আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজার:

সেবাপ্রার্থীকে মারধর, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি:

চকরিয়া:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সালিশি বৈঠকের নোটিশ দিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার ( ২৮ জুন) বিকেলে এই অভিযোগে বরইতলী একতা বাজারে বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

অভিযুক্তরা হলেন- বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান, দুই ইউপি সদস্য আলমগীর, নাসিম হেজাজী, অফিস সহকারী মহসিন রিমন ও গ্রাম-পুলিশ রিদুয়ান।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পহর চাঁদা এলাকার মৃত মোজাফফর আহমদের ছেলে এনামুল হক।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ শুক্রবার ( ২৮ জুন) বিকেলে বরইতলী একতা বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। একই দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় বাজারে মারধরের শিকার হওয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দীন দুলাল, সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক আইয়ুব খান মিন্টু, সালেহ আহমদ প্রমুখ।

হামলার শিকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইনস্ট্রাক্টর (রেডিওলজি) মাহমুদুল হক বলেন, গত রবিবার (২৩ জুন) জায়গা-জমি সংক্রান্ত অভিযোগের সাক্ষী দিতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দুপুর ২টার দিকে গ্রাম আদালতের বিচারকার্য শুরু হয়। শুরুতে মনোযোগ সহকারে বাদী পক্ষের অভিযোগটি শুনেন ইউপি চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান। পরে বিবাদী পক্ষের বক্তব্য প্রদানের সময় তাদের বক্তব্য না শুনে খোদ চেয়ারম্যান নিজেই হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। চেয়ারম্যানের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দেখে বিবাদী পক্ষের লোকজন একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে পরিষদের এজলাস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলমগীরসহ গ্রাম-পুলিশরা। মেম্বার আলমগীর ও গ্রাম পুলিশরা শক্ত কাঠের লাঠি (বাটাম) দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে আমাদেরকে। এ সময় আমার অপর ভাই এনামুল হকের মুখে লাঠির আঘাতে দাঁতের উপরের চোয়ালে গুরুতর জখম হয়ে একটি দাঁত মাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একই সময় আকবর হোছেন ও আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে পিঠে, কোমরে ও হাতে গুরুতর জখম করে। আঘাতে হাতের হাড় ভেঙে যায়। ওই সময় শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশের কবল থেকে উদ্ধার করে আমাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।

বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদে সেবা প্রার্থীদের আটক রেখে মারধরের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) কক্সবাজারকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে সেবাপ্রার্থী মাহমুদুল হকের উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান বলেন, বিচারকার্যে বিঘ্ন ঘটানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দরজা বন্ধ করে মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে শুনেছি, এ বিষয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা কার্যকর করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চবির নতুন উপাচার্য। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।তিনি  দীর্ঘ তিন দশকের বেশি  শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে  আজ সোমবার ১৬ মার্চ  এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চবির নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. ফোরকানকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানশি

ক্ষকতা জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।

******************************

ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB)-এর মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।

২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস।

 

এই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে। ফলে উদ্ভিদ টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রোটিওমিক্স, জেনোমিক ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক বিশ্লেষণ, মানব ও অন্যান্য রোগের গবেষণা, মাইক্রোবায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সসহ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

 

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের করোনা মহামারির সময় তিনি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। ৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে ড. আল-ফোরকানের প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫১টি। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি ইউএসডিএ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিসিসিটিসহ (BCCT), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গারেই (GARE), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পসহ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য সংস্থা থেকে ৫০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি ৩৯ জন এমএস শিক্ষার্থীর থিসিস, সাতজন এম.ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।

এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ