আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চক্রের সদস্য মো. তারেকক (৩৪)

সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ঘটায় চট্টগ্রামে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকায় অতি সহজে নারীদের পাচার করে আসছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের ভারতে ভালো বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ এ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আরো কয়েকজনের তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুই তরুণীকে। এক তরুণী কৌশলে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। তবে আরেকজন এখনো ‘নিখোঁজ’ আছেন। দেশে ফেরা তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পাচারকারী চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ২৩ জুন গভীর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই চক্রের সদস্য মো. তারেককে (৩৪)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে। নগরীর চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় দিদার ভবনে থাকেন তিনি।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, তারেক ছাড়াও চক্রের আরও তিন সদস্যের নাম-পরিচয় তারা জানতে পেরেছেন। তারা হলেন— ঝুমু, পারভিন আক্তার ও আনিছুর রহমান। এর মধ্যে ঝুমু সম্পর্কে তারেকের স্ত্রী।
পুলিশের তথ্য বলছে, এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ আছে। এরা পরস্পরের যোগসাজশে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিভিন্ন বয়সী নারীদের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এরপর ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন হোটেলে তাদের আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। তারেকসহ চক্রের সদস্যদের বৈধ-অবৈধপথে নিয়মিত ভারতে যাতায়াতের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ আরো জানায়, পাচারের শিকার তরুণী পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে কোলকাতা হয়ে গত ৬ জুন দেশে পালিয়ে আসেন। এরপর ২৩ জুন তিনি চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণীর বাড়ি রংপুর জেলায়। পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশের মাইজপাড়া এলাকায় রয়েল অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত এপ্রিলে তিনি ও তার বান্ধবী চাকরি ছেড়ে দেন।
২০২১ সালে তারা হাটহাজারীর চৌধুরীহাটে গার্মেন্টস পার্ক নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় পারভিন আক্তার নামে এক নারীও কর্মরত ছিলেন। রয়েল অ্যাপারেলস থেকে চাকরি ছাড়ার পর নতুন কাজের খোঁজে পারভিন আক্তারের কাছে গিয়ে মূলত দুই তরুণী পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ মে পারভিন আক্তারের সঙ্গে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে তারা দেখা করেন। পারভিন তাদের ভারতের রাঁচিতে পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। রাজি হলে পরদিন সকালে তাদের তারেকের বাসায় নিয়ে যান। তারেকের স্ত্রী ঝুমু তাদের জানান, ভারতে পার্লারে চাকরি করলে তারা মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন, তবে ভারতের যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। ২৯ মে সন্ধ্যায় দুই বান্ধবীকে নিয়ে তারেক, ঝুমু ও পারভিন নগরীর দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে যশোরের পথে রওয়ানা দেন। পরদিন ভোরে তাদের যশোরে আনিছুর রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেদিন রাতে তারা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে একটি কলাবাগানের ভেতরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে কখনো ভ্যানে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দিয়ে ৩১ মে ভোরে ভারতে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঝুমু ও পারভিন এবং ভারতের সীমান্ত এলাকার কয়েকজন দালাল।
ভারতের ভেতরে সীমান্তবর্তী এলাকায় এক দালালের বাসায় তারা আশ্রয় নেন। ৩১ মে ভোরে পারভিন এক তরুণীকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে চলে যান। আরেক তরুণী, যিনি মামলার বাদী, তিনি ওই দালালের আশ্রয়ে তিন দিন ছিলেন। ২ জুন রাতে ঝুমু তাকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছান। রাঁচিতে একই হোটেল দুই বান্ধবীকে রাখা হয়। শুরুতেই তারা জানতে পারেন, ওই হোটেলে পতিতাবৃত্তি হয়। তাদেরও মূলত এ কাজের জন্য সেখানে নেওয়া হয়েছে। দুজন কান্নাকাটি করতে থাকলে তাদের মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে আলাদা করে ফেলা হয়।
৩ জুন বিকেলে হোটেল থেকে পালিয়ে এক তরুণী রাঁচি থেকে ট্রেনে করে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি মোবাইলে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাওড়া স্টেশনে বিভিন্নজনের সহায়তায় ট্রেনে করে যশোর সীমান্তে যান। এরপর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ৬ জুন ভোরে তিনি দেশে পৌঁছান।
ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, দেশে ফিরে আসা তরুণী জানিয়েছেন, তাদের পাচারের পর রাঁচিতে মনীষা রায় নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই নারী তাদের হোটেলে রেখেছিল। খুব সম্ভবত পুলিশের অভিযানের মুখে অথবা বিপদের আঁচ করে মনীষাই আবার এক তরুণীকে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পাঠিয়ে দেন। তার লোকজনই যশোর সীমান্তে এনে তাকে আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে সহায়তা করেন। আরেক তরুণীর বিষয়টি আমরা এখনো স্পষ্ট না।
মামলার বাদী জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে আলাদা হোটেলে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে উনি পালিয়ে গেছেন। আদৌ এর সত্যতা কতটুকু, জানি না। তিনি কি ঝাড়খণ্ডের পুলিশ হেফাজতে আছেন, নাকি এখনো পাচারকারীর হাতে জিম্মি রয়েছেন, নাকি দেশে ফিরেছেন আমরা খতিয়ে দেখছি।
ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার তারেকের কাছে তথ্য থাকতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ৪৭ টাকা আত্মসাৎ মামলায় ব্যবসায়ীর ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকের প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সীতাকুণ্ডের তনহা স্টিলের মালিক গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম (৫৩) সীতাকুণ্ড থানার উত্তর ছলিমপুর এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। আরেক আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এবি ব্যাংক লিমিটেড জুবিলী রোড শাখার এই টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত ষূত্রে জানা গেছে, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিনকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, আসামিকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলী রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এলসির বিপরীতে আনা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ