আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

রাজশাহী:

“আমিহীন সেদিনের পৃথিবী” লেখক: আসিফ আহমেদ (শিক্ষার্থী) রাবি

আসিফ আহমেদ (শিক্ষার্থী) রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমিহীন সেদিনের পৃথিবী

এই নশ্বর ধরায় কোনো কিছুই অবিনশ্বর নয়। যেটা একবার উদিত হয়েছে সেটার গত হওয়া যেন অবশ্যম্ভাবী। তবুও এই মর্ত্যলোকে আমাদের জল্পনা-কল্পনা একটুর জন্যও থেমে নেই। জাগতিক এই মিথ্যা কুহকের কাছে ধরাশায়ী হয়ে আমরা উদ্ভাবন করে বসি প্রথিত হওয়ার ঠুনকো উপায়৷ পরিবার, সমাজ ও জনতার কাছে নিজের সর্বাগ্রগণ্য তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে পড়ি। স্বীয় স্বকীয়তা ও ব্যক্তিত্বের বিসর্জন দিতে দিতে ভুলে বসি আমিহীন পৃথিবীর বহমানতাকে।দাম্ভিকতা ও দুনিয়াবি ধোঁকার করাঘাতে দুমড়েমুচড়ে নিজেই নিজের মূলোৎপাটন ডেকে আনি, ভেবে বসি আমার অনুপস্থিতি কাঁদাবে এই পার্থিব মহলকে। কিন্তু তা কি করে হয়? পৃথিবী যে তার নিজ বিধি মোতাবেক অগ্রসরমাণ। দেখো অয়োময় এই কৃষ্ণগহ্বরে দুনিয়ার উজ্জ্বল কিংবদন্তি (ব্যাক্তিত্ব) নক্ষত্রগুলো হারিয়েও পৃথিবী দেদারসে চলে আসছে হাজার বছর ধরে।সেখানে আমার মতো কিঞ্চিৎ এই তুচ্ছ অনুদার সৃষ্টির স্থায়িত্ব ও মনে রাখার যুক্তি উদয়ন করা একান্তই অবাঞ্ছনীয়। আমিহীন সেই পৃথিবী সেদিন কেমন হবে তা কি কখনো অনুভব করি আমরা। হয়তো এভাবে…

এই বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ সেদিন থেকে যাবে, থেকে যাবে ধোঁয়া ওঠা এই চায়ের কাপের উষ্ণতা, এই বিরান প্রান্তরের পিনপতনতা সেদিন থেকে যাবে, থেকে যাবে এই মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা, তাতে প্রত্যহ পালা করে এভাবে আঁধার পেরিয়ে সুবহে সাদিক আসবে, থেকে যাবে এই ঝলসানো চাঁদ যার আলোয় আলোকিত হবে দিগ্বিদিক, নিত্যদিনের মতো এই ঝরা পাতা সেদিনও শুকিয়ে কাঠ হবে, সেদিনও শহরজুড়ে বৃষ্টি আসবে পাখিরা খুঁজবে আশ্রয়, থেকে যাবে সেই জলপতনের রিমিঝিমি কলতান, থেকে যাবে এই দূর্বাঘাসকে আঁকড়ে থাকা পরিচিত মাটির মৃদু গন্ধ, থেকে যাবে দিগন্তে ভেসে আসা নিশীথ রাতের ডাহুকের ডাক, থেকে যাবে এই গোঙানি দেওয়া যন্ত্রমানব রেলগাড়ী, তাতে পালা করে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাড়ি দিবে আমার মতই কোনো এক দুরন্ত কিশোর, রয়ে যাবে এই হাসনাহেনা আর রজনীগন্ধার ঘ্রাণের রাজ্য, থেকে যাবে আমাবস্যার এই ঘুটঘুটে আঁধার, থেকে যাবে শরতের ঝকঝকে রাতের আকাশের তারাগুলো, থেকে যাবে বাবুই আর চড়ুইয়ের বাসা, তাতে পালা করে বসবাস করবে তাদেরই কোনো এক প্রজন্ম, থেকে যাবে সন্তানের নিমিত্তে মায়ের ভালোবাসা, থেকে যাবে শর্বরীতে লেপ্টে থাকা জোনাকির দলেরা, থেকে যাবে আমার পরিচিতি প্রান্তর, এদিনের মতো সেদিনও অজপাড়াগাঁয়ের মিনার থেকে ভেসে আসবে বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের তিরতির করে কাঁপা আজানের বার্তা, তাতে সাড়া দিয়ে স্রষ্টার স্তুতিতে উপনীত হবে কোনো এক আমজনতা, থেকে যাবে আমার ঝুলি ভর্তি স্মৃতিগুলো, থেকে যাবে এই দরদ মিশ্রিত সুর, থেকে যাবে আমার কোনো এক উত্তরসূরী …..

শুধু সেদিন থাকবে না কে ?
কেবল আমি নামক হতভাগা। মৃত্যু নির্মম, সে যে অদম্য, আমার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার আবির্ভাব অবধারিত। আমি মৃত্যুর পথেই সর্বদা চলমান, এই হেঁটে চলা অদৃশ্যমান,অজ্ঞাত। কোনো একদিন লাগাম ছেঁড়া ঘোড়ার ন্যায় গোঙানি দিয়ে হাজির হবে সে, আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে ধরবে আমায় চতুর্দিক থেকে, মিশিয়ে দিবে আমার অস্তিত্ব এক অদৃশ্য জগতে, সে জগৎ কেবল মৃতদের কাছে দৃশ্যমান। আমি হারিয়ে যাবো কোনো এক ক্ষণে, হারিয়ে যাবো ওই চাঁদটার মতো না, হারিয়ে যাবো ঠিক আজীবনের জন্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মন্ত্রী শুক্রবার চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শন পরবর্তী উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁর অবদান দেশকে আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়েছিল, যা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুনরায় এর নাম ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। পরবর্তীতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা,সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম, সেনাপ্রধান ও সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নাম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকার এসব স্থাপনা পুনর্গঠন করে জনগণের জন্য আবার উন্মুক্ত করবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামান্য মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দেশে যে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। সকলকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বা গণতন্ত্রহীনতার দিকে আমরা যেতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

হৃদয়ের বর্ণ মালা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আকাশে চাঁদ-
পৃথিবীর শামিয়ানা টলমল,
জোৎস্নার আলো মেখে মেখে।

অবারিত মাঠ-
কবিতা লেখার আসর বসেছে,
বাংলার মুখ দেখে দেখে।

অনন্ত পথ-
হৃদয়ের বর্ণমালা কবিতা ছড়ায়,
পৃথিবীর রূপ চেখে চেখে।

আমার দেশ-
সকল রূপে অপরূপ সাজে,
প্রিয়ার মুখ যায় ঢেকে।

আমার কবিতা-
মা মাটি মানুষ,
জীবন নদীর বাঁকে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ