ছাত্রদেরকে রাষ্ট্রের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে- একরাম হোসেন

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছাত্রদেরকে রাষ্ট্রের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে’ এই মন্তব্যটি করেছেন সুজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরাম হোসেন।
‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার চাই’ এই শ্লোগানে শুক্রবার (৯ আগষ্ট) বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সুজন উপজেলা কমিটি আয়োজিত সম্প্রীতি মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একরাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ন্যায্যতার জন্য, ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চলছিলো। কোটা সংস্কার আন্দোলন এমনি ন্যায্যতা ও ন্যায়ের অধিকার আদায়ের একটি আন্দোলন। সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার প্রথমে তাদেরকে গালমন্দ করেছে রাজাকারের বাচ্চা বলে। দ্বিতীয়বার সেই স্বৈরাচারি দলের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুন্ডাপান্ডাদের লেলিয়ে দিয়ে বিড়াল যেমন গর্ত থেকে ইঁদুরকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বেড়ায় ঠিক তেমনি তারা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়গুলোর হল থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে খুঁজে বের করে শতশত শিক্ষার্থীদেরকে আহত করেছে, নিগৃহীত করেছে, অপমানিত করেছে। সেই অবমাননার স্বীকার হয়ে যখন তারা ফুঁসছিলো তখনই সরকার প্রধান তাদেরকে অপমানজনক কথা বলেছে। তার বিরুদ্ধে সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও জনসাধারণ ফুঁসে উঠেছে এবং তার এই পরিণতি আমরা দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাদের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছিলো কিন্তু এই আন্দোলনের সময় তাঁদেরকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়ার পরে তাঁরা একটি সভায় বলে দেয় মানবাধিকার ও সংবিধান অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের পাশে থাকবেন। সেনাবাহিনী যখন বললো তারা কাউকে গুলি করবেনা, পুলিশের গুলি শেষ হয়ে যায়। সেই সময় দেখলাম ঢাকা শহরের হাজার হাজার রিক্সাচালক, জনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তখনই সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে গণভবনের পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করতে পেরেছি। তারপর একটি পক্ষ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর করেছে। স্বাধীনতার স্মারকগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে। বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। তাদের প্রতি আহবাণ রইলো একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার।
গৌরীপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সম্প্রীতির মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলশেষে পৌর শহরের উত্তর বাজার, মধ্যবাজার ও কালীখলা এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুজন গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল হাসনাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন তসলিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন-আল-বারী, বাসদ গৌরীপুর উপজেলার সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম, উদীচী গৌরীপুর সংসদের সভাপতি ওবায়দুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হাসান অনয়, প্রভাষক সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষক উজ্জ্বল রবিদাস, ছাত্র ইউনিয়ন উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন ও হারুন পাঠাগারের সত্ত¡াধিকারী মোঃ হারুন মিয়া প্রমুখ।
পথসভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্যাতিত এনামুল হাসান অনয়, অর্পিতা কবীর এ্যানি ও আফরোজা আক্তারকে সংবর্ধনা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও জানা যায়নি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তবে কখন, কীভাবে কেন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিকের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলাদা আলাদা রুমে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। পরে তিনি থানা পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা সিআইএমসি’র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কলেজ কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন সেলিব্রেশন’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের পেপারওয়ার্ক শুরু হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকার, দাতা সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এছাড়া একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে দৈনিক গড়ে ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। সেই সঙ্গে গত আট বছর ধরে সুনামের সঙ্গে নার্সিং কলেজও পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং সিআইএমসির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ইসি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও একাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) গঠন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের বিশ্বমঞ্চে অবস্থান সুদৃঢ় করা। কারণ অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া বাংলাদেশের কোনো মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বহির্বিশ্বে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ পাবেন না। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ প্রায় সব প্রতিবেশী দেশ এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

২০২৬ সালের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান বিএমইএসি স্বীকৃতি পাবে না, তাদের কোনো শিক্ষার্থী দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা ও প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এজন্য দেশের ১২৪টি সরকারি-বেসরকারি ও আর্মি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি কলেজ আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দফায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং দ্বিতীয় দফায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পায়।

তৃতীয় দফায় স্বীকৃতি পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এর মাধ্যমে দেশে মোট বৈশ্বিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়ালো আটটিতে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিআইএমসি প্রতিষ্ঠার ১৩তম বর্ষ অতিক্রম করছে। এরই মধ্যে কলেজের উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১৫টি দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। বর্তমানে কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। যেখানে ২১টি বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। প্রায় সময়ই শয্যা পরিপূর্ণ থাকায় এর অভাবে রোগী ফেরত দিতে হয়। এই হাসপাতালে ১০ শতাংশ রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ