আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে পরিষ্কার ও যান নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন মোড়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। গত মঙ্গলবারের মত গতকাল বুধবারও এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে নগরীর কোথাও কোনো ট্রাফিক, পুলিশ বা ব্যারিকেড দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরা কেউ রাস্তা-ফুটপাতের ময়লা পরিষ্কার করছেন। কেউ সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে এরা কেউ পরিচ্ছন্ন কর্মী বা ট্রাফিক পুলিশ নন। এরপরও শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা।
আলাপকালে তারা জানায়, এরা সবাই ছাত্র। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে পালান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ভেঙে পড়ে চট্টগ্রাম শহরের দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা। রাস্তায় দেখা যায়নি কোনো ট্রাফিক পুলিশ। এ অবস্থায় সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে মাঠে নামে বলে তারা জানায়। স্বেচ্ছায় তারা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নকর্মীরও দায়িত্ব পালন করেন। তাদের এ কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সাধারণ লোকজন। একইসঙ্গে তাদের প্রশংসা করেন সবাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের প্রশংসা ভাসান অনেকে। কয়েক জায়গায় স্থানীয় লোকজন ও পথচারী তাদের খাবার ও পানি দিয়ে প্রকাশ করেন ভালোবাসা।
নগরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে দেখা গেছে, বহাদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২নং গেট, জিইসি মোড়, টাইগারপাস, প্রবর্তক মোড়, নিউমার্কেট মোড়, চকবাজার, বড়পোলসহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছাত্ররা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা যেখানে–সেখানে যাত্রীবাহী গাড়ি দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। কারো রাস্তা পার হতে সমস্যা হলে গাড়ি থামিয়ে পারও করে দেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট না থাকলে পরবর্তীতে হেলমেট পরার পরামর্শ দেন। এছাড়া অনেক জায়গায় ঝাঁড়ু দিয়ে রাস্তাও পরিষ্কার করছিল তারা। সাফ করেন ময়লা-আবর্জনা। এ বিষয়ে ছাত্ররা জানান, ‘লাখো ছাত্র-জনতার অর্জিত দেশ,রাখবো মোরা ক্লিন বাংলাদেশ’ স্লোগানে তারা সড়ক পরিষ্কার ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম শুরু করেন।
২ নম্বর গেইটে সালাম নামে এক ছাত্র বলেন, শহরে এ মুহূর্তে ট্রাফিক পুলিশ নেই। সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। এক ছাত্র বলেন, স্বেচ্ছায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। নগরবাসীকে একটা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে চাই। সুমাইয়া রহমান নামে এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু এখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নেই তাই আমরা নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামের সড়ক এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নেমে এসেছি।
চকবাজার গোলজার মোড়ে দেখা গেছে, গাড়ি থামিয়ে পথচারী পারাপারে সহযোগিতা করছেন ছাত্ররা। এসময় পারভেজ নামে এক পথচারী বলেন, ছাত্ররা তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। এতে তারা তাদের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। এখন তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা সবকিছু সুন্দরভাবেই ম্যানেজ করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চমেক হাসপাতালে কারাবন্দী ক্যানসারাক্রান্ত আ.লীগ নেতার মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী এই নেতা ক্যানসারে ভুগছিলেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত আবদুর রহমান মিয়া (৭০) চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ পূর্ব মহুরী পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এদিকে আবদুর রহমান মিয়ার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ আবদুর রহমান মিয়াকে গ্রেফতারের পর গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। তিন সপ্তাহ চিকিৎসার পর ১৮ জানুয়ারি তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৬ জানুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, দুই মাস আগে উনি (আবদুর রহমান মিয়া) কারাগারে আসেন। বয়স ৭০ হয়ে গেছে। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তবে মূল সমস্যা ছিল ফুসফুসের ক্যানসার। কারাগারে আসার পর থেকে তিনি প্রায়ই হাসপাতালে ছিলেন। শনিবার তিনি মারা গেছেন।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে: মির্জা ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষিত বেকারদের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

মহাসচিব বলেন, আমরা যা বলি তা কাজে করে দেখাই। বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আপনাদের সঙ্গে রয়েছি, নির্বাচন হেরেছি কিন্তু আপনাদের ছেড়ে কখনো চলে যাইনি। বিজয়ী হয়েছি, আপনাদের সঙ্গে ছিলাম কাজ করেছি। তাই অন্য যে প্রার্থী রয়েছে তাদেরকে আপনারা ভোট দেবেন না কি আমাকে দেবেন সেটি আপনাদের বিবেচনায় রেখে দিলাম।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছেন সৎ থাকবেন সততার সঙ্গে দেশের কাজ করবেন। এক সময় দেশে আওয়ামী লীগের শেখ মুজিব ছিলেন, সে সময় দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তাদের ব্যর্থতার জন্য সেদিন দেশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশটাকে আবার ওপরের দিকে তুলে নিয়ে এসেছেন। বিএনপি শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে হিন্দু-মুসলিম সকলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ