আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম নামের উৎস ও ঐতিহ্য

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও বিশালতায় সমৃদ্ধ। ভূ-প্রাকৃতিক রূপে যেমন এর বিচিত্রতা তেমনি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের ঐশ্বর্যমণ্ডিত বৈশিষ্ট্য। এ বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর সহ প্রায় সকল জেলায় রয়েছে নিজ নিজ ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য। নীচে জেলা ভিত্তিক এ বিভাগের ঐতিহ্যসমূহ উল্লেখ করা হল

 

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। জানা ইতিহাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে আরাকানী মঘীদের প্রভাব লক্ষনীয়। ফলে গ্রামীণ সংস্কৃতিতেও এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সে সময় এখানকার রাজারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী হওয়ায় তার প্রভাব ও যথেষ্ট। সুলতানি, আফগান এবং মোগল আমলে ও আরাকানীদের সঙ্গে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত মঘীদের প্রভাব বিলুপ্ত হয়নি। এছাড়া চট্টগ্রামের মানুষ আতিথেয়তার জন্য দেশ বিখ্যাত। চট্টগ্রামের বর্তমান সংস্কৃতির উন্মেষ হয় ১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে সামাজিক ধানোৎপাদন ও বন্টনে পদ্ধতিগত আমূল পরিবর্তন হয়। অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামে ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। নতুন এরই ফাঁকে ইংরেজরা প্রচলনা করে ইংরেজি শিক্ষা। মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের ইতিহাস সমৃদ্ধ। শেফালী ঘোষ এবং শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবকে বলা হয় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞি। মাইজভান্ডারী গান ও কবিয়াল গান চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহ্য। কবিয়াল রমেশ শীল একজন বিখ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী। জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলস, এল আর বি, রেঁনেসা, নগরবাউল এর জন্ম চট্টগ্রাম থেকেই। আইয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, রবি চৌধুরী, নাকিব খান, পার্থ বডুয়া, সন্দিপন, নাসিম আলি খান, মিলা ইসলাম চট্টগ্রামের সন্তান। নৃত্যে চট্টগ্রামের ইতিহাস মনে রখার মত। রুনু বিশ্বাস জাতীয় পর্যায়ে বিখ্যাত নৃত্যগুরু। চট্টগ্রামের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন হল দৃষ্টি চট্টগ্রাম বোধন আবৃত্তি পরিষদ, প্রমা, আলাউদ্দিন ললিতকলা একাডেমি, প্রাপন একাডেমি, উদিচি, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, ফু্লকি, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, রক্তকরবী, আর্য সঙ্গীত, সঙ্গীত পরিষদ। মডেল তারকা নোবেল, মৌটুসি, শ্রাবস্তীর চট্টগ্রামে জন্ম । সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, মুসলিম হল, থিয়েটার ইন্সটিটিউট। বৈচিত্রময়ী চট্টগ্রামের নামও বৈচিত্রে ভরা। খ্রিষ্টীয় দশক শতকের আগে চট্টগ্রাম নামের অস্তিত্ব ছিল না। অর্থাৎ চট্টগ্রাম নামের কোন উৎসের সন্ধান পাওয়া যায় না। তাই দেখা যায় যে, সুপ্রাচীনকাল থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পরিব্রাজক, ভৌগোলিক এবং পন্ডিতগণের লিখিত বিবরণে, অঙ্কিত মানচিত্রে, এখানকার শাসক গৌড়ের সুলতান ও রাজাদের মুদ্রায় চট্টগ্রামকে বহু নামে খ্যাত করেছিলেন। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৪৮টি নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‌‌-সুহ্মদেশ, ক্লীং, রম্যভূমি,চাতগাঁও, চট্টল, চৈত্যগ্রাম, সপ্তগ্রাম, চট্টলা, চক্রশালা, শ্রীচট্টল,চাটিগাঁ, পুস্পপুর, চিতাগঞ্জ, চাটিগ্রাম ইত্যাদি। কিন্তু কোন নামের সঙ্গে পাঁচজন একমত হন না। সে সব নাম থেকে চট্টগ্রামের নাম উৎপত্তির সম্ভাব্য ও চট্টগ্রামের নামের সঙ্গে ধ্বনিমিলযুক্ত তেরটি নামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো। চৈত্যগ্রাম:- চট্টগ্রামের বাঙালি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিমত এই যে, প্রাচীনকালে এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ চৈত্য অবস্থিত ছিল বলে এ স্থানের নাম হয় চৈত্যগ্রাম। চৈত্য অর্থ বৌদ্ধমন্দির কেয়াং বা বিহার। এই চৈত্যের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয় বলে চৈত্যগ্রাম নামের উদ্ভব হয়। পরবর্তীকালে চৈত্যগ্রাম নাম বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়। চতুঃগ্রাম:ব্রিটিশ আমলের গেজেটিয়ার লেখক ও’মলি সাহেবের মতে,সংস্কৃত চতুঃগ্রাম শব্দ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। চতুঃ অর্থ চার। চতুঃ শব্দের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয়ে চতুঃগ্রাম হয়। চতুঃ-গ্রাম বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়। চট্টল:চট্টগ্রামের তান্ত্রিক ও পৌরাণিক নাম ছিল চট্টল। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণগ্রন্থে চট্টল নামের উল্লেখ দেখা যায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্মরণে বরণে  ভোলার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রিপন শান #

পলিমাটির জনপদ দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ মার্চ ২০২৬ । বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ১৯৪৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই, মাতা শামর্থ ভানু।

ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পারিবারিক সুত্র থেকে জানা যায় : তারুণ্যে পদার্পণ করেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। অকুতোভয় এ সাহসী সৈনিক তাঁর কর্মজীবনে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরমধ্যে, ২৯ বার হেলিকপ্টার হতে প্যারাসুট জাম্প ও দীর্ঘ দৌড়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, করাচি এবং দেশের বিভিন্নস্থানে দক্ষতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করেন এবং, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্সের অধীন যশোর অঞ্চলে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ বিজয়ের শেষদিকে সাথী যোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শত্রু পক্ষের অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা যান। অতঃপর বহু প্রতিকুল পথ পেরিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনিই প্রথম ভোলা জেলার মুক্তিযোদ্ধা ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি কর্ণেল এমএজি ওসমানীর সান্নিধ্য পান।

বীরযোদ্ধা আব্দুর রউফের নিজ এলাকা কাচিয়া ইউনিয়নে তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। এ প্রসংগে বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান : “১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সকাল ৮ টার সময় যশোর ক্যান্টম্যান্টের ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের ওপর তিনদিক থেকে পাকহানাদার বাহিনী (নাইন ভেলুস) হামলা চালায়। সেই যুদ্ধে নায়েক গাজী আব্দুর রউফ নিজের জীবনকে বিপন্ন জেনেও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় পাকবাহিনীর অনেকে হতাহত হন। সেদিন, রউফ সাহেব এগিয়ে এসে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। ”

একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মু্ক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটের লাল মুক্তিবার্তায় ক্রমিক নং ০৬০৪০৬০০০৩৮/২০০১, বেসামরিক গেজেট ৩৩৫/১৭এপ্রিল২০০৫, সামরিক গেজেট সেনা ৩২১২ নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ ২০১৭ সালের ১২ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ভোলার নিজ বাড়ি০৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া ০৫ নং ওয়ার্ডে সেনাবাহিনীর গার্ড অব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মসজিদ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর জানাজায় যশোর ক্যান্টমেন্টের সেনাবাহিনীর একটি টিম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং স্থানীয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আছিয়া বেগম, ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। তাঁর বড় পুত্র সাংবাদিক ও লেখক ডা. গাজী মো. তাহেরুল আলম লিটন, ছোট সন্তান গাজী মো. হাসান ও কন্যা রূপজান বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, গাজী মো. হোসেন অব. সেনা সৈনিক, গাজী মোক্তাদির ও গাজী মো. রানা সম্মানজনক পেশায় কর্মরত ।

দেশ ও জাতির কৃতি সন্তান এ বীরসেনানীর মৃত্যুতে নিজ এলাকার সামাজিক ও আদর্শিক উন্নয়নকর্মে তাঁর শুন্যতা আজীবন থাকবে। যতোদিন রবে মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশা বঙ্গোপসার বহমান থাকবে; যতোদিন স্বাধীনতার লালসবুজ পতাকা পতপত করেউড়বে বাংলার আকাশে, ততোদিন দ্বীপজেলা ভোলার বীরসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী আব্দুর রউফের নাম ও জীবনস্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।

বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ : এক সাহসী দেশপ্রেমিকের জীবনকথা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেইসব গৌরবোজ্জ্বল নামের ধারাবাহিকতায় বীর চট্টলার এক কৃতী সন্তান হলেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, বরং একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জীবন সংগ্রাম, চিন্তা-চেতনা ও কর্মধারা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সরাসরি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। দুঃসাহসিক অভিযান, অদম্য মনোবল ও দেশমাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুদ্ধের সময় তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

ফজল আহমদ একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর চিন্তা ও লেখনী পাঠকের কাছে গভীর অনুপ্রেরণা জাগায়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন রত্নগর্ভ পিতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর পরিবার ও সমাজজীবনে সততা, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। মানবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে একজন আলোকিত নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আজীবন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ধারণ করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সমাজে ন্যায়, মানবতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গর্বিত সন্তান হিসেবে ফজল আহমদের অবদান স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহসী বক্তব্য, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণ তাঁকে সময়ের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের জন্য তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

সংগ্রাম, আদর্শ ও দেশপ্রেমে ভাস্বর এই মানুষটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মূল্যবান সম্পদ। বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক মানুষের অবদানই বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ