আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে যাওয়াতা আফনান’র বিদেশ গমন

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জৈব রসায়ন ও জৈব প্রযুক্তির স্নাতক (সম্মান)ডিগ্রিধারী যাওয়াতা আফনান শারারা উচ্চ শিক্ষার্থে গত ২ আগস্ট’২৪ দিবাগত রাত ৩ টায় ফ্রান্সে গমন করেন।

তিনি ফ্রান্সের টুলুস ইউনিভার্সিটি হতে বাংলাদেশে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে উক্ত ইউনিভার্সিটির INSA ( National Institute of Science and Application) লেখাপড়া করবেন।

যাওয়াতা আফনান শারারা সম্প্রতি ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি হতে জৈব রসায়ন ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে তথা গড়ে ৯৯% নম্বর প্রাপ্ত হয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। তাছাড়া যাওয়াতা আফনান শারারা ২০২০ সনে ”এ লেভেল” পরীক্ষায় ১৪ টি বিষয়ের মধ্যে জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান সহ মোট ৫টি বিষয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাশ করেন। তৎপূর্বে ২০১৮ ইং সালে তিনি ”ও লেভেল” পরীক্ষায় ১ বিষয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ও ১ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত হন।

ইতোমধ্যে ২০২৩ সালে যাওয়াতা আফনান শারারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে পুরস্কৃত হন। সম্প্রতি তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি হতে স্নাতকে গড়ে ৯৯% নম্বর প্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সন্মান স্বরূপ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক যাওয়াতা আফনান শারারাকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

উল্লেখ্য, তিনি চট্রগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া থানার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের প্রাণপুরুষ মৃত আলহাজ¦ মোঃ ইসমাইল চেয়ারম্যান’র পঞ্চম পুত্র বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি মোঃ আমান উল্লাহ ও উক্ত এলাকার মির্জার্খীল দরবার শরীফের হযরত কেবলাগণের বংশধর শাহজাদী সানজিনা বেগম জেনী’র প্রথমা কন্যা। (সম্মান)

সময়ের স্বল্পতার কারণে যাওয়াতা আফনান শারারা আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খীগণের সাথে দেখা করতে পারেন নাই। তাই তিনি সবার নিকট দোয়া প্রার্থী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম # দ্বীপজেলার সেরা অর্জন ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহাতারকা দ্বীপান্তরের বন্দি নলিনী দাস আছে । বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আছে । আছে জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক । আছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ, আছে সব্যসাচী লেখক ও রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন সাজাহান । আছে ঢাকায় প্রথম স্মার্ট মেয়র নাজিউর রহমান মঞ্জু । বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বৃক্ষমঙ্গলের কবি নাসির আহমেদ আছে, এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত আছে ; আছে জ্ঞানীগুণী নামজাদা কতো মানুষ ।

অসংখ্য মন্ত্রী ছিলো, এমপি ছিলো ; ঝানু ঝানু নবীন প্রবীণ রাজনীতিবিদে ঠাসা এখনো পলিমাটির জেলা- বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা ।কিন্তু কখনো স্পিকার ছিলোনা ।এবার সেই অভাব পূরণ করলো লালমোহন তজুমদ্দিনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের অসম সাহসী বীরযোদ্ধা বীরবিক্রম মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বরিশালের কবি কুসুম কুমারী দাশের কবিতার সেই অমিয় পঙতি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে” হৃদয়ে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মানাসন *স্পিকার* নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে দিলেন জীবন্ত কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ, সুসাহিত্যিক সমাজপতি একাত্তরের রণাঙ্গনের তুমুল সেনানী মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ।

পিতা সাবেক এমপি ডাক্তার আজহার উদ্দিন আহমেদ এর ন্যায়ননীতি, সততা ও দেশপ্রেমের ধারাবাহক মেজর হাফিজ ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়ে যেমন রেকর্ড গড়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে তিনি ফের নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন । তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন ; দেশের মানুষও তাঁকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে । এই ভালোবাসাবাসির যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন গণতন্ত্রের ভূমিপুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান । ভোলার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে তিনি প্রথমে মুক্তিযুদধ বিষয়ক মন্ত্রী বানিয়েছেন, সততা ও যোগ্যতার বাছবিচারে জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন দিয়ে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রাম এবং সংগ্রামীকে অধিকতর সম্মানিত করেছেন ।্

১২ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মনোনীত হয়েছেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম । বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে ১১৭ ভোলা ৩ আসন থেকে সপ্তমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যেসব সামরিক কর্মকর্তা জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম তাঁদের অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা, সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত “বীরবিক্রম”, স্বনামধন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং একাধারে একজন লেখক— যাঁর জীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নদীবেষ্টিত বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের এই অঞ্চলটি ছিল শান্ত–সরল ও প্রকৃতিনির্ভর গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ এবং আত্মসম্মানে দৃঢ়। তাঁর পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতা তাঁকে দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তখনই সুস্পষ্ট হতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬৮ সালে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অফিসার হিসেবে তার সামরিক জীবনের সূচনা ঘটে। একজন অফিসার হিসেবে তিনি ছিলেন দৃঢ়, কর্তব্যনিষ্ঠ এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ তাঁর নেতৃত্বগুণকে আরও পরিণত করে।
১৯৭১ সাল—বাংলার ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বীরত্বময় অধ্যায়। সেই বছরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা শুরু করলে বাঙালি অফিসাররা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রথম সারির একজন ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন—এই বাহিনীতে থেকে নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে থেকেই যুদ্ধ করবেন। তিনি তাঁর ইউনিটের সৈন্যদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতিরোধে যুক্ত হন।
পরে তিনি পুর্ব পাকিস্তান প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট, কানাইঘাট, ধলাই—অসংখ্য যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশলী ভূমিকার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় অর্জন করে।

যুদ্ধের সময় তাঁর অসীম সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং অপার শান্ত–স্বভাবের নেতৃত্বে বহু অপারেশন সফল হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়—যা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। স্বাধীনতার পর সামরিক জীবনের পর্ব যুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্র নির্মাণের জটিলতা এবং সমাজ পুনর্গঠনে তাঁর অংশগ্রহণের ইচ্ছা তাঁকে ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে ভাবতে বাধ্য করে। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও দূরদর্শী করে তোলে, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় কাজে লাগে।

সামরিক জীবন শেষে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে যোগ দেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-তে । অল্প সময়েই তিনি দলের নীতি, সংগঠন ও নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। তিনি ভোলা ৩ আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি–জোট সরকারের সময়ে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ব্যবস্থাপনা—এই সবখাতে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেন, যা দেশব্যাপী আলোচিত হয়। তিনি ধীরে ধীরে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন—যা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্র, নির্বাচনব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদে, গণমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি সবসময়ই একজন যুক্তিসংগত ও দৃঢ়চেতা বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি উপযুক্ত প্রয়োজনে নিজ দল ও নেতৃত্বের সমালোচনা করতেও ছাড়েন না।

তিনি বারবার অকপটে বলেছেন দল ও মার্কা দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না করে ব্যক্তির যোগ্যতা সততা ও দেশপ্রেম দেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা উচিত।  প্রতিবশী দেশের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে ছাত্রসমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণের বারবার তাগিদ দেন তিনি যা আজ বাংলাদেশের জন্য বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছে।

রাজনীতিবিদ বা সামরিক কর্মকর্তা—এতেই তাঁর পরিচয় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি লেখক হিসেবেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সামরিক জীবনের নানা স্মৃতি, রাজনীতির জটিলতা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
রক্তেভেজা একাত্তর, সৈনিক জীবন : গৌরবের একাত্তর,রক্তাক্ত পঁচাত্তর, গণতন্ত্র রিমান্ডে, গৌরবাঙ্গনে ।
এইসব গ্রন্থে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা, ত্যাগ এবং মানবিকতার বিজয়কে অত্যন্ত সরল অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল এবং বাস্তবতার প্রতি নিষ্ঠ। রাজনীতির অভিজ্ঞতা ও সমকালীন সংকটও তাঁর লেখনীতে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে ।
ব্যক্তি মেজর হাফিজ ♦️

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ব্যক্তিজীবনে একজন নম্র, শান্ত ও মানবিক চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশ, মানুষ ও সংগঠন—এই তিনটিকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মনে করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, কৌশলী চিন্তাশক্তি এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অসংখ্য সৈনিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

উজ্জ্বল ইতিহাসের বীরযোদ্ধা মেজর হাফিজ ♦️
বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীর অফিসার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, লেখক—এই সব পরিচয়ের সমষ্টিই তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ “রাষ্ট্রচিন্তক” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদান, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘ পথচলা এবং লেখালেখির মাধ্যমে ইতিহাসকে সংরক্ষণ—সব মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁর জীবনপথ নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে—স্বাধীনতা শুধুই একটি দিনের অর্জন নয়; এটি রক্ষা, লালন এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সাহস, সততা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন ।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত হওয়ায় লালমোহন তজুমদ্দিন সহ পুরো দক্ষিণ বাংলায় আনন্দের জোয়ার বইছে ।

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার বাদে জুমা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স উন্নয়ন ও মুসল্লি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক অবিচল যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয়। চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়।তিনি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটি, স্বৈরাচার বিরোধী ৯০ গণ আন্দোলনে শহীদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করেন এন এম জে মহাবিদ্যালয়। জনগণের কল্যাণে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আজও চট্টগ্রামের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

দোয়া মাহফিলে মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। মুসল্লি পরিষদের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে মরহুম আব্দুল্লাহ আল নোমানের অবদান চট্টগ্রামবাসী আজীবন মনে রাখবে। তিনি এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগ আজও স্মরণীয়।চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান অনস্বীকার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই মসজিদটিকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান সেই স্বপ্নের সার্থক রূপ দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথি আবু সুফিয়ান বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনন্য এক নেতা। তিনি কেবল চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে এক কিংবদন্তি পুরুষ। তিনি শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন নেতাদের নেতা, আমাদের সবার অভিভাবক। চট্টগ্রামে ৮০’র দশকে যখন শহীদ জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে বিএনপি অনেকটা দূর্বল হয়ে গিয়েছিল। তখন বিএনপিকে পুনর্জাগরণ করেছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। নোমান ভাই শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাঁর সাহস, সততা এবং দেশপ্রেম আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো. মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মুসল্লি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুর রহমান, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, জাকির হোসেন, নুর হোসাইন প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ