রাজশাহী:

“আমিহীন সেদিনের পৃথিবী” লেখক: আসিফ আহমেদ (শিক্ষার্থী) রাবি

আসিফ আহমেদ (শিক্ষার্থী) রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমিহীন সেদিনের পৃথিবী

এই নশ্বর ধরায় কোনো কিছুই অবিনশ্বর নয়। যেটা একবার উদিত হয়েছে সেটার গত হওয়া যেন অবশ্যম্ভাবী। তবুও এই মর্ত্যলোকে আমাদের জল্পনা-কল্পনা একটুর জন্যও থেমে নেই। জাগতিক এই মিথ্যা কুহকের কাছে ধরাশায়ী হয়ে আমরা উদ্ভাবন করে বসি প্রথিত হওয়ার ঠুনকো উপায়৷ পরিবার, সমাজ ও জনতার কাছে নিজের সর্বাগ্রগণ্য তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে পড়ি। স্বীয় স্বকীয়তা ও ব্যক্তিত্বের বিসর্জন দিতে দিতে ভুলে বসি আমিহীন পৃথিবীর বহমানতাকে।দাম্ভিকতা ও দুনিয়াবি ধোঁকার করাঘাতে দুমড়েমুচড়ে নিজেই নিজের মূলোৎপাটন ডেকে আনি, ভেবে বসি আমার অনুপস্থিতি কাঁদাবে এই পার্থিব মহলকে। কিন্তু তা কি করে হয়? পৃথিবী যে তার নিজ বিধি মোতাবেক অগ্রসরমাণ। দেখো অয়োময় এই কৃষ্ণগহ্বরে দুনিয়ার উজ্জ্বল কিংবদন্তি (ব্যাক্তিত্ব) নক্ষত্রগুলো হারিয়েও পৃথিবী দেদারসে চলে আসছে হাজার বছর ধরে।সেখানে আমার মতো কিঞ্চিৎ এই তুচ্ছ অনুদার সৃষ্টির স্থায়িত্ব ও মনে রাখার যুক্তি উদয়ন করা একান্তই অবাঞ্ছনীয়। আমিহীন সেই পৃথিবী সেদিন কেমন হবে তা কি কখনো অনুভব করি আমরা। হয়তো এভাবে…

এই বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ সেদিন থেকে যাবে, থেকে যাবে ধোঁয়া ওঠা এই চায়ের কাপের উষ্ণতা, এই বিরান প্রান্তরের পিনপতনতা সেদিন থেকে যাবে, থেকে যাবে এই মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা, তাতে প্রত্যহ পালা করে এভাবে আঁধার পেরিয়ে সুবহে সাদিক আসবে, থেকে যাবে এই ঝলসানো চাঁদ যার আলোয় আলোকিত হবে দিগ্বিদিক, নিত্যদিনের মতো এই ঝরা পাতা সেদিনও শুকিয়ে কাঠ হবে, সেদিনও শহরজুড়ে বৃষ্টি আসবে পাখিরা খুঁজবে আশ্রয়, থেকে যাবে সেই জলপতনের রিমিঝিমি কলতান, থেকে যাবে এই দূর্বাঘাসকে আঁকড়ে থাকা পরিচিত মাটির মৃদু গন্ধ, থেকে যাবে দিগন্তে ভেসে আসা নিশীথ রাতের ডাহুকের ডাক, থেকে যাবে এই গোঙানি দেওয়া যন্ত্রমানব রেলগাড়ী, তাতে পালা করে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাড়ি দিবে আমার মতই কোনো এক দুরন্ত কিশোর, রয়ে যাবে এই হাসনাহেনা আর রজনীগন্ধার ঘ্রাণের রাজ্য, থেকে যাবে আমাবস্যার এই ঘুটঘুটে আঁধার, থেকে যাবে শরতের ঝকঝকে রাতের আকাশের তারাগুলো, থেকে যাবে বাবুই আর চড়ুইয়ের বাসা, তাতে পালা করে বসবাস করবে তাদেরই কোনো এক প্রজন্ম, থেকে যাবে সন্তানের নিমিত্তে মায়ের ভালোবাসা, থেকে যাবে শর্বরীতে লেপ্টে থাকা জোনাকির দলেরা, থেকে যাবে আমার পরিচিতি প্রান্তর, এদিনের মতো সেদিনও অজপাড়াগাঁয়ের মিনার থেকে ভেসে আসবে বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের তিরতির করে কাঁপা আজানের বার্তা, তাতে সাড়া দিয়ে স্রষ্টার স্তুতিতে উপনীত হবে কোনো এক আমজনতা, থেকে যাবে আমার ঝুলি ভর্তি স্মৃতিগুলো, থেকে যাবে এই দরদ মিশ্রিত সুর, থেকে যাবে আমার কোনো এক উত্তরসূরী …..

শুধু সেদিন থাকবে না কে ?
কেবল আমি নামক হতভাগা। মৃত্যু নির্মম, সে যে অদম্য, আমার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার আবির্ভাব অবধারিত। আমি মৃত্যুর পথেই সর্বদা চলমান, এই হেঁটে চলা অদৃশ্যমান,অজ্ঞাত। কোনো একদিন লাগাম ছেঁড়া ঘোড়ার ন্যায় গোঙানি দিয়ে হাজির হবে সে, আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে ধরবে আমায় চতুর্দিক থেকে, মিশিয়ে দিবে আমার অস্তিত্ব এক অদৃশ্য জগতে, সে জগৎ কেবল মৃতদের কাছে দৃশ্যমান। আমি হারিয়ে যাবো কোনো এক ক্ষণে, হারিয়ে যাবো ওই চাঁদটার মতো না, হারিয়ে যাবো ঠিক আজীবনের জন্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভিপি ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

২৯ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সম্মিলিত এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি,চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তাঁর কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।
হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।

নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।আরেক দর্শক জানান, “হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ