আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের যোগদান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিলেন রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। চবক চেয়ারম্যান পদে যোগদানের পূর্বে তিনি বিএন ফ্লিট এর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
জানা গেছে, রিয়ার এডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামান কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে ডিসটিংশনসহ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে একজন অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদানের পর ১৯৯০ সালে নির্বাহী শাখায় কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন অপারেশনাল এসাইনমেন্টে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
দীর্ঘ ও বহুমুখী চাকুরী জীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ, প্রতিষ্ঠান ও নৌসদর দপ্তরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। নৌবাহিনীতে তাঁর কর্ম জীবনের অগ্রগতির সাথে সাথে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগশীপ বিএনএস বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্রন্ট লাইন জাহাজের কমান্ড করেন। এছাড়াও তিনি অগ্রগামী কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ওয়েস্টার্ন ফ্লোটিলা কমান্ড করেছেন। ডিরেক্টর পারসোনেল সার্ভিস (ডিপিএস), ডিরেক্টর ব্লু ইকোনমি (অ্যাডহক) এবং ডিরেক্টর নেভাল ট্রেনিং (ডিএনটি) হিসেবে তিনি নৌ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিইডব্লিউ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেনা কল্যাণ সংস্থার ডিজিএমআইএস, কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চীফ স্টাফ অফিসার হিসেবে সফল ছিলেন তিনি।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দেশে বিদেশে বেশ কিছু প্রফেশনাল কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি জার্মান নেভাল একাডেমি, পিএন কমিউনিকেশন স্কুল (পাকিস্তান), তুর্কী আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কলেজ এবং ইউএস নেভাল কমান্ড কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট। ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ মিরপুরের প্রাক্তন ছাত্র রিয়ার এডমিরাল মনিরুজ্জামান তুরস্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যথাক্রমে দুইটি করে মাস্টার্স ও ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন। জাতিসংঘের অধীনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিনটি প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠির নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ইন্দোনেশিয়ায় বহুজাতিক শান্তিরক্ষী কমান্ড পোস্ট এক্সারসাইজ (এঅজটউঅঝঐওঊখউ) এ অংশ গ্রহণের পর ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লিট কমান্ডারদের সম্মেলনে অগ্রগামী কমফ্লোট ওয়েস্ট হিসেবে যোগদান করেন।
কমফ্লোটে দুর্দান্ত অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে অসাধারন সেবা পদক (ওএসপি) লাভ করেন রিয়ার এডমিরাল এস.এম মনিরুজ্জামান। তিনি কৃতিত্বের সাথে ১২ বছর সী সার্ভিস সম্পন্ন করেন । তিনি তুর্কি, জার্মান, ফরাসী ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ। একজন পাঠ অনুরাগী হিসেবে লিডারশীপ বা নেতৃত্ব তাঁর আগ্রহের বিষয়। ব্যক্তি জীবনে তিনি মিসেস আইরিন জামান এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ এবং মুহতাসিম ইয়াসার ও সারান ইয়াসার- দুই পুত্র সন্তানের গর্বিত জনক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে : মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরে বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন তিনি।পরিদর্শনকালে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চলমান খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছ থেকে জেনে নেন। মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর আওতাধীন খাল সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।বিশেষ করে হিজরা খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

মেয়র বলেন, এসব উন্নয়ন কাজ চলমান থাকার কারণে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সিডিএ’র খাল সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমেই নগরীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিদর্শনকালে চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ