আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে কোটা অন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ তুমুল সংঘর্ষে নিহত-৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতরা হলেন, ফারুক ও ওয়াসিম আকরাম। ফারুকের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করতেন। ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বাকি একজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ চমেক মর্গে রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুজনের লাশ আমরা রিসিভ করেছি। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আরেকজন পথচারী। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে ষোলশহর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের পাঁচ-সাত জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে নগরীর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিকেলে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সেটা ষোলশহর রেলস্টেশন হয়ে মুরাদপুরেও ছড়িয়ে পড়ে।
কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা কয়েকদিন ধরে প্রথমে ষোলশহর রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে এরপর রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেও তারা একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ষোলশহর রেলস্টেশনে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের মধ্যেই সেখানে কয়েক’শ নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া দুই নম্বর গেইট এবং মুরাদপুরেও আলাদাভাবে দুপুরের আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরাও ভাগ হয়ে ষোলশহর রেলস্টেশন, দুই নম্বর গেইট এবং মুরাদপুরে অবস্থান নেয়। দুই নম্বর গেইটে কোটাবিরোধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এ সময় ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি হয়ে আসা একটি মিছিল থেকে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। উভয়পক্ষ পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একইভাবে ষোলশহর রেলস্টেশনের সামনের সড়ক এবং মুরাদপুরেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। দুই নম্বর গেইট ও আশপাশের এলাকায় আট থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের কারণে নগরীর টাইগারপাস থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের অন্যান্য সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও পুলিশ দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাই কে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগ ভাঙ্গুড়ার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব কালুরঘাট ১২ নম্বর ব্রিজ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার পরনে লুঙ্গি ও নীল রঙের গেঞ্জি ছিল। বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, “ট্রেনে কাটা পড়ে লোকটির দেহ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। ঘটনাটি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন কালুরঘাট সেতু পার হয়ে আসার পথে এক ব্যক্তি কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ