আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ও তাঁর স্ত্রী  জেসমিন আকতার এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং চেয়ারম্যান দায়িত্বকালীন অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরমধ্যে ১ কোটি ৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৮৫ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। 

লিয়াকত আলী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ছিলেন। এস আলমের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে গিরে নানাভাবে আলোচিত সমালোচিত ছিলেন তিনি। 

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বলেন, দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা তৎসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামরাটি দায়েররকরা হয়েছে। 

 মামলার এজেহারে বলা হয়েছে, লিয়াকত আলীর  দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১,০৬,২৬,২৬২/- টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন এবং ২,৮৫,১৩,৬৬২/- টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬
(২) ও ২৭ (১) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া মোহাম্মদ লেয়াকত আলী  কর্তৃক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব কালীন অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রী আসামী জেসমিন আকতার এর নামে সম্পদ অর্জনের সহযোগিতা করায় দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২,৩৯,৭৫,০০০/- টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য ঘোষণা দেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তার নামে ১৬টি দলিল মূলে ২,৬৫,৫৫,৮৭৯/- টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য
পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে (২,৬৫,৫৫,৮৭৯-২,৩৯,৭৫,০০০) =
২৫,৮০,৮৭৯/- টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। অর্থাৎ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২৫,৮০,৮৭৯/- টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করায় দুর্নীতি দমন
কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে কোন অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেননি। তার
দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই/অনুসন্ধানকালে তার নামে (১) একটি প্রাইভেট কার যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-০৩৬২ মূল্য- ১১,৮০,০০০/- টাকা, (২) বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম হতে গত ২৯.০৬.২০২০ তারিখে রেজিস্ট্রেশন নং-২০২০০৩০৪২৫৯ মূলে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় ক্রয়- ৫,০০,০০০/- টাকা, (৩) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাঁশখালী শাখা, চট্টগ্রামের হিসাব
নং-৩২০৮-০৩১১০৭০০২৯ তে ব্যাংক হিসাব বিবরণী মোতাবেক প্রাপ্ত- ১,৩৯,৯৪৬/- টাকা, (৪) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, পাচঁলাইশ শাখা, চট্টগ্রাম এর হিসাব নং- ০২৩৬১২২০০০০১৫৫৬ তে ব্যাংক হিসাব বিবরণী মোতাবেক প্রাপ্ত- ১,০৪,৬১৫/- টাকা, (৫) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, পাচঁলাইশ শাখা, চট্টগ্রাম এর হিসাব নং-০২৩৬১১৮০০০০০০০৩ তে ব্যাংক হিসাব বিবরণী মোতাবেক প্রাপ্ত- ৩৭,২৯৩/- টাকা, (৬) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, বাঁশখালী শাখা, চট্টগ্রাম এর হিসাব নং-০১৮৭১৪১০০০০০২৫৮ তে ব্যাংক হিসাব বিবরণী মোতাবেক প্রাপ্ত-
৫১,৮৩,০৮৮/- টাকা, (৭) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, বাঁশখালী শাখা, চট্টগ্রাম এর হিসাব নং-
০১৮৭১২২০০০০৯০০৩ তে ব্যাংক হিসাব বিবরণী মোতাবেক প্রাপ্ত- ৪৪১/- টাকা ও (৮) ব্যবসায় বিনিয়োগ, ২০২৩-২৪ কর
বৎসরের আয়কর রিটার্ন মোতাবেক- ৯,০০,০০০/- টাকাসহ মোট = (১১,৮০,০০০+৫,০০,০০০+ ১,৩৯, ৯৪৬+১, ০৪, ৬১৫+
৩৭,২৯৩+৫১,৮৩,০৮৮+৪৪১+৯,০০,০০০) =৮০,৪৫,৩৮৩/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি
দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৮০,৪৫, ৩৮৩/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২৫,৮০,৮৭৯/- টাকার স্থাবর সম্পদ ও
৮০,৪৫,৩৮৩/- টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট (২৫, ৮০, ৮৭৯+ ৮০, ৪৫, ৩৮৩) = ১,০৬,২৬,২৬২/- টাকার সম্পদ অর্জনের
তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্যঅপরাধ করেছেন।

অন্যদিকে পর্যালোচনায় দেখা যায় জেসমিন আকতার ( ১) ব্যবসা হতে আয়
৬৬,৭৯,৩৩৩/- টাকা (২) কৃষি হতে আয় ৩৩,৯৭,১৯৭/- টাকা, (৩) ব্যাংক সুদ ৬,৪৪, ৩৩১/- টাকা ও (৪) অন্যান্য হতে
আয় ১৬,৭৩৯/- টাকাসহ তার নামে মোট (৬৬,৭৯, ৩৩৩+৩৩,৯৭, ১৯৭+৬, ৪৪, ৩৩১+১৬, ৭৩৯) = ১,০৭,৩৭,৬০০/-
টাকা আয় করেছেন। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তার উক্ত আয় গ্রহণযোগ্য মর্মে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সময়ে তিনি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ বাবদ মোট ৪৬,৫০,০০০/- টাকা ব্যয় করেছেন মর্মে তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেছেন। যাচাই/অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তার উক্ত ব্যয় গ্রহণযোগ্য মর্মে বিবেচনা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন
কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর দায়ের কলামে তিনি কোন দায়ের তথ্য প্রদান করেননি। এছাড়া দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই/অনুসন্ধানকালে দায়/ঋণ সংক্রান্ত কোন রেকর্ডপত্র দাখিল বা উপস্থাপন করেননি। বিধায় তার নামে কোন দায় নেই মর্মে
প্রতীয়মান হয় ।

যাচাই/অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় আসামী জেসমিন আকতার এর নামে ৩,৪৬,০১,২৬২/- টাকার
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে তিনি ৪৬,৫০,০০০/- টাকার পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় করেছেন। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ (৩,৪৬, ০১, ২৬২+৪৬,৫০,০০০) = ৩,৯২,৫১,২৬২/-টাকা। উক্ত সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ১,০৭,৩৭,৬০০/- টাকার। এক্ষেত্রে
তার অর্জিত সম্পদের চেয়ে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া যায় (৩,৯২,৫১,২৬২-
১,০৭,৩৭,৬০০) = ২,৮৫,১৩,৬৬২/- টাকার। অর্থাৎ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২,৮৫,১৩,৬৬২/- টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তাছাড়া আসামী জেসমিন আকতার দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২,৩৯,৭৫,০০০/- টাকার
স্থাবর সম্পদ অর্জন এবং কোন অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেননি মর্মে ঘোষণা দেন। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তার নামে ৩,৪৬,০১,২৬২/- টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে (৩,৪৬, ০১, ২৬২-২, ৩৯,৭৫,০০০) = ১,০৬,২৬,২৬২/- টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। অর্থাৎ আসামী দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১,০৬,২৬,২৬২/- টাকার
সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২,৮৫,১৩,৬৬২/- টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শান্তিযোগ্য
অপরাধ করেছেন। এছাড়া আসামী জেসমিন আকতার এর নামে তার স্বামী আসামী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী কর্তৃক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব কালীন অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রী জেসমিন আকতার এর নামে সম্পদ অর্জনের সহযোগিতা করায় দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

বাবার বন্ধুদের কাছে পেয়ে সম্মান জানাতে ভুললেন না প্রতিমন্ত্রী পুতুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি সফরে পাবনা এসে বাবার বাল্যবন্ধুদের সান্নিধ্যে আবেগতাড়িত হলেন প্রয়াত সমাজকল্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে ছুটে কাছে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন বাবার বন্ধুরা। এরপর পাবনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর তারুণ্য কেটেছে পাবনায়। তিনি পাবনার সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র। শহীদ আমিনউদ্দিনের মধ্য শহরের পুষ্পালয় নামক বাড়িতেই ফজলুর রহমান পটল থাকতেন ও ছাত্র রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সে সময়ের তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কয়েকজন জীবিত আছেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধে তার পিতার বন্ধুদের প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানান। পিতার বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বিনয় ও সম্মান দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, শুনতে পাই- ও আচ্ছা তুমি পটলের মেয়ে, পটল ভাইয়ের মেয়ে? আমার এগিয়ে যাবার প্রধান নিয়ামক আমার বাবা। আমার বাবা যাদের হাতে হাত মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন। আজ তাদের হাতের স্নেহের পরশ পেয়েছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের।

পাবনা প্রেসক্লাবের ঐহিত্য ও প্রয়াত সংবাদকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বিগত সময়ে আপনারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। আপনারা আমাদের পথ দেখান, ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন বলে আশা রাখি।

পাবনার প্রতি স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, পাবনা ও নাটোর লালপুরের মাটির গন্ধ একই। কারণ এই পাবনায় আমার শেকড় পোতা। সুতরাং নাটোর লালপুরের মত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবনাতেও লাগবে। পাইলটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে পাবনার হতদরিদ্র মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য সকল উন্নয়নে তিনি পাবনাবাসীর সাথে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।

 

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ