জামালপুর:

জামালপুরে বন্যার পানি বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত

কামরুজ্জামান কানু জামালপুর:

জামালপুর:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে ঢলে আসায় জামালপুরের যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলা নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলাব্যাপী বিরাজ করছে বন্যা আতঙ্ক।ইতোমধ্যে তিনটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও বাড়িতে পানি উঠেছে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানির চাপে রাস্তাঘাট ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বন্যার কারণে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ।গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভরী বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানিতে চাপে জেলার ইসলামপুরের ইসলামপুর-পচাবহলা-পাঁচবাড়িয়া সড়কের দুটি স্থানে ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।অন্যদিকে পানির স্রোতে দেওয়ানগঞ্জ থেকে খোলাবাড়ি ও যাওয়ার প্রধান সড়কের সেতুর পাশের মাটি সরে গেছে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ ছাড়া কাঠারবিল এলাকায় আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে গেছে। আর পানি বাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ফলে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন পানি বাড়তে পারে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, কুলকান্দি, পাথর্শী, সাপধরী, বেলগাছা; দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী, চুকাইবাড়ী ও বাহাদুরাবাদ; মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া, আদ্রা, মাহমুদপুর, নাংলা ও কুলিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।পানি বেড়ে যাওয়ায় ইসলামপুর-গুঠাইল সড়কের দেলিরপাড় এলাকার ড্রাইভেশন ডুবে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পানির তোড়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ি সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, যমুনা নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। পানিবৃদ্ধি নিয়ে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট ৬৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।জেলার সব নদ নদীর আগামী আরো ৭২ ঘণ্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ।জামালপুরের জেলা প্রশাসক মাঃ শফিউর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সকল বিভাগের সাথে জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠক হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি সেক্টর যার যার অবস্থান থেকে যথাযথভাবে কাজ করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভালুকায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় “বাঁকা খাল” ও কুচখালী খাল” পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার সোয়াইল শান্তির বাজার এলাকায় এ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান, মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক পাঠান এবং ভালুকা উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আনোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, গুলজার হোসেন, মজিবুর রহমান মজু, ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাইন উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খান সানি ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবহাওয়া অফিস দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে । এজন্য নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে – ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ হতে পারে।এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ৩ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সোমবার ৪ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি কিছুটা পরিবর্তন হয়ে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে পারে।বুধবার ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ছবি -সংগৃহীত
www.banglajgaborpatrika.com

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ