আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে মধ্যরাতে পাহাড় কাটার মহোৎসব

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মধ্যরাতে জমে উঠেছে পাহাড় কাটার উৎসব। রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার পেছনে ভেড়া ফকির পাহাড়টি গভীর রাতে স্কেভেটর এনে কাটা হচ্ছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে জনৈক কাশেম শাহ প্লট তৈরি করতে এখন এ পাহাড় কাটছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছরের জুন মাসে ঈদুল আজহার বন্ধের সময় পাহাড়টি কাটতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের (মেট্টো) পরিদর্শক মনির হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখবো। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার পেছনে ভেড়া ফকির পাহাড়টির অবস্থান। এ পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক অংশ ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে একটি স্কেভেটরও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, পাহাড়ের অর্ধেক অংশের ‘মালিক’ জনৈক কাশেম শাহ। গত কয়েকদিন আগে তিনি একটি স্কেভেটর নিয়ে আসেন। মধ্যরাতে ওই স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে পাহাড়টির কিছু অংশ কাটা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, দুই বছর আগেও স্কেভেটর দিয়ে পাহাড়টি কাটা হয়েছিল। ওই সময় জেলা প্রাশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত স্কেভেটর জব্দ করেছিল। এরমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে মালিকানা। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও গত দুই তিন দিন ধরে পাহাড়টি ফের কাটা শুরু হয়েছে। জনৈক কাশেম শাহ লোক দিয়ে পাহাড়টি কাটছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় কাশেম শাহের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কাশেম শাহ নই। আপনি ভুল নম্বরে ফোন করেছেন’। এ কথা বলেই মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। পরে আরো কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি আর ধরেননি।

করেরহাটে মাদকের ছোবল, দিশেহারা যুবসমাজ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাদকের ভয়াল ছোবলে দিশেহারা করেরহাটের যুবসমাজ। হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে পছন্দসই মাদক। পাড়া-মহল্লায় মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রকাশ্যে চলছে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়। গত মাস থেকে জমে উঠেছে এখানকার মাদক বিকিকিনির স্পট। বর্তমানে থানা পুলিশের আনাগোনা না থাকায় এমনকী রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ মাদক কারবারীরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে।
এখানকারে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, অপসংস্কৃতি ও মাদকের ছোবলে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে এখানকার যুবসমাজ। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা নেশায় আসক্ত হচ্ছে, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়ঙ্কররূপ ধারণ করছে তারা। আর এর পেছনে কারণ হিসেবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্নস্থাানে প্রকাশ্য গড়ে উঠেছে মাদক বিকি কিনির আখড়া। করেরহাট ফরেষ্টঅফিস ওয়াপদা মাঠ, ফরেষ্ট বাংলো সংলগ্ন ব্রিজ, বিলিজার পাড়ার টাওয়ারের নিচে, বড় থলী, াদেক কোম্পানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, হাবিলদার বাসা, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, লক্ষীছড়া, দক্ষিন অলিনগর আবাসন, পশ্চিস অলিনগের লিচুতলা, কালা ঘোনা, বদ্ধ,ভবানীসহ বিভিন্ন স্পট মাদক বিকি কিনি চলছে। কয়েখটি সিন্ডিকেট এই মাদক ব্যভসা নিয়েন্ত্রণ করছে। বর্তমানে এদের মুল ব্যবসা মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়। একই সাথে গত মাস থেকে এরা করেরহাটের বিভিন্ন দোকানে আগুন,চুরি,লুটপাটসহ সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন করেছে।
স্থানীয়রা জানান, গেড়ামারা, ফরেষ্টঅফিসের ডল মিয়ার পুত্র মোঃ আলমগির, মোঃ হারুন মিয়ার পুত্র মাসুদ কালা, বাট্টি হুজুরের পুত্র রহমতউল্ল্যাহ রনি, কালাম সওদাগরের পুত্র মো. জাফর, মোঃ লোকমানের পুত্র মোঃ সাদ্দামসহ কয়েকজন। এছাড়া ছত্তরুয়ার হকসাব, দক্ষিন অলিনগরের বাবলু, রফিক মেম্বারের পুত্র রনি, বড়থলীর নুর হোসেন, মো. রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন, হাবিলদারবাসার মো. রানা অন্যতম। এসব সিন্ডিকেট নিয়েন্ত্রণ করছেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের মিয়া সওদাগর। যিনি করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে মিয়া সওদাগরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মামলাশ ৭ জন গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে মোঃ হাসেম আলীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, মারধর ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চালিতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাসেম আলীর ওপর পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ শিবালয় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—১. মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), পিতা: আফছার উদ্দিন
২. পাবেল বেপারী (৩০), পিতা: বরকত আলী
৩. আকিব বেপারী (২৪), পিতা: মজিবর বেপারী
৪. নাইম শেখ (২৮), পিতা: আলেম শেখ
৫. মিন্টু বেপারী (৪০), পিতা: মৃত তমেজ বেপারী
৬. বাসসা বেপারী (৫৫), পিতা: মৃত অছিমদ্দি বেপারী
৭. রওনক মোল্লা (১৯), পিতা: তাইজুল ইসলাম মোল্লা
পুলিশ জানায়, মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবালয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ