আজঃ বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬

বোয়ালখালী পানি প্রকল্পের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ওয়াসা

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের শিল্পাঞ্চলগুলো পানির সংযোগে আগ্রহ দেখালে ও এখন ২টি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বোয়ালখালী ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্পের ৬ কোটি লিটার পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকায় ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শুরু করে। আগামী অক্টোবর,নভেম্বর মাসে এই প্রকল্প উৎপাদনে আসবে। প্রকল্পের মেয়াদ আর এক দফা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে বলে প্রকল্প পরিচালক সূত্রে জানা গেছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, সিইউএফএল, কাফকো ও পটিয়া ইন্দ্রপোলের লবণ কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চল গুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ করা। প্রকল্পের শুরুতেই চট্টগ্রাম ওয়াসা দেশি বিদেশি এসব শিল্পজোন ও কারখানা গুলোকে ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে সুপেয় পানি নেয়ার জন্য চিঠি দিলে সবকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু এখন প্রকল্পের কাজ শেষে (প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ) চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এসব শিল্পজোন ও কারখানা কর্তৃপক্ষকে পানির সংযোগের জন্য চিঠি ইস্যু করলে এখনো পর্যন্ত কাফকো এবং ড্যাপ (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট কারখানা) ছাড়া আর কোনো শিল্পজোন এবং কারখানা ওয়াসার চিঠির উত্তর দেয়নি বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবর,নভেম্বর মাসে এই প্রকল্পের পানি উৎপাদনে আসবে। এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। এখন শুধুমাত্র কালারপোলে সেতুর পাশে একটি রিভার ক্রসিং ছাড়া (কালারপোলে সেতুর পাশে শিকলবাহা খালের তলদেশসহ ৮০ মিটার পাইপ লাইন স্থাপন কাজ চলছে) অন্যান্য সব কাজ শেষ হয়েছে। খালের ৮০ নিচ দিয়ে পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়া অনেক জটিল কাজ। এই কাজটি করতে একটু সময় লাগছে। এই প্রকল্পের প্রথম সংযোগ দেওয়ার কথা ছিল কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, সিইউএফএল, কাফকো ও পটিয়া ইন্দ্রপোলের লবণ কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগুলোতে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এলেও এখনো পর্যন্ত সিইউএফএল এবং ড্যাপ কারখানা ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরুতেই আমরা আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়ার দেশি,বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্প থেকে পানি নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তখন কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, কাফকোসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পানি নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। এখন আমরা সংযোগ নেয়ার জন্য চিঠি দিলে দুটি প্রতিষ্ঠান (সিইউএফএল এবং ড্যাপ কারখানা) ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে ছোট,বড় মোট ১৩টি বাণিজ্যিক সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল চট্টগ্রাম ওয়াসার। এই শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রতিদিন ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের টার্গেট রয়েছে ওয়াসার। আর ২ কোটি লিটার দেয়া হবে বোয়ালখালী,পটিয়ার আবাসিক গ্রাহকদের মাঝে। এখনো পর্যন্ত পটিয়ায় ৫ থেকে ৬শ’ আবাসিক গ্রাহকের সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে অপরদিকে বোয়ালখালীতে ৬০ থেকে ৭০টির মত আবাসিক গ্রাহকের সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং কোরিয়ান এঙ্মি ব্যাংকের সাথে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে পুনরায় সমীক্ষা শেষে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে তা ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়। কোরিয়ান এস্কিম ব্যাংকের সাথে নতুনভাবে চুক্তি সম্পাদনের পরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে কোরিয়ান এস্কিম ব্যাংক ৮২৫ কোটি টাকা ও অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে গহীন পাহাড় থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার, চাঞ্চল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পুতনের একাশি বাগান সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় একটি মাথার খুলি ও মানবদেহের হাড় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি মাথার খুলি, পায়ের হাড়ের অংশ, একটি ব্যাগ এবং ব্যাগের ভেতর থাকা একটি টুথব্রাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কঙ্কালের অবস্থা দেখে তাদের ধারণা, ঘটনাটি প্রায় ছয় মাস আগের।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছি। কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কঙ্কালটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিলেও পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামে যুবককে পেটানোর পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় চুরির অভিযোগে যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। রোববার দুপুরে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ