আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি পানিবন্দি ২ লাখের বেশি মানুষ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এক টানা বর্ষণে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় দুই লাখেরও বেশী মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। হালদা ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশঃ অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গত বুধবার থেকে চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হতে শুরু করে। বুধবার রাতভর এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টানা অতি ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ। এর

বাইরে আরও বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আরও ৫০ হাজার থেকে অন্তঃত এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৯০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ইলিয়াছ চৌধুরী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় এক লাখ ষাট হাজার মানুষ এ মুহুর্তে পানিবন্দি আছেন। এর মধ্যে ফটিকছড়ি ও মীরসরাইয়ে আক্রান্ত গ্রামের সংখ্যা বেশি। তিন উপজেলায় ১১২টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া রাউজান, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে আছে। ফসলের ক্ষেত, পুকুর, মাছের খামার তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফটিকছড়ি থেকে হেঁয়াকো রামগড় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া মিরসরাই উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে পানি উঠে গেছে। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হিঙ্গুলী, বারইয়ারহাট পৌরসভা, মিরসরাই পৌরসভা, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বারইয়ারহাট-রামগড় সড়ক ও জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তরের ছয়টি ইউনিয়ন। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। পানি স্রোতে ভেঙে গেছে উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের সিকদার খালের স্লুইসগেট। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
জানা গেছে, রাউজান উপজেলার পশ্চিম নোয়াপাড়া, মোকামীপাড়া, সাম মাহালদারপাড়া, ছামিদর কোয়াং, কচুখাইন, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, সওদাগরপাড়া, সুজারপাড়া, পূর্ব উরকিরচর, খলিফার ঘোনা ও বৈইজ্জাখালি, বাগোয়ান, পশ্চিম গুজরা, গহিরা, নোয়াজিশপুর, চিকদাইর, ডাবুয়াসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হাটহাজারী উপজেলার বন্যায় প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে বুড়িশ্চর, শিকারপুর, গড়দোয়ারা, দক্ষিণ মাদার্শা, উত্তর মাদার্শা, মেখল, পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ড, নাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী।

বোয়ালখালী উপজেলার কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম, উপজেলা সদর, সারোয়াতলী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় গ্রামীণ সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পুকুর, মাছের খামারও তলিয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন চাষীরা।
এদিকে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ও কর্ণফুলী নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় কালুরঘাটে ফেরি চলাচল দুইদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ লোকজনের গন্তব্যে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৩১৭৫ পরিবার, মিরসরাই উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ১২ হাজার পরিবার এবং সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৬টি উপদ্রুত ইউনিয়নে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে।
সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার ২০০ ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে একটি করে মোট ২০০টি, ১৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে মোট ৭৫টি, ৯টি আরবান ডিসপেন্সারির প্রত্যেকটিতে ১টি করে মোট ৯টি, ১টি স্কুল হেলথ ক্লিনিকে ১টি ও জেলা সদর হাসপাতালে (চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল) পাঁচটি মেডিকেল টিমসহ সর্বমোট ২৯০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ওষুধ, স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ আছে। ইতোমধ্যে মেডিকেল টিমগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমুন নবী বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য, তাতে চট্টগ্রামে তিনটি উপজেলা মূলত সরাসরি বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও ফটিকছড়ি। তিনটি উপজেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পঞ্চাশ মেট্রিকটন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। ১৩৭টি মেডিকেল টিম সেখানে কাজ করছে। এছাড়া ২৩৯টি স্বেচ্ছাসেবক টিম দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে। শহরে এবং উপজেলায় পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যাবার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ