চট্টগ্রামে মধ্যরাতে পাহাড় কাটার মহোৎসব

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মধ্যরাতে জমে উঠেছে পাহাড় কাটার উৎসব। রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার পেছনে ভেড়া ফকির পাহাড়টি গভীর রাতে স্কেভেটর এনে কাটা হচ্ছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে জনৈক কাশেম শাহ প্লট তৈরি করতে এখন এ পাহাড় কাটছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছরের জুন মাসে ঈদুল আজহার বন্ধের সময় পাহাড়টি কাটতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের (মেট্টো) পরিদর্শক মনির হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখবো। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার পেছনে ভেড়া ফকির পাহাড়টির অবস্থান। এ পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক অংশ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে একটি স্কেভেটরও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, পাহাড়ের অর্ধেক অংশের ‘মালিক’ জনৈক কাশেম শাহ। গত কয়েকদিন আগে তিনি একটি স্কেভেটর নিয়ে আসেন। মধ্যরাতে ওই স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে পাহাড়টির কিছু অংশ কাটা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, দুই বছর আগেও স্কেভেটর দিয়ে পাহাড়টি কাটা হয়েছিল। ওই সময় জেলা প্রাশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত স্কেভেটর জব্দ করেছিল। এরমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে মালিকানা। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও গত দুই তিন দিন ধরে পাহাড়টি ফের কাটা শুরু হয়েছে। জনৈক কাশেম শাহ লোক দিয়ে পাহাড়টি কাটছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় কাশেম শাহের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কাশেম শাহ নই। আপনি ভুল নম্বরে ফোন করেছেন’। এ কথা বলেই মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। পরে আরো কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি আর ধরেননি।

করেরহাটে মাদকের ছোবল, দিশেহারা যুবসমাজ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাদকের ভয়াল ছোবলে দিশেহারা করেরহাটের যুবসমাজ। হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে পছন্দসই মাদক। পাড়া-মহল্লায় মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রকাশ্যে চলছে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়। গত মাস থেকে জমে উঠেছে এখানকার মাদক বিকিকিনির স্পট। বর্তমানে থানা পুলিশের আনাগোনা না থাকায় এমনকী রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ মাদক কারবারীরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে।
এখানকারে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, অপসংস্কৃতি ও মাদকের ছোবলে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে এখানকার যুবসমাজ। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা নেশায় আসক্ত হচ্ছে, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়ঙ্কররূপ ধারণ করছে তারা। আর এর পেছনে কারণ হিসেবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্নস্থাানে প্রকাশ্য গড়ে উঠেছে মাদক বিকি কিনির আখড়া। করেরহাট ফরেষ্টঅফিস ওয়াপদা মাঠ, ফরেষ্ট বাংলো সংলগ্ন ব্রিজ, বিলিজার পাড়ার টাওয়ারের নিচে, বড় থলী, াদেক কোম্পানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, হাবিলদার বাসা, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, লক্ষীছড়া, দক্ষিন অলিনগর আবাসন, পশ্চিস অলিনগের লিচুতলা, কালা ঘোনা, বদ্ধ,ভবানীসহ বিভিন্ন স্পট মাদক বিকি কিনি চলছে। কয়েখটি সিন্ডিকেট এই মাদক ব্যভসা নিয়েন্ত্রণ করছে। বর্তমানে এদের মুল ব্যবসা মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়। একই সাথে গত মাস থেকে এরা করেরহাটের বিভিন্ন দোকানে আগুন,চুরি,লুটপাটসহ সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন করেছে।
স্থানীয়রা জানান, গেড়ামারা, ফরেষ্টঅফিসের ডল মিয়ার পুত্র মোঃ আলমগির, মোঃ হারুন মিয়ার পুত্র মাসুদ কালা, বাট্টি হুজুরের পুত্র রহমতউল্ল্যাহ রনি, কালাম সওদাগরের পুত্র মো. জাফর, মোঃ লোকমানের পুত্র মোঃ সাদ্দামসহ কয়েকজন। এছাড়া ছত্তরুয়ার হকসাব, দক্ষিন অলিনগরের বাবলু, রফিক মেম্বারের পুত্র রনি, বড়থলীর নুর হোসেন, মো. রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন, হাবিলদারবাসার মো. রানা অন্যতম। এসব সিন্ডিকেট নিয়েন্ত্রণ করছেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের মিয়া সওদাগর। যিনি করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে মিয়া সওদাগরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, তুহিন ও আনাস নামের দুই তরুণকে আটক করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়।

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ