আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ গণধিকৃত দলে পরিণত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দোয়া মাহফিলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দীর্ঘ সাড়ে পনর বছর ধরে বিএনপির আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হাসিনা সরকার হত্যা ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছিল। আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের নামিয়ে দিয়ে সমগ্র দেশকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। কিন্তু ছাত্র জনতার দুর্বার প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আওয়ামী লীগের দাম্ভিকতা, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই তাদের পতন হয়েছে। আজকে আওয়ামীলীগ জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ গণ ধিকৃত দলে পরিণত হয়েছে। তাই আমাদেরকে জনগণের মন জয় করে চলতে হবে। স্বৈরাচারী হাসিনার পতনে প্রথমিক বিজয় অর্জন হলেও পরিপূর্ণ বিজয়ের জন্য নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে সফল হতে হবে।

তিনি সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদে আসর কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদে বিগত ১৫ বছরে আন্দোলন সংগ্রামে নিহত ও সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু, শারীরিক সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিগত ১৫ বছরে আন্দোলন সংগ্রামে ও সাম্প্রতিক বন্যায় মৃত্যুবরণকারীদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অসুস্থ নেতাকর্মীদের রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা এহসানুল হক।

এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

এসময় এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে দেশ এবং জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখেছে। এ কারণেই শত প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তবে দেশ বর্তমানে ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। তবে গণঅভুত্থানের সাফল্য নস্যাৎ করে দিতে স্বৈরাচারের দোসররা এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নাজিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে মুক্ত নিঃশ্বাস নেয়ার পরিবেশ। ছাত্র জনতার দুর্বার আন্দোলনে দেশ আজ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের সাহস ও দৃঢ়তায় গণমানুষের প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয়কে সংহত করে দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শান্তির সমাজ গড়তে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা এস কে খোদা তোতন, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দার মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আবুল হাশেম, মো. কামরুল ইসলাম, থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, হাজী বাবুল হক, মো. আজম, আবদুস সাত্তার সেলিম, হাজী হানিফ সওদাগর, আবদুল্লাহ আল হারুন, ডা. নুরুল আবছার, থানা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, হাজী বাদশা মিয়া, জসিম উদ্দিন জিয়া, মাঈনুউদ্দীন চৌধুরী মাঈনু, মনির আহম্মেদ চৌধুরী, আবদুল কাদের জসিম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব কামাল পাশা নিজামী, জাসাসের আহ্বায়ক এম এ মুছা বাবলু, সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন, তাঁতি দলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান টিটু, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক নুরুল হক, সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুল আজিজ প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রামে আরজেএ’র প্রকৃতি-আনন্দ ও বন্ধনের মিলনমেলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেঘে ঢাকা পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ আর সবুজের অবারিত সমারোহ বান্দরবান যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। এখানে প্রতিটি ভোর শুরু হয় কুয়াশার চাদরে, আর প্রতিটি সন্ধ্যা মুঠো ভরা প্রশান্তিতে। নীলগিরির চূড়া থেকে দূরে মেঘের ভেলা ভাসতে দেখা, ঝর্ণার ছন্দে মন হারানো সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি।

এই ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো বন্ধুত্বের উষ্ণতা। পথচলার ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়া, হাসি-আড্ডায় সময় কাটানো, স্মৃতির অ্যালবামে নতুন গল্প যোগ হওয়া—সবকিছু মিলেই বান্দরবান আরজেএ’র ট্যুর হয়ে ওঠেছে শুধু ভ্রমণ নয়, জীবনের এক টুকরো আনন্দ। প্রকৃতির কোলে বন্ধুত্বের এই মেলবন্ধন বারবার ডাক দেয় আবার ফিরতে।

বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনদিন দুই রাতের বান্দরবান ভ্রমণ-সফলতার সাথেই সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (আরজেএ)। রোমাঞ্চকর পিকনিকের পরিকল্পনায় মুগ্ধ সাংবাদিকরা। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, ঝর্ণার শীতলতা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়েছে সংগঠনটির একঝাক গণমাধ্যমকর্মী। প্রথম দিনের শুরুতেই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল বাসের টিকেট কেটে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় বান্দরবান শহরের বাস স্টেশনে পৌছে হালকা নাস্তা করে সাংবাদিকদের বহর ছুটে যায় বালাঘাটা বাজারের দিকে। সেখানে আগে থেকেই আয়োজকদের ঠিক করে রাখেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজের পুরো ভবন। ভবনে পৌছে যে যার পছন্দ মতো রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সবাই ফ্রেশ হতে হতে দৈনিক আইনবার্তার বান্দরবান প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী জুয়েল দুটি জিপ গাড়ি নিয়ে রেস্ট হাউজের সামনে এসে হাজির। বিশ্রামের আর সময় নেই, এবার শুধু ছুটে চলা। এরপর, রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে নিলাচল ও প্রান্তিক লেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। প্রান্তিক লেকের শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশে সাংবাদিকরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পান।

আর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিখ্যাত নিলাচল, ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সেই সময়ের সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলাশয় এবং সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। এদিনের ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় সদস্যরা রেষ্ট হাউজে ফিরে এসে দিনটি শেষ করেন। সেখানে রাতে একদিকে চলে ঘরোয়া পরিবেশে রান্নার আয়োজন। অন্যদিকে সবাই একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সময় কাটান। এরইমধ্যে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে খোজ খবর নিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোছাইন জিসান। এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাংবাদিক সংগঠন আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “এ ধরনের প্রকৃতি ভ্রমণ আমাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে। বান্দরবানের অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের অনেক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।” পিকনিকের প্রথম দিনটি ছিল শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে একযোগভাবে সম্পর্ক গড়ার এক অমূল্য সুযোগ। প্রথম দিনটির সফলতার পর, দ্বিতীয় দিন সকাল শুরু হয় একটি সুস্বাদু নাস্তায়। এরপর, সংগঠনের সদস্যরা জিপ ভাড়া করে বান্দরবানের এক ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থান নীলাগিরির উদ্দেশে রওনা দেন।

দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার স্থান নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে এসে থামেন গাড়ি। এর পর দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিক সংগঠনটির সদস্যরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ি অঞ্চল এবং সবুজের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। দুপুরে সেখানকার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে, সদস্যরা আবার বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। আসার পথে তাদের বহনকারী জিপ গাড়িটি থামেন শৈলপ্রভাতের দর্শনীয় স্থানে। শৈলপ্রপাত ঝর্ণা-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও শান্ত পরিবেশ সকলের মনকে আরও গভীর প্রশান্তি দিয়েছে। তাছাড়া সেখানে পাহাড়ি আদিবাসিদের ছোট্ট মার্কেট ঘুরে যে যার পছন্দমতো বাজার করার সুযোগ পেয়েছে। একইদিন বান্দরবান শহরে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন সন্ধ্যা ৭টা। বান্দরবানের অভিজাত রিসোর্ট মেঘদূত এ আবারও এক জাঁকজমকপূর্ণ ভোজনের আয়োজন করা হয়।

এসময় আরজেএ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বান্দরবান সেনা জোন এনসিও মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোহান। এরই মধ্যে নেতৃবৃন্দের সাথে চা চক্রের অঅগ্রহ প্রকাশ করে গাড়ি পাঠিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলাম চৌধুরী। পওে তাঁর অফিস ও বাসায় ২ দফা চলে চা আড্ডা ও ফটো সেশন। রাত ৯টার মধ্যে আবারও রেষ্ট হাউজে ফেরা এবং আগের দিনের মতোই হরেক রকম পদের ঘরোয়া রান্নায় হাত ও জিপ চেটে খাওয়া দাওয়া। সবশেষে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠে।

পরদিন ভ্রমনের শেষ শনিবার সকালে নাস্তা করে দুপুর ১২টায় বাসে করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দ্যেশে যাত্রা। এভাবেই প্রকৃতির মাঝে কাটানো দুটো দিন এবং একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে সবাই সত্যিই নবোদ্যম ও সজীব হয়ে ফিরে আসে। এ বিষয়ে আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এমন একটি ভ্রমণ আমাদের সকলকে একত্রিত করে, একে অপরের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দেয় এবং আমাদের মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।” এভাবে, এই তিন দিনের ভ্রমণটি শুধু একটি প্রকৃতিভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি পরিপূর্ণ রিফ্রেশমেন্ট, যেখানে প্রকৃতি, বন্ধুত্ব এবং আনন্দের সম্মিলন ঘটেছিল।

সংগঠনের সভাপতি দৈনিক সকালের সময়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে তিনদিনের বান্দরবান ভ্রমণে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন,দৈনিক দেশবার্তার স্টাফ রিপোর্টার এম আর আমিন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের নাছির উদ্দিন রকি, সকালের সময়ের সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ রেজা, শেখ মোরশেদ আলম, দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন ও জয় নিউজের বার্তা সম্পাদক রাজীব সেন প্রিন্স, দৈনিক আইন বার্তার ব্যুরো প্রধান আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের মোস্তফা জাহেদ, দৈনিক সাঙ্গুর মো. আলমগীর, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক জনবানী মো. এরশাদ,ডেইলি মনিং গ্লোরি রাকিব উদ্দিন,সিটিজি পোস্ট হাসান সৈকত, দৈনিক সোনালী কন্ঠ,পরিতোষ বড়ুয়া রানা,সময়ের কন্ঠস্বর গাজী গোফরান, আনিসুর রহমান ও মো. তৈয়ব চৌধুরী। সাংবাদিক কাজী জুয়েল শুরু থেকেই আমাদের সঙ্গে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সময় ও শ্রম দিয়ে পাশে ছিলেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ