আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

যোগান পর্যাপ্ত থাকার পরও চট্টগ্রামে চড়া সবজির বাজার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো চট্টগ্রামে সপ্তাহের ব্যবধানে চড়া হয়ে উঠেছে সবজির বাজার। পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও ডিমের দাম। সেইসঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর অন্যতম কাঁচাবাজর রেয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।সব ধরনের সবজির যোগান পর্যাপ্ত থাকার পরও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে সবচেয়ে চড়া দরে বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ ও ধনে পাতা। এগুলোর দামে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মানভেদে গাজর বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়ছিল ৭০ টাকার চেয়েও কম। তাছাড়া শিম, বরবটি, ঝিঙ্গে, কাকরোল, করলাসহ প্রায়সব সবজির দাম গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও গতকাল তা বাজারে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোন সবজিই মিলছে না। এদিকে গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি বেড়েছ টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ নানা শীতকালীন সবজির দামও। এসব সবজিও ৭০ টাকার নিচে মিলছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম আবারও বেড়েছে কেজিতে ২৫ থেকে ৪০ টাকা।
সবজির দামের বিষয়ে সবজি ব্যবসায়ী মো. কামরুল বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে দুয়েকদিন সবজি আসছে না। যেসব সবজি আসছে তা কিনতে হয়েছে বাড়তি দামে। যে কারণে হঠাৎ সবজির দাম বেড়েছে। সবজি সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।
বাজাওে ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ২১০ টাকা। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। পাশাপাশি কক বা সোনালি মুরগি দামও কিছুটা কমেছে। বাজারে এ মুরগি কেজিপ্রতি ৪০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৪০ টাকার ওপরে।তবে দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ বেড়েছে কিন্তু ক্রেতার আগ্রহ কম, এ কারণে ধীরে ধীরে ব্রয়লার মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে, ২৩০ টাকার ব্রয়লার ১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। সামনে ব্রয়লার মুরগির দাম আরও কমবে বলে ধারণা করছেন এ ব্যবসায়ী। এদিকে মুরগির দাম কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা আর হাঁসের ডিম ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
পরিবর্তন আসেনি গরু ও খাসির মাংসের বাজারে। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা আর খাসি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজার। বাজারে পেঁয়াজ ৮০ টাকা, আদা ২৪০ টাকা ও রসুন ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন চড়া থাকা মাছের বাজারে দামের কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই-কাতলা মানের কার্প জাতীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। শিং, কই, দেশি মাগুর, টার্কি, পাবদা, টেংরা, সরপুঁটি মাছ সাইজভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। শোল মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর চাষের তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ইলিশ মাছ কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। চিংড়ি মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।মাছ বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে চড়া দরের মধ্যে স্থিতিতে রয়েছে মাছের বাজার।
অপরদিকে গত তিন সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে প্রায়সব মুদিপণ্যের বাজার। প্যাকেট পোলাওর চাল কেজি ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওর চাল মানভেদে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৮০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৪৭ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, খোলা ঘি ১ হাজার ২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ