আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

দিনাজপুর:

ফুলবাড়ীতে গোখাদ্যের চড়া দামের প্রভাব পড়ছে কোরবানির হাটে

অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় খামারিরা। তবে গোখাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় এবার লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। প্রান্তিক এসব খামারির দাবি, গোখাদ্যের এমন উচ্চমূল্যের প্রভাব পড়ছে এবারের কোরবানির হাটে।

স্থানীয় খামারি, গরু ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা বলছেন, এক বছর ধরে গোখাদ্যের দাম বাড়তে বাড়তে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর কোরবানির হাটকে সামনে রেখে এ দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে। ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, চিটাগুড়, ধানের কুড়া, খুদসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। এর কারণে এবার গরুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার স্বজনপুকুরের আমিন এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘কোরবানির হাটকে সামনে রেখে খামারে বিভিন্ন জাতের শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। একেকটির আকার ভেদে ৬০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রির ইচ্ছা রয়েছে। অন্য বছরগুলোয় এ সময়ে খামার এসে দরদাম করলেও এবার ব্যাপারীরা খুব কম আসছেন। শুনেছেন, এবার গরম্ন পালন (উৎপাদন) হয়েছে বেশি। তারপরও বেশি দামে গোখাদ্য খাইয়ে শেষ পর্যন্ত ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, চিন্তায় রয়েছেন।’

চিন্তিত গরম্নর মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। কোরবানির হাটকে সামনে রেখে প্রায় ২০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করে আসছেন ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার ফুলবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় তুলনামূলকভাবে গরুর সংখ্যা বেশি। তবে গোখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে গরু পালনের খরচ অনেকাংশে বেড়েছে। তাই কোরবানির লাভ করা নিয়ে ভয়ে আছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছর ১০টি গরু কিনে ঢাকার বিভিন্ন কোরবানির হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু এবার বাজার অনিশ্চিত এবং গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭টি গরু কিনে ঢাকায় পাঠানোর কথা ভাবছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় এবার কোরবানির উপযোগী পশুর সংখ্যা ২০ হাজার ১০৫টি। কিন্তু উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ২১২টি।

ফলে উপজেলায় চাহিদার চেয়ে ২ হাজার ৮৯৩ টি পশু বেশি রয়েছে। এতে ষাঁড় রয়েছে ৮ হাজার ৫১১ টি, বলদ ১ হাজার ৯৮ টি, গাভি ১ হাজার ৮৩৫টি, মহিষ ১২টি, ছাগল ৮ হাজার ১২৩ টি ও ভেড়া ৫২৬ টি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার উপজেলাটিতে কোরবানি উপযোগী মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ২০ হাজার ১০৫টি। উপজেলায় এবারের কোরবানির জন্য সব মিলিয়ে ১৭হাজার ২১২টি গবাদিপশুর চাহিদা থাকলেও পালন করা হয় ২০ হাজার ১০৫টি। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৯৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। উদ্বৃত্ত পশুগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাবে।

গত বছরগুলোর তুলনায় ফুলবাড়ীতে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানান, উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় এবারের কোরবানির জন্য সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ২১২টি গবাদিপশুর চাহিদা থাকলেও পালন করা হয় ২০ হাজার ১০৫টি। অর্থাৎ ২হাজার ৮৯৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। উদ্বৃত্ত পশুগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাবে। চড়া গোখাদ্যের কারণে এবার খামারিদের গবাদিপশু পালনে ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই উপযুক্ত দাম না পেলে খামারিদের লোকসান হবে।’

এদিকে ফুলবাড়ী ও এর আশপাশের পশুর হাটগুলোয় কোরবানির আগেই তুলনামূলক চড়া দামে গরু বিক্রি হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও গরম্নর ব্যাপারীরা। তাদের মধ্যে অনেক ব্যাপারী উপজেলার বাড়ী বাড়ী ঘুরে গরু কিনতে শুরু করেছেন। তারা পশুর হাটগুলো থেকেও গরম্ন কিনছেন। মৌসুমি ব্যাপারীরা এসব গরম্ন কিনছেন মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের কোরবানির হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায়।

সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট বলে পরিচিত ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গরুর সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম এবং দামও কিছুটা চড়া। হাটে থাকা গরুর ব্যাপারী ও হাট কমিটির সদস্যরা জানান, গোখাদ্যের অস্বাভাবিক দামের কারণে এবার খামারিদের গরু পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। এ কারণে হাটে গরম্ন এনে পালনকারীরা বেশি দাম চাইছেন। আবার বেশির ভাগ খামারি ও গরু পালনকারী কোরবানির সময় দাম আরও বাড়তে পারে এ ধারণা করে হাটে এখনই কোনো গরম্ন আনছেন না। তাই হাটে গরুর আমদানি কম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোয়ালখালীতে তীব্র শীতে ব্যস্ত কৃষক বোরো ধান রোপনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হলে বোয়ালখালী উপজেলায় বোরো ধান চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাচ্ছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির মাধ্যমে জমি সেচ ও প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। ‘চারা প্রস্তুত হলে ও প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হতে পারে, তাই কিছুদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। তিনি জানান, এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান বেশি হবে।

ধান রোপণের শ্রমিকরা জানান, ভোরে কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮০০ টাকা। ‘শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলেন তারা।

বোয়ালখালী কৃষি অফিস সুত্রে জানায় চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

‘উপজেলায় ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে,।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ