যশোরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ইয়ানূর রহমান, যশোর।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যশোরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দু’দিনের ব্যবধানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাঝারি আকার ধারণ করেছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দু’দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ব্যারোমিটারের পারদ নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ওইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে যশোরে শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো । এরপর গত তিনদিন তাপমাত্রার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য উর্ধ্বমুখি হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, যশোরে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাসের দাপট। দুইয়ে মিলে হাড়ে কাঁপন লেগেছে।

যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। শীতের কারণে সারা দিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচন্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

যশোরের শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের কৃষক বলেন, শীতে ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু না যেয়ে তো উপায় নেই। এখন ইরি-বোরো রোপনের মৌসুম চলছে। ক্ষেতে সেচ চলছে। জমির পাক শেষ হলেও রোপনের জন্য শ্রমিক মিলেছ না প্রচন্ড শীেেতার জন্য। একই গ্রামের দিনমুজুর বাবুল হোসেন বলেন, আমি ক্ষেতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। এখন ইরি-বোরো রোপনের মৌসুম চললেও ঠান্ডা পানিতে নেমে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শীতের ভিতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

নাভারন এলাকার রিকশা ভ্যানচালক আবুল হাসান বলেন, শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। এজন্য যাত্রী পাচ্ছি না। আয় রোজগারও কমেছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি। গায়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকূলেরও জবুথবু অবস্থা। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ইয়ানূর রহমান : যশোরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দু’দিনের ব্যবধানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাঝারি আকার ধারণ করেছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দু’দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ব্যারোমিটারের পারদ নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ওইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে যশোরে শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো । এরপর গত তিনদিন তাপমাত্রার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য উর্ধ্বমুখি হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, যশোরে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাসের দাপট। দুইয়ে মিলে হাড়ে কাঁপন লেগেছে।

যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। শীতের কারণে সারা দিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচন্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

যশোরের শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের কৃষক বলেন, শীতে ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু না যেয়ে তো উপায় নেই। এখন ইরি-বোরো রোপনের মৌসুম চলছে। ক্ষেতে সেচ চলছে। জমির পাক শেষ হলেও রোপনের জন্য শ্রমিক মিলেছ না প্রচন্ড শীেেতার জন্য। একই গ্রামের দিনমুজুর বাবুল হোসেন বলেন, আমি ক্ষেতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। এখন ইরি-বোরো রোপনের মৌসুম চললেও ঠান্ডা পানিতে নেমে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শীতের ভিতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

নাভারন এলাকার রিকশা ভ্যানচালক আবুল হাসান বলেন, শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। এজন্য যাত্রী পাচ্ছি না। আয় রোজগারও কমেছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি। গায়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকূলেরও জবুথবু অবস্থা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কেশবপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কেশবপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাস (১৮) নামে এক কিশোরকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার দুপুরে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি গ্রামের মালোপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। জয়ন্ত বিশ্বাস ওই গ্রামের শ্যামল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে জয়ন্ত বিশ্বাসের বাড়িতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই মেয়েটি (৯) টেলিভিশন দেখতে আসে। এ সময় মেয়েটিকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে পরিবারের লোকদেরকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানালে সাগরদাঁড়ি এলাকা থেকে পুলিশ জয়ন্ত বিশ্বাসকে আটক করে। শিশু মেয়েটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শামীম হোসেন বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাসকে আটককরা হয়েছে। শিশু মেয়েটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শার্শায় ৪ বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যশোরের শার্শা পল্লীতে ৪ বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে আলম গাজী (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলম গাজী যশোর জেলার শার্শা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের জহর গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শার্শা থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৭, তারিখ- ২৩ মে ২০২৬। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) সকালে স্বরুপদাহ গ্রামের আল আমিন ও সাথী দম্পতির ৪ বছরের কন্যা তাবাসসুম বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী আলম গাজী শিশুটিকে “কাঠি ভাজা” খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি টংঘরে নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ ও নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় এক নারী ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।

শিশুটির দাদি জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে এলাকাজুড়ে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তারা থানায় অভিযোগ করেন।বর্তমানে শিশুটি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্ত আসামী আলম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”#

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ