যোগান পর্যাপ্ত থাকার পরও চট্টগ্রামে চড়া সবজির বাজার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো চট্টগ্রামে সপ্তাহের ব্যবধানে চড়া হয়ে উঠেছে সবজির বাজার। পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও ডিমের দাম। সেইসঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর অন্যতম কাঁচাবাজর রেয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।সব ধরনের সবজির যোগান পর্যাপ্ত থাকার পরও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে সবচেয়ে চড়া দরে বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ ও ধনে পাতা। এগুলোর দামে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মানভেদে গাজর বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়ছিল ৭০ টাকার চেয়েও কম। তাছাড়া শিম, বরবটি, ঝিঙ্গে, কাকরোল, করলাসহ প্রায়সব সবজির দাম গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও গতকাল তা বাজারে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোন সবজিই মিলছে না। এদিকে গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি বেড়েছ টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ নানা শীতকালীন সবজির দামও। এসব সবজিও ৭০ টাকার নিচে মিলছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম আবারও বেড়েছে কেজিতে ২৫ থেকে ৪০ টাকা।
সবজির দামের বিষয়ে সবজি ব্যবসায়ী মো. কামরুল বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে দুয়েকদিন সবজি আসছে না। যেসব সবজি আসছে তা কিনতে হয়েছে বাড়তি দামে। যে কারণে হঠাৎ সবজির দাম বেড়েছে। সবজি সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।
বাজাওে ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ২১০ টাকা। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। পাশাপাশি কক বা সোনালি মুরগি দামও কিছুটা কমেছে। বাজারে এ মুরগি কেজিপ্রতি ৪০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৪০ টাকার ওপরে।তবে দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ বেড়েছে কিন্তু ক্রেতার আগ্রহ কম, এ কারণে ধীরে ধীরে ব্রয়লার মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে, ২৩০ টাকার ব্রয়লার ১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। সামনে ব্রয়লার মুরগির দাম আরও কমবে বলে ধারণা করছেন এ ব্যবসায়ী। এদিকে মুরগির দাম কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা আর হাঁসের ডিম ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
পরিবর্তন আসেনি গরু ও খাসির মাংসের বাজারে। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা আর খাসি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজার। বাজারে পেঁয়াজ ৮০ টাকা, আদা ২৪০ টাকা ও রসুন ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন চড়া থাকা মাছের বাজারে দামের কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই-কাতলা মানের কার্প জাতীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। শিং, কই, দেশি মাগুর, টার্কি, পাবদা, টেংরা, সরপুঁটি মাছ সাইজভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। শোল মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর চাষের তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ইলিশ মাছ কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। চিংড়ি মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।মাছ বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে চড়া দরের মধ্যে স্থিতিতে রয়েছে মাছের বাজার।
অপরদিকে গত তিন সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে প্রায়সব মুদিপণ্যের বাজার। প্যাকেট পোলাওর চাল কেজি ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওর চাল মানভেদে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৮০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৪৭ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, খোলা ঘি ১ হাজার ২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীর প্রথম শহিদ এখলাছুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর শ্রদ্ধা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৫৬ সালের ২০ শে মে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদনডী গ্রামে অকুতোভয় বীরোচিত আত্মত্যাগী এখলাছ। মরহুম সৈয়দ জামাল উদ্দীনের ঔরষে মরহুমা সৈয়দা মছুদা খাতুনের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন এই ক্ষন জন্মা ব্যাক্তিত্ব।মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসে বীর বিক্রমে

কধুরখীলের খোকার দোকান এলাকায় পাকবাহিনীর ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিলেন এ শহিদ এখলাছ। ওইদিন পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সেই সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সালের ৪ আগস্ট পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন। (তথ্য সূত্র দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ,ইওেফাক ১৯৭১)।

স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান ক্যাপ্টেন করিমের গড়া বাহিনী ও ৬৯এর ছাত্র মিছিলে অগ্রনীভূমিকা পালন করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে।বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান সাহেব এখলাছের সহযোদ্ধা।

উল্লেখ্য তৎকালীন স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী গ্রুপের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন শিক্ষাবিদ রফিক আহমদ শহীদ এখলাছের ভগ্নিপতি। সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতা ও এদেশীয় সহযোগীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গ্রেনেড ছুড়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এ সম্মুখ যোদ্ধা।

দেশ স্বাধীনের পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনকে নামকরণ করা হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ মিলনায়তন। ইকবাল পার্কের নাম পরিবর্তন এনে করা হয়েছিল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ পার্ক। এছাড়া একটি সড়কের নামকরণ করা হয় এই মহান বীর শহীদের নামে।তবে কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতি এখন বিস্মৃতির আড়ালে।

ইতিহাসের বৃহৎ অংশে বোয়ালখালী উপজেলা সদরের স্মৃতি সৌধে এ মহান বীর শহীদের নাম রয়েছে কাজেই দেশমাতৃকার অতুলনীয় আত্মত্যাগের জন্য লাল সবুজের পতাকা জুড়ে ও স্মৃতির দর্পনে চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ