চট্টগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র

মাস্টার তেজেন্দ্র লাল রায়

ডাঃ উদয় শংকর রায়

সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমি ডাঃ উদয় শংকর রায়( উত্তম কুমার)। আমার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন ও লালানগর গ্রামে।আমাদের বাড়ীটা আমার
বাবার নামে খ্যাত। আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়। আমার বাবার পরিবার আমরা তিন ভাই ও তিন বোন আমি ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় এবং ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।আমি ঐ পরিবারে জন্ম নিয়ে নিজেকে অনেকটা গর্বিত মনে করি।তিনি বৃটিশ আমলে চট্টগ্রাম শহরের প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুলে পড়াশুনা করতেন তখন আমার বাবার চাল চলন-হাব-ভাব দেখে বৃটিশ সরকার আমার বাবাকে রায় উপাধিতে ভূষিত করেন।বৃটিশের তৈরী এই প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুলটিকে জেল স্কুল বলা হত।এই স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়ম-নীতি শিখানোও হত। স্কুলের যাবতীয় কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলা মতো পরিচালিত হতো।কথাগুলো আমার বাবার মুখেই শুনেছি। স্মৃতির পাতায় গেথে রেখেছিলাম বলেই তা আজ সর্ব সমক্ষ্যে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায় প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুল থেকে থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করে বোয়ালখালীতে কানুনগো পাড়া কলেজে পড়াশুনা করতেন।। সেই সময় নিয়মিত পড়াশুনা করে সেই কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। অতপর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। গ্রামে বাড়িতে যখন গিয়েছিলেন। তদানিন্তন আমলে আমার বাবাকে অনেক লোকজন দেখতে গিয়েছিলেন।
তখন গ্রামে খুব একটা গ্রেজুয়েট ছিল না বললেই চলে।
১৯৪২ ইংরেজিতে যখন মাষ্টার আশরাফ আলী তালুকদার ঐসময় উত্তর রাঙ্গুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই মাষ্টার আশরাফ আলী তালুকদার
আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ মহোদয়ের কাছে এই কথা বলেছিলেন,- আপনার ছেলে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেছে এটা শুধু আপনার একার গর্ব না, এই গর্ব অত্র গ্রামের গর্ব। এই সমগ্র রাঙ্গুনিয়া থানার অধিবাসীদের গর্বের বিষয় বলে আমি মনে করি।

আপনি যদি আপনার ছেলেকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অনুমতি দেন তাহলে খুবই ভালো হবে। অত্র এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষা লাভ করতে পারবে।।প্রত্যুত্তরে আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ মহোদয় বলেছিলেন আমার ঘরে আলো জ্বলবে আর সবার ঘর অন্ধকার থাকবে সেটা আমি কখনো চাই না। তখন আমার ঠাকুর দাদা বলেছিলেন আমার ছেলে উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েে বিনা টাকায় শিক্ষা দান করবে।সেই সময় আমার ঠাকুর দাদা রজনী কান্ত নাথ (মহাজন) নানিয়া চর বাজারে মুদি দোকান করতেন।সেই সময় মুদি দোকান করে অনেক সম্পদশালী হয়েছেন। তদানিন্তন আমলে বাবার অমতে
ছেলে মেয়েরা কিছুই করতে পারতো না।অর্থাৎ ছেলে মেয়ে মা বাবার বাধ্য ছিল। সেই থেকে আমার বাবা সুদীর্ঘ জীবন এই স্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষা প্রদান করেছিলেন।শিক্ষকতা করার সময়কালে বাড়ির কাছে আমাদের দুই অংশীদারত্বের পুকুরের পাড়ে। ১৯৪৩ ইং
সালে আমার বাবার একক উদ্যোগে গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় একটা মাটিয়া কোটা তৈরী করেন। সেই মাটিয়া কোটার নামকরণ করেছিেলেন লালানগর বালিকা বিদ্যালয়। আমার বাবার নিজের অর্থায়নে স্কুলের যাবতীয় সরঞ্জামাদি ব্যবস্থা করেছিলেন।তখন থেকেই স্কুলের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আমার বাবাই করে এসেছিলেন। সুদীর্ঘ বছর পর যখন স্কুলটা সরকারি করণ হলো তখন কতগুলো স্বার্থান্বেষী মানুষের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে থানা অফিসারকে উৎকোচ দিয়ে রাতের অন্ধকারে জোর করে স্কুল গৃহটি ভেঙ্গে আমাদের বাড়ি পূর্ব পাশের সিকদার পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে রাতারাতি প্রতিস্থাপন করেন।তারপর ওখানেই সরকার কর্তৃক প্রদত্ত স্কুলটি পাকা দালানকোঠা নির্মিত হয়।আমার বাবার অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতিফলনকে দূবৃত্তরা জোর খাটিয়ে নিয়ে গেছে।কথায় আছে জোর যার মুল্লুক তার।অর্থাৎ Might is Right. তাই আমার ভাষায় বলি, কার ঘরে কে থাকে, কার গাড়ি কে চালায়,কার অধিকার কে ছিনিয়ে নিয়ে ভোগ করে।এটাই বড়ই৷ পরিতাপের বিষয়। এসবের বিচার সৃষ্টি কর্তার হাতে ন্যস্ত রইলো। মানুষের আাদালতে বিচার যদি সুষ্ঠু নাহি হয়। স্রষ্টার বিচার সুষ্ঠু হবে জেনো সুনিশ্চয়।
এছাড়াও ধামাইর হাট সংলগ্ন ভি,এইচ,ডি মিলন সঙ্ঘ
ক্লাবটিও আমার বাবার উদ্যোগে লালানগর ও রাজানগর গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সহযোগিতায় তদানিন্তন আমলে প্রতিষ্ঠা লাভ হয়।আমার বাবার মুখে শুনেছিলাম তাদের নাম।প্রথমে ভূমি দাতা আহম্মদ কবির চৌধুরীর নাম না বললে নয়।উনি যদি সর্বাগ্রে ভূমি দান না করতেন, তাহলে আমার বাবার নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্য্যবশিত হতো বলে আমার সুদৃঢ় ধারনা। এই ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা লগ্নে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করছি, সর্বশ্রী
১. আহম্মদ কবির চৌধুরী, ২ মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়. ৩.ডাক্তার সতীশ চন্দ্র দাশ.৪ মাষ্টার দলিলুর রহমান.৫.মাষ্টার নুরুল হুদা,৬ বিমল দেওয়ানঞ্জী.৭.চিত্ত
দেওয়ানঞ্জী.৮.ডাক্তার বিনয় রঞ্ন দাশ। আরও অনকে
যাদের নাম আমার বিস্মরণ হয়েছে।এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা সম্পাদক ছিলেন আমার বাবা মাষ্টার তেজেন্দ্র লাল রায়। এই ক্লাবে একটি লাইব্রেরীও ছিল। লাইব্রেরীটা ছিল আমার মায়ের ছদ্মনামে, স্মৃতিরেখা পাবলিক লাইব্রেরী। আমার প্রায়শই কলিকাতা যেতেন।তখন ছিল অবিভক্ত পাক্ ভারত। কলিকাতা থেকে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের লেখা কবিতার বই, গল্পের বই,ও উপন্যাসের বই নিয়ে এসে এই লাইব্রেরীতে দান করেছেন,তার কোন ইয়ওা নেই। আমার বাবা ছিলেন সাহিত্য প্রেমী ও সাংস্কৃতিক মনা মানুষ। এই লাইব্রেরীর বই পড়ে গ্রামের অনেক মানুষ জ্ঞান সম্পদে সমৃদ্ধি লাভ করেছেন। এই ক্লাবে একটা থিয়েটার মঞ্চ ছিল।এই মিলন সঙ্ঘ ক্লাবের সদস্য ও অনেক বছরে তিনটি বই মঞ্চস্থ হতো খুব ঝাঁকঝমক ভাবে। এই থিয়েটার দেখার জন্য অনেক দূর দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম হতো। আমিও ছোট অবস্থায় আমার বাবার অভিনয় দেখেছি এবং আমিও দুই তিনটা বইয়ে অভিনয় করেছি। বড়ই পরিতাপের বিষয়,এখন এই ভি,এইচ,ডি মিলন সংঙ্ঘ ক্লাব ও স্মৃতিরেখা পাবলিক লাইব্রেরীটার আজ অবহেলিত হয়ে জরাজীর্ণ ও অভিভাবক হীনতায় পড়ে আছে।এখনও এই প্রতিষ্ঠানের জায়গাটা প্রতিষ্ঠা সম্পাদক হিসেবেই আমার বাবার নামেই দলিলটি রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন : মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে এমন আহবান জানান। তিনি বলেছেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চসিক। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। তবে, শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন এই অভ্যাস আমাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয় এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
চসিক জানায়, ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নগরবাসীর সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা চুক্তি বন্ধসহ চার দাবিতে আলটিমেটাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চার দাবিতে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি রয়েছে।

দাবি না মানলে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় নিমতলা বিশ্বরোড থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় ফকির হাট ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষিত অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিগত আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃবৃন্দসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা

প্রত্যাহার, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে এখনো পর্যন্ত বন্দরে কর্মরত যে সব কর্মকর্তা এনসিটিকে বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি প্রক্রিয়ার জড়িতদের অপসারণ এবং পরিকল্পিতভাকে দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ বন্ধ রেখে বন্দরের চলমান অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির করে বে-সরকারিকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে সব শূন্যপদে জনবল নিযোগ করে অপারেশন কার্যক্রম গতিশীল করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চট্টগ্রাম কন্দরকে আধুনিক বন্দরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কপের নেতা ইফতেখার কামাল, হুমায়ুন কবির (নিমতলা), মোজাহের হোসেন শওকত, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশীদ, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, স্টাফ ইউনিয়নের মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, উইন্সম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৭ সাল থেকে দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করে আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিজমের পতন হলে ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার এই কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।দেশের মানুষ মনে করেছিল শত শত ছাত্র জনতার রক্তের সিঁড়ি বেয়ে গঠিত ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এই চুক্তি না করে উক্ত কার্যক্রমের যবনিকা টানবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে

তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ২/১ জন উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় দেশ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি চিন্তা না করে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেই ফেলেছিল।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেশের স্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে তৎকালীন সময়ে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, সর্বদলীয় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সহ সারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমজীবি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে তৎকালীন আন্তবর্তী কালীন সরকার উল্লেখিত চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

অতি সম্প্রতি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলেছেন, যে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিকে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনার সুযোগ না দিলে অবুধাবিতে কর্মরত ২৩ লাখ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে, তার এই বক্তব্য একদিকে যেমন বিদেশিদের এ কাজে উৎসাহিত করবে অন্যদিকে তার বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী কাজ মনে করি। আমরা তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেছেন, এনসিটির যন্ত্রপাতি অকেজো। ইকুইপমেন্ট এভেইলেবেলিটি আন্তর্জাতিক মান দন্ডের নিচে অর্থাৎ ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আভ্যন্তরীণ নথিপত্র, ক্রেন ক্রয়ের বিবরণী এবং সামুদ্রিক লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, এবং বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর হাতে এনসিটিকে তুলে দেওয়ার অতি উৎসাহী আচরণ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের আধিপত্য আমাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে কখনো রাজনৈতিক আস্থিরতা সৃষ্টি হলে সে সময় দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে অর্থনীতিসহ সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আমরা বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা মনে করি বহুজাতিক কোম্পানী ডিপি ওয়ার্ল্ড এর সঙ্গে কনসেশন চুক্তি করা হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনসিটি হতে অর্জিত টাকা বিদেশে চলে যাবে, দেশ অর্থনৈতিক মুদ্রার সংকটের মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা কর্ম হারাবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে দেশের একমাত্র সমুদ্র বন্দর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হবে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এর মাধ্যমে অর্জিত আয় ৪৫০০ কোটি টাকা এবং নিট আয় ২৫০০ কোটি টাকা। এই আয় থেকে সরকার ২৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স বাবদ পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা এবং ভ্যাট পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা প্রায়। বহুজাতিক

কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলে সরকার উক্ত আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং কনসেশন চুক্তির কারণে এনসিটিতে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশংকা রয়েছে।নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক স্বপন মজুমদার বলেন, এনসিটি বন্দরের লাভজনক স্থাপনা। এটি ইজারা দেওয়ার দরকার নেই। বিগত সরকারের আমলের একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে ইজারা দিতে। শুধু মুনাফা উন্নয়ন নয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ