আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

ঝিনাইদহে আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত গরুর খামার স্থাপনে দুর্গন্ধ; ডেঙ্গু আতঙ্কে এলাকাবাসী

রবিন মাহমুদ, ঝিনাইদহ-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র নির্মাণ করা হয়েছে গরুর খামার। বাতাসের সাথে ছড়ানো গোবরের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বায়ু দূষণ সহ মানুষকে নানা রকম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের উপশহর পাড়া এলাকায়।
জানা যায়, খামার প্রতিষ্ঠা হওয়ার ফলে দুর্গন্ধের কারণে ঐ এলাকায় কেউ বাসা ভাড়া নিতে চায় না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ ভাড়াযোগ্য বাড়ি খালি থাকছে। অনেকে আবার নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। এছাড়াও গোবর-চুনা ও খামারের কারণে আশেপাশের বাড়িতে অবস্থানরত মানুষেরা দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। গোবরের চুনার দূর্গন্ধে খাবার টেবিলে বসে খাওয়ার মতো পরিবেশ টুকু ও নেই। খামারের দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ দূষণ ও জনদূর্ভোগের হাত থেকে রেহাই পেতে বারবার অভিযোগ দেবার পর মালিকদের দারস্থ হয়েও কোনো ফল পাননি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মরহুম উজ্জ্বল বিশ্বাসের শ্বশুর জাহাঙ্গীর নিয়মনীতি না মেনে পরিবেশ দূষণ করে গরুর খামার স্থাপন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর তার নিজ জমিতে নারায়ণ বিশ্বাসের বাড়ি সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে গরুর একটি খামার স্থাপন করেছে। খামারটির আশপাশে মলমূত্র ও গোবর ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছে। ওই গোবর, ময়লা- আবর্জনা খামারের পাশেই কোন রকম গর্ত করে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত খামারের মলমূত্র, পানিনিষ্কাশন ও বর্জ্য অপসারণের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। খামারের চারপাশে রয়েছে বসতবাড়ি। এসব বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টিপাতে মলমূত্র ও গোবর পানির সাথে মিশে পচা দূর্গন্ধ ছড়ানো সহ মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে চলেছে।
পৌরসভার বিদ্যমান নীতি ও আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫’র সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্বেও এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গরুর খামার স্থাপনে বিদ্যমান আইনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই গরুর খামার। গরুর গোবর ও মলমূত্র থেকে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। বসবাস করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
খামারের পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, দুর্গন্ধে আমাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে বসবাস করতে পারছেনা। নোংরা পরিবেশের কারণে মশার উপদ্রপ বেড়েছে। যা ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ। আমরা এর স্থায়ী প্রতিকার চাই।
ওই এলাকার বাসিন্দা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর নারায়ণ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গরুর খামার ও গোবরের দুর্গন্ধে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছি। এ বিষয়ে পৌরসভায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়ে ও কোন সুরাহা মেলেনি।
গরুর খামার মালিক জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হবার পর তার এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হয়।
এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়রের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, স্যার ঢাকায় আছে। ঢাকা থেকে আসার পর কথা বলতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মুন্তাছির রহমান জানান, জনগণের ভোগান্তি ও দূর্ভোগ সৃষ্টি করে আবাসিক এলাকায় গবাদিপশু পালনের কোন সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে ফোন দিলে তিনি মুঠোফোনটি রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মনোজিত কুমার মন্ডল বলেন, এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। এটা স্থানীয় সরকারের কাজ। যদিও আবাসিক এলাকায় গরু পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তবুও কেউ যদি গরু পালন করতে চাই সেক্ষেত্রে জনগণের যেনো কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
পৌরসভার আবাসিক এলাকায় বে-আইনীভাবে গড়ে ওঠা পরিবেশ বিধ্বংসী গরুর খামারের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।।।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

স্বাস্থ্যসেবা জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় ১৫ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চলছেনা জেনারেটর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তীব্র লোডশেডিংয়েও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা যাচ্ছে না।যার ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের মধ্যে জ্বালানি বরাদ্দ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জেনারেটরের জন্য একেবারে জ্বালানি বরাদ্দ নেই-এমন নয়। দুটি খাতে জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হয়-একটি যানবাহনের জন্য, অন্যটি হাসপাতালের গ্যাস বাবদ। তবে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্তভাবে বিবেচনায় নিচ্ছে না। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জানা গেছে, জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ রয়েছে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল পুরো দেশ। এর প্রভাব পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতির কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এদিকে, গত এক সপ্তাহে নগরীর তুলনায় উপজেলাগুলোতে লোডশেডিংয়ের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। কোথাও কোথাও দিনে-রাতে মিলিয়ে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জরুরি বিভাগ, ল্যাব পরীক্ষা ও অন্যান্য সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এতে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্বালানির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) থেকে আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকে না। ফলে কর্মকর্তারা হাসপাতালের অন্যান্য খাতের বরাদ্দ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে জেনারেটর চালু রাখার চেষ্টা করেন। তবে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় জ্বালানি অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, সারা দেশের মতো লোডশেডিংয়ের প্রভাব আমাদের হাসপাতালেও পড়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। তারপরও আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. টিপলু কান্তি বলেন, আমরা জেনারেটর চালাতে পারছি না। লোডশেডিং বেশি হওয়ায় আইপিএস ব্যবহার করছি।

এদিকে হাসপাতালের জ্বালানি সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, লোডশেডিং এখন সারা দেশের সমস্যা। তারপরও আমরা হাসপাতাল ও জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোতে লোডশেডিং কম রাখার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নির্দেশনা এসেছে, যাতে জরুরি স্থাপনাগুলোতে পৃথক লাইন চালুর কথা বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ