আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চক্রের সদস্য মো. তারেকক (৩৪)

সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ঘটায় চট্টগ্রামে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকায় অতি সহজে নারীদের পাচার করে আসছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের ভারতে ভালো বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ এ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আরো কয়েকজনের তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুই তরুণীকে। এক তরুণী কৌশলে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। তবে আরেকজন এখনো ‘নিখোঁজ’ আছেন। দেশে ফেরা তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পাচারকারী চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ২৩ জুন গভীর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই চক্রের সদস্য মো. তারেককে (৩৪)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে। নগরীর চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় দিদার ভবনে থাকেন তিনি।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, তারেক ছাড়াও চক্রের আরও তিন সদস্যের নাম-পরিচয় তারা জানতে পেরেছেন। তারা হলেন— ঝুমু, পারভিন আক্তার ও আনিছুর রহমান। এর মধ্যে ঝুমু সম্পর্কে তারেকের স্ত্রী।
পুলিশের তথ্য বলছে, এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ আছে। এরা পরস্পরের যোগসাজশে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিভিন্ন বয়সী নারীদের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এরপর ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন হোটেলে তাদের আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। তারেকসহ চক্রের সদস্যদের বৈধ-অবৈধপথে নিয়মিত ভারতে যাতায়াতের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ আরো জানায়, পাচারের শিকার তরুণী পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে কোলকাতা হয়ে গত ৬ জুন দেশে পালিয়ে আসেন। এরপর ২৩ জুন তিনি চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণীর বাড়ি রংপুর জেলায়। পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশের মাইজপাড়া এলাকায় রয়েল অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত এপ্রিলে তিনি ও তার বান্ধবী চাকরি ছেড়ে দেন।
২০২১ সালে তারা হাটহাজারীর চৌধুরীহাটে গার্মেন্টস পার্ক নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় পারভিন আক্তার নামে এক নারীও কর্মরত ছিলেন। রয়েল অ্যাপারেলস থেকে চাকরি ছাড়ার পর নতুন কাজের খোঁজে পারভিন আক্তারের কাছে গিয়ে মূলত দুই তরুণী পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ মে পারভিন আক্তারের সঙ্গে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে তারা দেখা করেন। পারভিন তাদের ভারতের রাঁচিতে পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। রাজি হলে পরদিন সকালে তাদের তারেকের বাসায় নিয়ে যান। তারেকের স্ত্রী ঝুমু তাদের জানান, ভারতে পার্লারে চাকরি করলে তারা মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন, তবে ভারতের যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। ২৯ মে সন্ধ্যায় দুই বান্ধবীকে নিয়ে তারেক, ঝুমু ও পারভিন নগরীর দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে যশোরের পথে রওয়ানা দেন। পরদিন ভোরে তাদের যশোরে আনিছুর রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেদিন রাতে তারা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে একটি কলাবাগানের ভেতরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে কখনো ভ্যানে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দিয়ে ৩১ মে ভোরে ভারতে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঝুমু ও পারভিন এবং ভারতের সীমান্ত এলাকার কয়েকজন দালাল।
ভারতের ভেতরে সীমান্তবর্তী এলাকায় এক দালালের বাসায় তারা আশ্রয় নেন। ৩১ মে ভোরে পারভিন এক তরুণীকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে চলে যান। আরেক তরুণী, যিনি মামলার বাদী, তিনি ওই দালালের আশ্রয়ে তিন দিন ছিলেন। ২ জুন রাতে ঝুমু তাকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছান। রাঁচিতে একই হোটেল দুই বান্ধবীকে রাখা হয়। শুরুতেই তারা জানতে পারেন, ওই হোটেলে পতিতাবৃত্তি হয়। তাদেরও মূলত এ কাজের জন্য সেখানে নেওয়া হয়েছে। দুজন কান্নাকাটি করতে থাকলে তাদের মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে আলাদা করে ফেলা হয়।
৩ জুন বিকেলে হোটেল থেকে পালিয়ে এক তরুণী রাঁচি থেকে ট্রেনে করে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি মোবাইলে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাওড়া স্টেশনে বিভিন্নজনের সহায়তায় ট্রেনে করে যশোর সীমান্তে যান। এরপর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ৬ জুন ভোরে তিনি দেশে পৌঁছান।
ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, দেশে ফিরে আসা তরুণী জানিয়েছেন, তাদের পাচারের পর রাঁচিতে মনীষা রায় নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই নারী তাদের হোটেলে রেখেছিল। খুব সম্ভবত পুলিশের অভিযানের মুখে অথবা বিপদের আঁচ করে মনীষাই আবার এক তরুণীকে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পাঠিয়ে দেন। তার লোকজনই যশোর সীমান্তে এনে তাকে আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে সহায়তা করেন। আরেক তরুণীর বিষয়টি আমরা এখনো স্পষ্ট না।
মামলার বাদী জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে আলাদা হোটেলে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে উনি পালিয়ে গেছেন। আদৌ এর সত্যতা কতটুকু, জানি না। তিনি কি ঝাড়খণ্ডের পুলিশ হেফাজতে আছেন, নাকি এখনো পাচারকারীর হাতে জিম্মি রয়েছেন, নাকি দেশে ফিরেছেন আমরা খতিয়ে দেখছি।
ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার তারেকের কাছে তথ্য থাকতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জুতার সোলের ভেতরে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের জুতার সোলের ভেতরে অভিনব কায়দায় রাখা ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাকলিয়া থানাধীন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হল, নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার খোরশেদা বেগম (৪৫) ও শাহ জালাল মিয়া (৫২)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী আইন মেলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী আইন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রয়াত আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) ও সালমা আদিল ফাউন্ডেশনের (এসএএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান এবং ন্যায়বিচার ও আইন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বুধবার এই আয়োজনে স্বেচ্ছায় অংশ নিয়ে মানবাধিকার আইনজীবীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন- বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এইচ এম জসিম উদ্দিন, চকবাজার শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট জান্নাতুল নাঈম রুমানা, বাঘাইছড়ি শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান আলী, সেনবাগ থানা ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট বদরুল হাসান, প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুমানা ইয়াসমিন সোমা, বায়েজিদ থানা শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কাশিফ মাহফুজ শান্তনু চৌধুরী এবং রাউজান জেলা শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খুশনুদ রাইসা উশিকা।

আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউদ্দিন আদিল ও সালমা আদিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন সালমা আদিল এমজেএফ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

এছাড়াও জরিপ ও ভূমি পরিমাপ আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হাসান আল বান্না আইনি সহায়তা প্রদান করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মানবাধিকার ও সুশাসনকর্মী রিদওয়ানুল করিম নাবিল, বিএইচআরএফ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ও পরিচালক ফাতিমা জাহরা আহসান রাইসা এবং দক্ষিণ জেলা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি রাজিব রিফাত।

আইন মেলা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সালমা-আদিল ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি বিভিন্ন আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে চন্দনাইশ স্টুডেন্ট কাউন্সিল।চট্টগ্রাম বারের একাধিক সিনিয়র সদস্য মেলা পরিদর্শন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম বারের সাবেক সভাপতি আবু মোহাম্মদ হাশেম, সাবেক বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর এম এ নাসের, সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক আরশাদুর রহমান, সাবেক অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল মনির টিপু, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর প্রভূতি বড়ুয়া, সিনিয়র আইনজীবী মোতাহার হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মেজবাহুল হাফিজ, নুরুল ইসলাম, ওসমান প্রমুখ।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ