চট্টগ্রামে কোটা অন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ তুমুল সংঘর্ষে নিহত-৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতরা হলেন, ফারুক ও ওয়াসিম আকরাম। ফারুকের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করতেন। ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বাকি একজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ চমেক মর্গে রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুজনের লাশ আমরা রিসিভ করেছি। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আরেকজন পথচারী। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে ষোলশহর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের পাঁচ-সাত জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে নগরীর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিকেলে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সেটা ষোলশহর রেলস্টেশন হয়ে মুরাদপুরেও ছড়িয়ে পড়ে।
কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা কয়েকদিন ধরে প্রথমে ষোলশহর রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে এরপর রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেও তারা একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ষোলশহর রেলস্টেশনে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের মধ্যেই সেখানে কয়েক’শ নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া দুই নম্বর গেইট এবং মুরাদপুরেও আলাদাভাবে দুপুরের আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরাও ভাগ হয়ে ষোলশহর রেলস্টেশন, দুই নম্বর গেইট এবং মুরাদপুরে অবস্থান নেয়। দুই নম্বর গেইটে কোটাবিরোধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এ সময় ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি হয়ে আসা একটি মিছিল থেকে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। উভয়পক্ষ পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একইভাবে ষোলশহর রেলস্টেশনের সামনের সড়ক এবং মুরাদপুরেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। দুই নম্বর গেইট ও আশপাশের এলাকায় আট থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের কারণে নগরীর টাইগারপাস থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের অন্যান্য সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও পুলিশ দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন নতুন ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন নতুন ভিসি

চট্টগ্রামে বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আসছে রেসিং কার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে বিএমডব্লিউ রেসিং কারসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি আমদানির আনা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এমন তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ঘোষণা দিয়ে একটি চালান বন্দরে আনেন।

গতকাল কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই চালানে সিকেডি (খণ্ড ) অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের সামনের অর্ধাংশ এবং অর্ধেক কেটে আনা পাঁচটি ইসুজু ট্রাক রয়েছে। গাড়িটির মডেল এস ড্রাইভ ২৩আই, ইঞ্জিন সক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি।

কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ দুই আসনের স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির মডেল এস ড্রাইভ ২৩আই, ইঞ্জিন সক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। আরও পাওয়া যায় বিএমডব্লিউ ৭৪০আই এর সামনের অর্ধাংশ। ২০১৬ মডেলের ওই গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩০০০ সিসি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ