আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর ফাঁসির আদেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা এ রায় দেন। একই রায়ে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেরও আদেশ দিয়েছেন।দণ্ডিত মো. জামালের (৩৭) বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায়। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার বাস্তুহারা কলোনিতে তার বাসা ছিল।খুনের শিকার তার স্ত্রী পারভিন আক্তারের (২৪) বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। বিয়ের পর থেকে বাকলিয়ার বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় দায়ের হওয়ার মামলা তদন্ত শেষে বাকলিয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কারিমুজ্জামান ২০২২ সালের ২৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৩ অক্টোবর আসামি জামালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জামাল আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজামূলে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ গিয়ে বাসা থেকে খাটের ওপর কম্বল পেঁচিয়ে শোয়ানো অবস্থায় পারভিনের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় জামাল পলাতক ছিল। ১৮ জানুয়ারি পুলিশ জামালকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার জামাল স্ত্রীকে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০২০ সালে পারভিনের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে একটি মাজারে নিয়ে পারভিনকে বিয়ে করে জামাল। কাবিননামা না থাকলেও তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। জামালের প্রথম সংসারের স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকতেন।
জবানবন্দিতে দেয়া জামালের বক্তব্য অনুযায়ী, একসঙ্গে বসবাস শুরুর পর থেকে পারভিন জামালের আগের স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেলা নিয়ে সন্দেহ করে তার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন এবং এলাকায় সবার সামনে হেনস্থা করতেন। ঘটনার ১৫-২০ দিন আগে ঝগড়া হলে জামাল তার প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে যান। পরে আবার পারভিনের কাছে ফেরত যান। এরপর তাদের মধ্যে অশান্তি আরও বাড়ে।
ঘটনার আগেরদিন ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত ৮টায় পারভিন ও জামালের মধ্যে ঝগড়া হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ঝগড়ার পর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ঘুমন্ত পারভিনকে তার ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে জামাল। এরপর কম্বল পেঁচিয়ে তার লাশ বিছানায় রেখে পালিয়ে যায়।
নথিপত্রে উল্লেখ আছে, ১৭ জানুয়ারি রাতে বাড়ির মালিকের ট্রিপল নাইনে কল পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ জানুয়ারি পারভিনের বোন পোশাককর্মী বেবি আক্তার বাদী হয়ে জামালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে পারভিনের অভিযোগ, মাজারে বিয়ের পর একসঙ্গে বসবাসের শুরু থেকে জামাল পারভিনকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিলেন। ১৫ জানুয়ারি রাতে প্রতিবেশিরা তাদের মধ্যে ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পান। বিরক্ত হয়ে বাড়ির মালিক তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলার জন্য ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেখানে যান। তিনি গিয়ে দেখেন, দরোজা বাইরে থেকে হুক লাগানো। সেটা খুলে ভেতরে গিয়ে তিনি দেখেন, খাটের ওপর লাশ পড়ে আছে। এরপর তিনি ট্রিপল নাইনে কল দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ