চট্টগ্রামে অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শতাধিক মার্কেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বৃহত্তম পাইকারি পণ্যের বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যকেন্দ্রে রয়েছে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে। এসব মার্কেটগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলেও স্থাপনাগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাসের তেমন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে ব্যস্ততম রিয়াজউদ্দিন বাজারের আমতল এলাকার এম এইচ চৌধুরী প্লাজা ভবনের পাঁচতলায় আগুনে তিনজন নিহতের পর নড়েচড়ে উঠেছে মর্কেটের ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দ। ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় নগরীর শতাধিক মার্কেট অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রণীত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, নগরীর বহদ্দারহাটের হক মার্কেট, স্বজন সুপার মার্কেট, বখতেয়ার মার্কেট, নজু মিয়া হাট মার্কেট, বলিরহাট মার্কেট, ভেড়া মার্কেট, চাক্তাই চালপট্টি, শুঁটকিপট্টি, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ, মিয়াখান নগর পুরাতন ঝুট মার্কেট, ওমর আলী মার্কেট, পোর্ট মার্কেট, বড়পুল বাজার, ইশান মিস্ত্রি মার্কেট, ফকির হাট মার্কেট, নয়াবাজার মার্কেট, ফইল্ল্যাতলি বাজার, চৌধুরী মার্কেট, রেলওয়ে বস্তি, কলসি দিঘীর পাড় এলাকাধীন কলোনি, আকমল আলী এলাকাধীন কলোনি, চকভিউ সুপার মার্কেট, চকবাজারের কেয়ারি শপিংমল, গুলজার টাওয়ার, মতি কমপ্লেক্স, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জহুর হকার মার্কেট, টেরিবাজার, তামাকুমন্ডি লেন, ঝাউতলা বস্তি.আমবাগান বস্তি, সেগুন বাগান বস্তি, কদমতলী রেলওয়ে বস্তি, সিঙ্গাপুর সমবায় সমিতি মার্কেট, কর্ণফুলী মার্কেট, দুই নম্বর গেট রেলওয়ে বস্তি এলাকা, অক্সিজেন রেল লাইন সংলগ্ন বস্তি, বার্মা কলোনি, ড্রাইভার কলোনি, রৌফাবাদ কলোনি ও শেরশাহ কলোনি অগ্নি দুর্ঘটনার অত্যধিক ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সেফটি প্ল্যান অনুযায়ী, নগরীর বাণিজ্যিক স্থাপনাসহ বহুতল ভবনগুলোতে থাকার কথা দুটি পৃথক সিঁড়ি, হাইড্রেন্ট, হোস পাইপ, আন্ডার গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভ, রাইজারসহ অগ্নিনির্বাপনের জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে বহুতল ভবনগুলোর মধ্যে নয়শ’ ২৪টিতে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাছাড়া বহুতল ভবনগুলো আবাসিক এলাকায় হলে সেগুলোর সার্বিক সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ২০ ফুট প্রশস্ত সড়ক প্রয়োজন। আর বহুতল ভবনগুলো বাণিজ্যিক এলাকায় হলে সড়ক হতে হবে ৩০ ফুট প্রশস্ত। অগ্নিনির্বাপক গাড়ি নিয়ে দমকল কর্মীদের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এমন সড়কের দরকার। কিন্তু নগরীর বেশির ভাগ বহুতল ভবনই গড়ে তোলা হয়েছে এ নির্দেশনা না মেনে। এতে করে অগ্নি-দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তা নেভাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বহুতল ভবন-মার্কেট কিংবা বস্তি-কলোনি যাই হোক না কেন, আগুন নেভাতে গিয়ে সড়ক থাকায় বিপদে পড়তে হয় আমাদের। বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের প্রদত্ত সনদে আবাসিক ভবন হলে ২০ ফুট ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে ৩০ ফুট সড়ক রাখার শর্ত দেওয়া হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের সর্বাধুনিক গাড়িটি ১৭ তলা পর্যন্ত পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম। বহুতল ভবনে নিরাপত্তার জন্য আলাদাভাবে সেফটি ফায়ার প্ল্যাট বসানোর কথা। কিন্তু সেসব মেনে চলার অভ্যাস এখনও গড়ে ওঠেনি।
গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন মহানগরীর অন্যতম বড় মার্কেট মোহাম্মদিয়া প্লাজার ব্রাদার্স টেলিকম নামে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সেটা পাশের রেজওয়ান কমপ্লেক্সেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনজনের মৃত্যু হয়। অগ্নি-দুর্ঘটনার অত্যধিক ঝুঁকির তালিকায় থাকা রেয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমন্ডি লেনে ছোট-বড় একশ’ ৪০টি মার্কেটে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে পোশাক-আশাক, প্রসাধনী, কাপড় ও ইলেকট্রনিক্স মালামাল বিক্রি করা হয়। মার্কেটের গলিগুলো এতই সংকীর্ণ যে মানুষের হাঁটা-চলারও সুযোগ নেই। পাশাপাশি দু’জন মানুষ হাঁটা যায় না- এমন গলিপথও রয়েছে কোনও কোনও মার্কেটে। এসব মার্কেটে কখনো আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি-নির্বাপক গাড়ি ও দমকল কর্মীদের প্রবেশ করার সুযোগ নেই। মার্কেট ঘিরে থাকা বৈদ্যুতিক তারগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। মার্কেটের ওপরের তলার কক্ষগুলো গুদাম এবং আবাসিকের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া মার্কেটের ভেতরে বা আশপাশে আগুন নেভানোর মত পানির কোনও উৎস নেই। রাতের বেলা গেটগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে মধ্যরাতে দুর্ঘটনা ঘটলে ভেতর থেকে কোনও মানুষ বেরিয়ে আসারও সুযোগ নেই।
এর আগে চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে দশটার দিকে ব্যস্ততম রিয়াজউদ্দিন বাজারের আমতল এলাকার এম এইচ চৌধুরী প্লাজা ভবনের পাঁচতলায় আগুন লাগে। যেখানে কয়েকটি তলা মিলে পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘রাজস্থানের’ বিক্রয়কেন্দ্র ও গুদাম রয়েছে। তারও আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর সবচেয়ে জনবহুল ও ব্যস্ততম জহুর হকার্স মার্কেটের পণ্যের গুদামে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি নগরীর আন্দরকিল্লায় সমবায় মার্কেটে আগুন লেগে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ওই বছরের ১২ জানুয়ারি রিয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মার্কেটে, ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর একই এলাকার হোটেল সফিনায়, ২০২০ সালে ৩০ আগস্ট চৌধুরী প্লাজায় এবং ২০১৯ সালে ১৯ অক্টোবর জহুর হকার্স মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় নগরীর শতাধিক মার্কেট অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে প্রতি বছরই কোনও না কোনও মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সম্পদের পাশাপাশি ঘটেছে প্রাণহানিও। বারবার অগ্নিকান্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা নেই বেশির ভাগ মার্কেটে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা,

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এস আলমের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো কারখানা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। ধাপে ধাপে কারখানা গুলোর নোটিশ বোর্ডে বন্ধ সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ ১ আগস্ট থেকে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বন্ধ হওয়া ৬ হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে পর্যায়ক্রমে তাদের পাওনা বুঝে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।গত বছরের আগস্টে কোম্পানির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই কারখানাগুলো নানামুখী সংকটে পড়ে যায়।

বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি ফিড মিলসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট।কারখানাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকায় অবস্থিত
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকায় অবস্থিত।

চক্ষু চিকিৎসা সেবায় এক অবিস্মরণীয় নাম অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন মহান কর্মবীর
উপমহাদেশের কিংবদন্তি চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি), চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি), ইনষ্টিটিউট অফ্ কমিউনিটি অফথালমোলজী (আইসিও) এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মৃতিচারণে নাগরিক শোকসভা অদ্য ১ আগস্ট শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনএসবি ও সিইআইটিসির উদ্যোগে টাইগারপাস আমবাগান রোডস্থ নেভি কনভেনশন সেন্টারে উক্ত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি। তিনি বলেন, আজ যে মানুষটির স্মরণ সভায় সবাই উপস্থিত হয়েছি সেই মানুষটি হলেন চক্ষু চিকিৎসা সেবায় এক অবিস্মরণীয় নাম অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসন। আমি মনে করি চক্ষু চিকিৎসা সেবায় উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তি চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন একটি প্রতিষ্ঠান। মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।


তিনি ছিলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের মত মানুষ হয়না। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আমাদের সবার হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন। তিনি ছিলেন, একজন সেরা চিকিৎসক, সেরা ছাত্র ও দেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের দেশকে তিনি অনেক উপরে নিয়ে গেছেন। তিনি চট্টগ্রামে চক্ষু হাসপাতাল গড় তুলেছেন। বাংলাদেশের লাখো মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়ার মহান ব্যক্তি তিনি। হাসপাতালটি করে চট্টগ্রামকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরেছেন। আমাদের সকলের রবিউল হোসেনের মত এমন উদার দেশ প্রেমিক হওয়া উচিত।

প্রতিমন্ত্রওী বলেন, রবিউল হোসেনের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। তিনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেও সেখানে নিজের নাম লেখাননি। নিজের কথা চিন্তা না করে হাসপাতালটি পরিচালনায় বোর্ড অব ট্রাস্ট করে দিয়ে গেছেন। তিনি মহান কর্মবীর। রবিউল হোসেন চলে গেলেও তার স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। আমাদের সেই স্বপ্ন দেখে এগিয়ে যেতে হবে। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন যে প্রতিষ্ঠান করে দিয়ে গেছেন তাঁর দুই সন্তান ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার পিতার আদলে সুন্দরভাবে পরিচালনায়। তবে সেগুলো চালাতে সমাজের কোন অপশক্তি যেন তাদের গ্রাস করতে না পারে সে দিকে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন।

গেষ্ট অফ অনারের বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চাচা সমাজের জন্য অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন। তার প্লেজার এন্ড পেইন গ্রন্থে তা উঠে এসেছে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের সেই কর্মকান্ড ধারণ করে আমরা যাতে সেই মানবকি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। সাঈদ আল নোমান বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন যে চক্ষু হাসপাতাল দাঁড় করিয়েছেন চট্টগ্রামের কোথায়ও এই সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা নেই। দেশের আটটি জেলায় তিনি এমন চক্ষু হাসপাতাল দাঁড় করিয়েছেন। এমন মহান মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

মাওলানা মো. মেজবাহ উদ্দিনের কোরআন তেলওয়াাতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম। আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি ট্রাস্টের ট্রেজারার মোহাম্মদ রেজওয়ান শাহিদী। বক্তব্য রাখেন, চক্ষু চিকিৎসা সমিতির উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা শামীম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দীক স্যার, সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান নাদের খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান শিরিন পারভীন হক, ইসলামিয়া হাসপাতাল ঢাকার মো. ফয়সাল সাহেদ, ময়মনসিংহ বিএনএসবি কে জামান হাসপাতালের চীফ কনসালটেন্ট ডা. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের দুই পুত্র যথাক্রমে সিইআইটিসি’র মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন এবং সিইআইটিসি’র ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য রিয়াজ হোসেন, ফয়েজলেকের মো. মহিউদ্দিন, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. সোমা রানী রায়, কেন্দ্রীয় ওএসবির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জিন্নুরাইন নিউটন, ডা. আবু নাসেরসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

উক্ত নাগরিক শোক সভা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. রুকনুন চৌধুরী এবং আয়োজক কমিটির সদস্য ও চক্ষু হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ