আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র

মাস্টার তেজেন্দ্র লাল রায়

ডাঃ উদয় শংকর রায়

সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমি ডাঃ উদয় শংকর রায়( উত্তম কুমার)। আমার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন ও লালানগর গ্রামে।আমাদের বাড়ীটা আমার
বাবার নামে খ্যাত। আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়। আমার বাবার পরিবার আমরা তিন ভাই ও তিন বোন আমি ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় এবং ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।আমি ঐ পরিবারে জন্ম নিয়ে নিজেকে অনেকটা গর্বিত মনে করি।তিনি বৃটিশ আমলে চট্টগ্রাম শহরের প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুলে পড়াশুনা করতেন তখন আমার বাবার চাল চলন-হাব-ভাব দেখে বৃটিশ সরকার আমার বাবাকে রায় উপাধিতে ভূষিত করেন।বৃটিশের তৈরী এই প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুলটিকে জেল স্কুল বলা হত।এই স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়ম-নীতি শিখানোও হত। স্কুলের যাবতীয় কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলা মতো পরিচালিত হতো।কথাগুলো আমার বাবার মুখেই শুনেছি। স্মৃতির পাতায় গেথে রেখেছিলাম বলেই তা আজ সর্ব সমক্ষ্যে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায় প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুল থেকে থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করে বোয়ালখালীতে কানুনগো পাড়া কলেজে পড়াশুনা করতেন।। সেই সময় নিয়মিত পড়াশুনা করে সেই কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। অতপর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। গ্রামে বাড়িতে যখন গিয়েছিলেন। তদানিন্তন আমলে আমার বাবাকে অনেক লোকজন দেখতে গিয়েছিলেন।
তখন গ্রামে খুব একটা গ্রেজুয়েট ছিল না বললেই চলে।
১৯৪২ ইংরেজিতে যখন মাষ্টার আশরাফ আলী তালুকদার ঐসময় উত্তর রাঙ্গুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই মাষ্টার আশরাফ আলী তালুকদার
আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ মহোদয়ের কাছে এই কথা বলেছিলেন,- আপনার ছেলে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেছে এটা শুধু আপনার একার গর্ব না, এই গর্ব অত্র গ্রামের গর্ব। এই সমগ্র রাঙ্গুনিয়া থানার অধিবাসীদের গর্বের বিষয় বলে আমি মনে করি।

আপনি যদি আপনার ছেলেকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অনুমতি দেন তাহলে খুবই ভালো হবে। অত্র এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষা লাভ করতে পারবে।।প্রত্যুত্তরে আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ মহোদয় বলেছিলেন আমার ঘরে আলো জ্বলবে আর সবার ঘর অন্ধকার থাকবে সেটা আমি কখনো চাই না। তখন আমার ঠাকুর দাদা বলেছিলেন আমার ছেলে উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েে বিনা টাকায় শিক্ষা দান করবে।সেই সময় আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ (মহাজন) নানিয়া চর বাজারে মুদি দোকান করতেন।সেই সময় মুদি দোকান করে অনেক সম্পদশালী হয়েছেন। তদানিন্তন আমলে বাবার অমতে
ছেলে মেয়েরা কিছুই করতে পারতো না।অর্থাৎ ছেলে মেয়ে মা বাবার বাধ্য ছিল। সেই থেকে আমার বাবা সুদীর্ঘ জীবন এই স্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষা প্রদান করেছিলেন।শিক্ষকতা করার সময়কালে বাড়ির কাছে আমাদের দুই অংশীদারত্বের পুকুরের পাড়ে। ১৯৪৩ ইং
সালে আমার বাবার একক উদ্যোগে গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় একটা মাটিয়া কোটা তৈরী করেন। সেই মাটিয়া কোটার নামকরণ করেছিেলেন লালানগর বালিকা বিদ্যালয়। আমার বাবার নিজের অর্থায়নে স্কুলের যাবতীয় সরঞ্জামাদি ব্যবস্থা করেছিলেন।তখন থেকেই স্কুলের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আমার বাবাই করে এসেছিলেন। সুদীর্ঘ বছর পর যখন স্কুলটা সরকারি করণ হলো তখন কতগুলো স্বার্থান্বেষী মানুষের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে থানা অফিসারকে উৎকোচ দিয়ে রাতের অন্ধকারে জোর করে স্কুল গৃহটি ভেঙ্গে আমাদের বাড়ি পূর্ব পাশের সিকদার পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে রাতারাতি প্রতিস্থাপন করেন।তারপর ওখানেই সরকার কর্তৃক প্রদত্ত স্কুলটি পাকা দালানকোঠা নির্মিত হয়।আমার বাবার অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতিফলনকে দূবৃত্তরা জোর খাটিয়ে নিয়ে গেছে।কথায় আছে জোর যার মুল্লুক তার।অর্থাৎ Might is Right. তাই আমার ভাষায় বলি, কার ঘরে কে থাকে, কার গাড়ি কে চালায়,কার অধিকার কে ছিনিয়ে নিয়ে ভোগ করে।এটাই বড়ই৷ পরিতাপের বিষয়। এসবের বিচার সৃষ্টি কর্তার হাতে ন্যস্ত রইলো। মানুষের আাদালতে বিচার যদি সুষ্ঠু নাহি হয়। স্রষ্টার বিচার সুষ্ঠু হবে জেনো সুনিশ্চয়।
এছাড়াও ধামাইর হাট সংলগ্ন ভি,এইচ,ডি মিলন সঙ্ঘ
ক্লাবটিও আমার বাবার উদ্যোগে লালানগর ও রাজানগর গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সহযোগিতায় তদানিন্তন আমলে প্রতিষ্ঠা লাভ হয়।আমার বাবার মুখে শুনেছিলাম তাদের নাম।প্রথমে ভূমি দাতা আহম্মদ কবির চৌধুরীর নাম না বললে নয়।উনি যদি সর্বাগ্রে ভূমি দান না করতেন, তাহলে আমার বাবার নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্য্যবশিত হতো বলে আমার সুদৃঢ় ধারনা। এই ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা লগ্নে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করছি, সর্বশ্রী
১. আহম্মদ কবির চৌধুরী, ২ মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়. ৩.ডাক্তার সতীশ চন্দ্র দাশ.৪ মাষ্টার দলিলুর রহমান.৫.মাষ্টার নুরুল হুদা,৬ বিমল দেওয়ানঞ্জী.৭.চিত্ত
দেওয়ানঞ্জী.৮.ডাক্তার বিনয় রঞ্ন দাশ। আরও অনকে
যাদের নাম আমার বিস্মরণ হয়েছে।এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা সম্পাদক ছিলেন আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়। এই ক্লাবে একটি লাইব্রেরীও ছিল। লাইব্রেরীটা ছিল আমার মায়ের ছদ্মনামে, স্মৃতিরেখা পাবলিক লাইব্রেরী। আমার প্রায়শই কলিকাতা যেতেন।তখন ছিল অবিভক্ত পাক্ ভারত। কলিকাতা থেকে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের লেখা কবিতার বই, গল্পের বই,ও উপন্যাসের বই নিয়ে এসে এই লাইব্রেরীতে দান করেছেন,তার কোন ইয়ওা নেই। আমার বাবা ছিলেন সাহিত্য প্রেমী ও সাংস্কৃতিক মনা মানুষ। এই লাইব্রেরীর বই পড়ে গ্রামের অনেক মানুষ জ্ঞান সম্পদে সমৃদ্ধি লাভ করেছেন। এই ক্লাবে একটা থিয়েটার মঞ্চ ছিল।এই মিলন সঙ্ঘ ক্লাবের সদস্য ও অনেক বছরে তিনটি বই মঞ্চস্থ হতো খুব ঝাঁকঝমক ভাবে। এই থিয়েটার দেখার জন্য অনেক দূর দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম হতো। আমিও ছোট অবস্থায় আমার বাবার অভিনয় দেখেছি এবং আমিও দুই তিনটা বইয়ে অভিনয় করেছি। বড়ই পরিতাপের বিষয়,এখন এই ভি,এইচ,ডি মিলন সংঙ্ঘ ক্লাব ও স্মৃতিরেখা পাবলিক লাইব্রেরীটার আজ অবহেলিত হয়ে জরাজীর্ণ ও অভিভাবক হীনতায় পড়ে আছে।এখনও এই প্রতিষ্ঠানের জায়গাটা প্রতিষ্ঠা সম্পাদক হিসেবেই আমার বাবার নামেই দলিলটি রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে না, তা কুশিক্ষা। জে.এম সেন হল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও বিবেকানন্দ সঙ্গীত নিকেতনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

তারা আরো বলেন, শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতির প্রসার একটি জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিনত করে। বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও সঙ্গীত নিকেতন এই গুরু দায়িত্ব পালন করছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দুলাল কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদার, বিশেষ অতিথি শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষানুরাগী মিহির কান্তি নাথ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান সম্পাদক তাপস হোড়, অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নারায়ন চৌধুরী। প্রিয়ম কৃষ্ণ দে’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ছিল চিত্রপ্রদর্শনী, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও শিশু শিল্পীদের পরিবেশিত সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ