আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চক্রের সদস্য মো. তারেকক (৩৪)

সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ঘটায় চট্টগ্রামে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম থেকে ভারতে নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকায় অতি সহজে নারীদের পাচার করে আসছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের ভারতে ভালো বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ এ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আরো কয়েকজনের তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুই তরুণীকে। এক তরুণী কৌশলে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। তবে আরেকজন এখনো ‘নিখোঁজ’ আছেন। দেশে ফেরা তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পাচারকারী চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ২৩ জুন গভীর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই চক্রের সদস্য মো. তারেককে (৩৪)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে। নগরীর চন্দ্রনগর আবাসিক এলাকায় দিদার ভবনে থাকেন তিনি।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, তারেক ছাড়াও চক্রের আরও তিন সদস্যের নাম-পরিচয় তারা জানতে পেরেছেন। তারা হলেন— ঝুমু, পারভিন আক্তার ও আনিছুর রহমান। এর মধ্যে ঝুমু সম্পর্কে তারেকের স্ত্রী।
পুলিশের তথ্য বলছে, এই চক্রের সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ আছে। এরা পরস্পরের যোগসাজশে সীমান্ত এলাকার ‘দালালে’র মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিভিন্ন বয়সী নারীদের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এরপর ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন হোটেলে তাদের আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। তারেকসহ চক্রের সদস্যদের বৈধ-অবৈধপথে নিয়মিত ভারতে যাতায়াতের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ আরো জানায়, পাচারের শিকার তরুণী পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে কোলকাতা হয়ে গত ৬ জুন দেশে পালিয়ে আসেন। এরপর ২৩ জুন তিনি চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণীর বাড়ি রংপুর জেলায়। পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশের মাইজপাড়া এলাকায় রয়েল অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত এপ্রিলে তিনি ও তার বান্ধবী চাকরি ছেড়ে দেন।
২০২১ সালে তারা হাটহাজারীর চৌধুরীহাটে গার্মেন্টস পার্ক নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় পারভিন আক্তার নামে এক নারীও কর্মরত ছিলেন। রয়েল অ্যাপারেলস থেকে চাকরি ছাড়ার পর নতুন কাজের খোঁজে পারভিন আক্তারের কাছে গিয়ে মূলত দুই তরুণী পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ মে পারভিন আক্তারের সঙ্গে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে তারা দেখা করেন। পারভিন তাদের ভারতের রাঁচিতে পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। রাজি হলে পরদিন সকালে তাদের তারেকের বাসায় নিয়ে যান। তারেকের স্ত্রী ঝুমু তাদের জানান, ভারতে পার্লারে চাকরি করলে তারা মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন, তবে ভারতের যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। ২৯ মে সন্ধ্যায় দুই বান্ধবীকে নিয়ে তারেক, ঝুমু ও পারভিন নগরীর দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে যশোরের পথে রওয়ানা দেন। পরদিন ভোরে তাদের যশোরে আনিছুর রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেদিন রাতে তারা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে একটি কলাবাগানের ভেতরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে কখনো ভ্যানে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দিয়ে ৩১ মে ভোরে ভারতে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঝুমু ও পারভিন এবং ভারতের সীমান্ত এলাকার কয়েকজন দালাল।
ভারতের ভেতরে সীমান্তবর্তী এলাকায় এক দালালের বাসায় তারা আশ্রয় নেন। ৩১ মে ভোরে পারভিন এক তরুণীকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে চলে যান। আরেক তরুণী, যিনি মামলার বাদী, তিনি ওই দালালের আশ্রয়ে তিন দিন ছিলেন। ২ জুন রাতে ঝুমু তাকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছান। রাঁচিতে একই হোটেল দুই বান্ধবীকে রাখা হয়। শুরুতেই তারা জানতে পারেন, ওই হোটেলে পতিতাবৃত্তি হয়। তাদেরও মূলত এ কাজের জন্য সেখানে নেওয়া হয়েছে। দুজন কান্নাকাটি করতে থাকলে তাদের মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে আলাদা করে ফেলা হয়।
৩ জুন বিকেলে হোটেল থেকে পালিয়ে এক তরুণী রাঁচি থেকে ট্রেনে করে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি মোবাইলে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাওড়া স্টেশনে বিভিন্নজনের সহায়তায় ট্রেনে করে যশোর সীমান্তে যান। এরপর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ৬ জুন ভোরে তিনি দেশে পৌঁছান।
ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, দেশে ফিরে আসা তরুণী জানিয়েছেন, তাদের পাচারের পর রাঁচিতে মনীষা রায় নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই নারী তাদের হোটেলে রেখেছিল। খুব সম্ভবত পুলিশের অভিযানের মুখে অথবা বিপদের আঁচ করে মনীষাই আবার এক তরুণীকে কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে পাঠিয়ে দেন। তার লোকজনই যশোর সীমান্তে এনে তাকে আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে সহায়তা করেন। আরেক তরুণীর বিষয়টি আমরা এখনো স্পষ্ট না।
মামলার বাদী জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে আলাদা হোটেলে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে উনি পালিয়ে গেছেন। আদৌ এর সত্যতা কতটুকু, জানি না। তিনি কি ঝাড়খণ্ডের পুলিশ হেফাজতে আছেন, নাকি এখনো পাচারকারীর হাতে জিম্মি রয়েছেন, নাকি দেশে ফিরেছেন আমরা খতিয়ে দেখছি।
ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার তারেকের কাছে তথ্য থাকতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাল্কহেড থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফদার-৫।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার মো. ইমরান (২১), আনোয়ারার পূর্ব গহিরা এলাকার মো. আনিস (২৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভাঙ্গারা এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫), আনোয়ারার করুশকুল এলাকার মো. আলী (৪৭) এবং লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চর কলাকুপা এলাকার মো. রুবেল (২৭)।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে কয়েকজন মাদক কারবারি মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে একটি বাল্কহেডে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়ে আসছে। খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বাল্কহেডটির পিছু নেয়।

এক পর্যায়ে বাল্কহেডটি ১৫ নম্বর ঘাটে নোঙর করে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন। পরে বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিন রুমে রাখা দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের লাশ মিলল ডোবায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের
লাশ মিলল ডোবায়
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানা এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম (৪৬) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মঞ্জুর আলম ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলসিদিঘির পাড় আলী মিয়া চেরাগের বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে। তিন গাড়িচালক ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টায় কলসিদিঘির পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের শ্যালক মো. হাসান বলেন, গত ৬ মার্চ থেকে আমার দুলাভাই নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। আমার দুলাভাইকে কেউ পরিকল্পিতভাবে কেউ মেরে ফেলে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, কলসিদিঘির পাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবারে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ