জামালপুর:

জামালপুরের বকশীগঞ্জে চেয়ারম্যানের কাজে মেম্বারদের বাধা-প্রশাসনের সহায়তা চাইলেন চেয়ারম্যান

কামরুজ্জামান কানু জামালপুর:

বকশিগঞ্জ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকার দেশের জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ,সিটিও পৌর মেয়রদের প্রজ্ঞাপন জারি করে অপসারণ করলে ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি, যদিও পরবর্তী যাচাই-বাছাই করে ব্যাবস্হা বলে জানিয়েছেন স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ১-নং ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কাজে বাধাঁ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেম্বারদের বিরুদ্ধে। পরিষদে যেতে চেয়ারম্যানকে বাধাঁ দিচ্ছেন মেম্বাররা। চেয়ারম্যানের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে লাঠিসোঠা নিয়ে পরিষদে অবস্থান করছেন মেম্বার ও তাদের অনুসারীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবত কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বন্ধ চলে আসছে। গত কয়েক মাস আগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা দেন ১১ জন ইউনিয়নের সদস্যরা। কিন্তু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব না মঞ্জুর করে দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। এরপর গত ৫ জানুয়ারি সরকার পতনের পর ইইনিয়নের সদস্যরা আবারো চেয়ারম্যানের অপসারনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন মেম্বাররা। এরপরেও নিয়মিত অফিস করছিলেন তিনি। গত বুধবার সকালে চেয়ারম্যানকে প্রতিহত করতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা তাদের লোকজন নিয়ে লাঠি সোটা'”সহ পরিষদে অবস্থান নেয়। এতে করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে পরিষদে যেতে পারেনি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অহনা জিন্মানাতের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।

সংবাদ সম্মেলনে ইউ”পি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি বলেন, আমি জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করি। ২০ আগস্ট ইউনিয়ন পরিষদের যাওয়ার পথে খবর পাই প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল, ইউপি মেম্বার সুমন, লাবনী আক্তার, হোসনে আরা, সামিউল হক, নুরুল আমিন ও সাইফুল ইসলাম সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ও চারপাশে অবস্থান করছে। আমি সেখানে গেলে আমার উপর হামলা করা হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আমাকে পরিষদে যেতে নিষেধ করেন। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশে বাধা প্রদান করে আমাকে পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। এছাড়াও তারা আমাকে দায়িত্ব পালনে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে।
চেয়ারম্যান আরো বলেন,অনৈতিক সুবিধা না পাওয়ায় একটি মহল দীর্ঘদিন যাবত তার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে আসছে। তারা ইউপি মেম্বারদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এর আগেও মেম্বাররা অনাস্থা দিয়েছিল। মেম্বারদের সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব না মঞ্জুর করে দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। এখন নতুন করে তারা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। চাইলে আমি পরিষদে যেতে পারি। এলাকার সকল সাধারণ জনগন আমার সাথে রয়েছে। তারা বাধাঁ দিয়ে আমাকে আটকাতে পারবে না। কিন্তু আমি আসলে সংঘাত চাই না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন,মেম্বাররা সকলেই নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। মেম্বার এবং তাদের স্বজনদের নামে সরকারি বিভিন্ন ভাতার কার্ড রয়েছে। নিজেরা দুর্নীতি করে আমাকে দুর্নীতিবাজ বলছে। আমি কোন দুর্নীতি বা অনিয়মের সাথে জড়িত নই। র্দুর্নীতির কোন প্রমান দিতে পারলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো। যতদিন দায়িত্বে আছি কাজ করে যেতে চাই। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানকে ভুমিদস্যু ও দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে মেম্বাররা বলেন, দাবি একটাই চেয়ারম্যানের অপসারণ। চেয়ারম্যানকে কোনভাবেই পরিষদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন তারা।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অহনা জিন্নাত বলেন, চেয়ারম্যানের অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।পোস্টে হামলার পেছনে ‘সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করায় শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পরও বিতর্ক থামেনি।

একদিকে এপোস্টকে নিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ একাধিক নেতা জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে ‘ডিপ প্ল্যান’ খোঁজার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, শিবির-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের পক্ষের পোস্টও যথেষ্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপি ছাড়লেন মাহমুদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দল ছাড়লেন এনসিপি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ইব্রাহিম মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই নিজের ফেসবুকে আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমি ইব্রাহিম মাহমুদ, যুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কুলাউড়া উপজেলা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ