আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে খুনের পর লাশ গুমের চেষ্টা

চট্টগ্রামে চার আসামির ফাঁসির আদেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একটি হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই রায়ে আদালত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মিঠু চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন ও এরশাদ হোসেন। এছাড়া সুদীপ চৌধুরী নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া রিকশাচালক মো. ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে খুনের পর লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল দন্ডিতরা। খুনের শিকার পঞ্চাশোর্ধ সুলাল চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজন উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই ইউনিয়নের যুগীরহাট চালবাজারে অভয়া ঔষধালয় নামে তার একটি আয়ূবের্দিক ফার্মেসি ছিল।
চট্টগ্রাম আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৫ জুন রাত ৯টার দিকে রিকশায় করে ফার্মেসি থেকে বাড়িতে ফেরার পথে সুলাল চৌধুরীকে নোয়াজিশপুর-চিকদাইর সড়কে প্রিয়তোষ কবিরাজের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের সামনে কুপিয়ে খুন করে আসামিরা। এরপর তার লাশ গুমের উদ্দেশে ব্রিজের নিচে খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে।গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী ও সন্তান স্থানীয়দের নিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খালে লাশের সন্ধান পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সুলালের ছেলে সৌরভ চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন।
অতিরিক্ত পিপি অঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি একই গ্রামের মিঠু চৌধুরী, সুমন চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন ও এরশাদ হোসেনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সুদীপ চৌধুরী নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিনমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিকশাচালক মো. ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিতদের মধ্যে দেলোয়ার এবং খালাস পাওয়া ইলিয়াস রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। দেলোয়ারকে সাজামূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অঞ্জন বিশ্বাস।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সুদীপ কান্তি নাথ বলেন, আসামি মিঠু চৌধুরী খুন হওয়া সুলালের দূরসম্পর্কের ভাইপো। তাদের ঘর একেবারে লাগোয়া। বাড়ির সীমানা নিয়ে সুলালের সঙ্গে মিঠুর বিরোধ হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়। সেই বিরোধের জেরে অন্য আসামিদের নিয়ে মিঠু খুনের পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে তাদের নিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। প্রতি রাতের মতো ঘটনার রাতে ইলিয়াসের রিকশায় করে ফার্মেসি থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন সুলাল চৌধুরী। রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায়ের কারণে রাস্তাঘাটে লোকজন ছিল না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দণ্ডিত পাঁচজন তাদের আক্রমণ করে। সুলালকে রিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে কোপাতে থাকে আসামিরা। রিকশাচালক ইলিয়াস ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে রিকশা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। আসামিরা সুলালকে হত্যা করে খালে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে।
আইনজীবী সুদীপ জানান, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির পরিদর্শক হাবিবুর রহমান ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠনের পর মোট পনেরো জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাল্কহেড থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফদার-৫।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার মো. ইমরান (২১), আনোয়ারার পূর্ব গহিরা এলাকার মো. আনিস (২৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভাঙ্গারা এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫), আনোয়ারার করুশকুল এলাকার মো. আলী (৪৭) এবং লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চর কলাকুপা এলাকার মো. রুবেল (২৭)।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে কয়েকজন মাদক কারবারি মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে একটি বাল্কহেডে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়ে আসছে। খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বাল্কহেডটির পিছু নেয়।

এক পর্যায়ে বাল্কহেডটি ১৫ নম্বর ঘাটে নোঙর করে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন। পরে বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিন রুমে রাখা দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের লাশ মিলল ডোবায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের
লাশ মিলল ডোবায়
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানা এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম (৪৬) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মঞ্জুর আলম ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলসিদিঘির পাড় আলী মিয়া চেরাগের বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে। তিন গাড়িচালক ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টায় কলসিদিঘির পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের শ্যালক মো. হাসান বলেন, গত ৬ মার্চ থেকে আমার দুলাভাই নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। আমার দুলাভাইকে কেউ পরিকল্পিতভাবে কেউ মেরে ফেলে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, কলসিদিঘির পাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবারে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ