আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বৌদ্ধ বিহারে দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহারে গতরাতে বিহারের তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল বিহারের কয়েকটি তালা সুকৌশলে কেটে বিহারের ভিতরে কাচের গ্লাস বাধাঁ অবস্হায় রক্ষিত কয়েকশো বছরের পুরোন মূল্যবান বড় একটি বৌদ্ধমূর্তি চুুরি করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর প্রবীণ কয়েকজনের সাথে বৌদ্ধ মুর্তি ছুরির বিষয়ে কথা বলে জানাগেছে মূর্তিটি আসলে সোনালি কালারের হওয়ায় এটি অনেকেই পিতলের মূর্তি মনে করলেও আসলে মূর্তি একটি অষ্টধাতুর মহামূল্যবান বৌদ্ধমূর্তি। এটা কয়েক প্রজন্ম আগে মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহার প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা এখানে দেখে আসতেছি।

গতরাতের চুরি হওয়া বিহার থেকে মূল্যবান অষ্টধাতুর বৌদ্ধমূর্তি ছাড়াও বিহারের দানবাক্সের তালা কেটে মানুষের দান করা আনুমানিক ৩০/৪০ হাজার ক্যাশ টাকাও অন্যান্য জিনিষপত্র নিয়ে গেছে। আজ ০২ জুন মঙ্গলবার ভোর সকালে বিহার চুরির ঘটনা একালায় জানাজানি হলে এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারীপুরুষ তাদের শত বছরের এই বৌদ্ধমূর্তির জন্য বিহারে জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং যেকোনো ভাবে তারা তাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি এলাকার কৃষ্টি কালচারের অংশ বৌদ্ধমূর্তিটি উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহার কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মিলন কান্তি বড়ুয়া’র সাথে কথা হলে উনি জানান আমরা সকালে বিষয়টি পটিয়া থানার ওসিকে ফোনে জানিয়েছি,পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্স জসিম উদ্দীন ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাস্খা করেন। মূর্তিটি উদ্ধারের আশ্বাস দেন।আমরা আজকে বিহার কমিটির সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েই রাতে বা সন্ধ্যায় পটিয়া থানায় মামলা করবো। বীরমুক্তিযোদ্ধা মিলন বড়ুয়া বলেন আমরা আপনাদের মাধ্যমেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্হানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে ধর্মীয় উপসালয় চুরির মতো এই জঘন্য ঘৃণিত ঘটনায় দোষীদের তদন্ত পূর্বক চিহ্নত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয়।

এবিষয়ে সাবেক পুলিশের ডিআইজি বিহার কমিটির উপদেষ্টা মুকুটনাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বাবু প্রিয় রঞ্জন বড়ুয়া (পিআর বড়ুয়া) জানান আমি এই জঘন্য ঘটনার খবর শুনামাত্র পটিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে কথা বলতেছেন। ঘটনার খবর শুনে দুপুরে মুকুটনাইট বিহারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন আসেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দিদারুল আলম, ধলঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রণবীর ঘোষ টুটুল,স্হানীয় বিহার কমিটি

উপদেষ্টা বিবেকানন্দ বড়ুয়া দীপু, স্বপন কান্তি বড়ুয়া, অনুজ চৌধুরী, বিষু বড়ুয়া,সুমন বড়ুয়া, রূপন কান্তি বড়ুয়া সহ স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ার তরকারি ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ছোটন চেয়ারম্যান মানুষের দ্বারে দ্বারে, দ্বীপ জুড়ে প্রশংসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ বাজারের ফারাজ, পিতা- আবুল কাসেম, দক্ষিণ মগডেইল এক অসহায় তরকারি ব্যবসায়ী পেকুয়া সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন বাজার কমিটির সেক্রেটারি জাফর আলম কন্ট্রাক্টর ও সদস্যবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যবসায়ী সম্প্রতি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ও আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন ।এ অবস্থায় তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে ছোটন চেয়ারম্যান বড়ঘোপ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ব্যবসায়ীকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ছোটন চেয়ারম্যান বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে তিনি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।” তরকারি ব্যবসায়ী ফারাজের চিকিৎসার জন্য মোট ২,২৫,২৫০/= টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। ওই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সহায়তাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে যারা আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়রা ছোটন চেয়ারম্যানের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে।এদিকে, ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার জন্য ছোটন চেয়ারম্যানসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ