্চমূল্যের প্রভাব পড়ছে এবারের কোরবানির হাটে।

স্থানীয় খামারি, গরু ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা বলছেন, এক বছর ধরে গোখাদ্যের দাম বাড়তে বাড়তে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর কোরবানির হাটকে সামনে রেখে এ দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে। ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, চিটাগুড়, ধানের কুড়া, খুদসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। এর কারণে এবার গরুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার স্বজনপুকুরের আমিন এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘কোরবানির হাটকে সামনে রেখে খামারে বিভিন্ন জাতের শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। একেকটির আকার ভেদে ৬০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রির ইচ্ছা রয়েছে। অন্য বছরগুলোয় এ সময়ে খামার এসে দরদাম করলেও এবার ব্যাপারীরা খুব কম আসছেন। শুনেছেন, এবার গরম্ন পালন (উৎপাদন) হয়েছে বেশি। তারপরও বেশি দামে গোখাদ্য খাইয়ে শেষ পর্যন্ত ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, চিন্তায় রয়েছেন।’

চিন্তিত গরম্নর মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। কোরবানির হাটকে সামনে রেখে প্রায় ২০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করে আসছেন ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার ফুলবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় তুলনামূলকভাবে গরুর সংখ্যা বেশি। তবে গোখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে গরু পালনের খরচ অনেকাংশে বেড়েছে। তাই কোরবানির লাভ করা নিয়ে ভয়ে আছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছর ১০টি গরু কিনে ঢাকার বিভিন্ন কোরবানির হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু এবার বাজার অনিশ্চিত এবং গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭টি গরু কিনে ঢাকায় পাঠানোর কথা ভাবছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় এবার কোরবানির উপযোগী পশুর সংখ্যা ২০ হাজার ১০৫টি। কিন্তু উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ২১২টি।

ফলে উপজেলায় চাহিদার চেয়ে ২ হাজার ৮৯৩ টি পশু বেশি রয়েছে। এতে ষাঁড় রয়েছে ৮ হাজার ৫১১ টি, বলদ ১ হাজার ৯৮ টি, গাভি ১ হাজার ৮৩৫টি, মহিষ ১২টি, ছাগল ৮ হাজার ১২৩ টি ও ভেড়া ৫২৬ টি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার উপজেলাটিতে কোরবানি উপযোগী মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ২০ হাজার ১০৫টি। উপজেলায় এবারের কোরবানির জন্য সব মিলিয়ে ১৭হাজার ২১২টি গবাদিপশুর চাহিদা থাকলেও পালন করা হয় ২০ হাজার ১০৫টি। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৯৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। উদ্বৃত্ত পশুগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাবে।

গত বছরগুলোর তুলনায় ফুলবাড়ীতে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানান, উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় এবারের কোরবানির জন্য সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ২১২টি গবাদিপশুর চাহিদা থাকলেও পালন করা হয় ২০ হাজার ১০৫টি। অর্থাৎ ২হাজার ৮৯৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। উদ্বৃত্ত পশুগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাবে। চড়া গোখাদ্যের কারণে এবার খামারিদের গবাদিপশু পালনে ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই উপযুক্ত দাম না পেলে খামারিদের লোকসান হবে।’

এদিকে ফুলবাড়ী ও এর আশপাশের পশুর হাটগুলোয় কোরবানির আগেই তুলনামূলক চড়া দামে গরু বিক্রি হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও গরম্নর ব্যাপারীরা। তাদের মধ্যে অনেক ব্যাপারী উপজেলার বাড়ী বাড়ী ঘুরে গরু কিনতে শুরু করেছেন। তারা পশুর হাটগুলো থেকেও গরম্ন কিনছেন। মৌসুমি ব্যাপারীরা এসব গরম্ন কিনছেন মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের কোরবানির হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায়।

সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট বলে পরিচিত ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গরুর সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম এবং দামও কিছুটা চড়া। হাটে থাকা গরুর ব্যাপারী ও হাট কমিটির সদস্যরা জানান, গোখাদ্যের অস্বাভাবিক দামের কারণে এবার খামারিদের গরু পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। এ কারণে হাটে গরম্ন এনে পালনকারীরা বেশি দাম চাইছেন। আবার বেশির ভাগ খামারি ও গরু পালনকারী কোরবানির সময় দাম আরও বাড়তে পারে এ ধারণা করে হাটে এখনই কোনো গরম্ন আনছেন না। তাই হাটে গরুর আমদানি কম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লতিকচু চাষে আলোর মুখ দেখছেন ভেড়ামারার শিরিনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের গৃহিণী মোছাঃ শিরিনা খাতুন (৫২)। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২০ শতক জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিরিনার পতিত জমিতে সবুজ কচুগাছে ভরপুর লতি। তিনি নিজেই জমি থেকে লতি সংগ্রহ করছেন। শিরিনা খাতুন জানান, ভেড়ামারা কৃষি অফিসের পরামর্শে এবছরের মে মাসে তিনি কচুর চারা সংগ্রহ করে ২০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই তিনি লতি বিক্রি শুরু করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি। পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা যায়।” লাভজনক হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

ভেড়ামারা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমিতে কৃষকের আগ্রহ ছিল সীমিত। তবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সেই জমিগুলোতে এখন সার্থকভাবে চাষ হচ্ছে লতিকচু। শিরিনা খাতুন তার জলন্ত উদাহরণ। স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচুর সফল আবাদ শিরিনা খাতুনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় লতিকচু চাষে উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নত জাতের বারি-পানি কচু-১, বারি-পানি কচু-২ এবং স্থানীয় জাতের কচুর চারা, সার ও জৈবসার সরবরাহ করা হয় শিরিনা খাতুনকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে শিরিনা খাতুনের পতিত জমিতে এই লতি কচু চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। লতিকচু চাষ এখন শুধু নিজস্ব ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির একটি স্থায়ী মডেলে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে শিরিনা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলছে।

কুষ্টিয়ায় বস্তায় আদা চাষে সোহাগের নীরব বিপ্লব: বীজ ছড়িয়েছে ১০ উপজেলায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত মৌসুমে ৭ হাজার বস্তায় আদা চাষ করে তাক লাগানো কুষ্টিয়া মিরপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ এবার গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার বস্তার বিশাল আদা খামার। পিতা মোঃ আফতাব উদ্দিনের সন্তান সোহাগের এই নীরব কৃষি বিপ্লব শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ আদা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরে অন্তত ১০টি উপজেলায়। পাশাপাশি নিজ গ্রাম নওদা খাঁড়ারার বহু আগ্রহী কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে শুরু করেছেন।

সরেজমিনে নওদাখাঁড়ারা ব্লকে সোহাগের খামারে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য। সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ১৫ হাজার বস্তায় লকলকিয়ে বাড়ছে আদা গাছ। খামারের প্রতিটি গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় আড়াই ফুটে পৌঁছেছে। কোনো ধরনের রোগবালাইয়ের লক্ষণ নেই, গাছে গাছে ফুটে উঠেছে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর আবহ।

গত মৌসুমে ‘যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’–এর আওতায় বস্তায় আদা চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেরা যুব উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান সোহাগ। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি নেমেছেন আরও বড় পরিসরে। আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখতে তিনি সম্প্রতি সফর করেছেন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। সেই আন্তর্জাতিক বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো বৈচিত্র্যময় জাতের আদা খামারে প্রয়োগ করায় এবারের গাছগুলোর বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়েও অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন।

উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ জানান, “গত বছরের ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে এবার মাটির মিশ্রণ ও পরিচর্যায় বিশেষ পরিবর্তন এনেছি। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দেখে এসেছি, তা এই খামারে শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। গাছের বর্তমান স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি দেখে আমি শতভাগ আশাবাদী—গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বস্তায় ফলন ও গুণগত মান দুটোই বহুগুণ বাড়বে।”

সোহাগের খামার দেখে ও তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে উপকৃত স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনাবাদী বা ছায়াযুক্ত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের যে পথ সোহাগ দেখিয়েছেন, তা পুরো অঞ্চলের বেকার যুবক ও কৃষকদের মাঝে নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সোহাগের এই ১৫ হাজার বস্তার প্রকল্প দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি পূরণে একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় মডেল হতে চলেছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ