আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

যে জীবন কেরে নিলে, সে জীবনতো দিতে পারবেবা

একটি হত্যাকান্ড প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে

উপসম্পাদকীয় -কিরন শর্মা

আমরা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে প্রবেশ করছি নাতো?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হত্যাকান্ড প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে। দলবদ্ধ ভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে তাদের নিলর্জ উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছে। তাও আবার ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য লজ্জার। জাতি হিসেবে আমাদের মাথা হেট হয়ে গেছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এই হলের এরকম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে। যে হলের নাম বাংলার বাঘ শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নামের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। আমি যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু মাধ্যমিকে পড়াুয়া এক সহপাঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুবাদে অনেক সময় কাটিয়েছি হলে। আড্ডা দিয়েছি অনেক সময় ঐবন্ধুটির সাথে ফজলুল হক হলে । এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ড দেখে সেই বন্ধুটিও খুব কষ্ট পেয়েছেন বলে আমার মনে হয়। তোফাজ্জল হত্যায় যে বা যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করে সাজা দেওয়া উচিত। রাজনৈতিকভাবে কোন পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কিংবা দোষ চাপানোর চেষ্টা করে কোন লাব নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা কঠিন কাজ নয়। এরই মধ্যে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কেউ এগিয়ে না এলেও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হয়। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কি আমরা কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি। আমরা কি আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে প্রবেশ করছি? নাকি অতি উৎসাহী কিছু লোক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এসব করে চলেছে। নাকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর এসকল দ্বায় চাপিয়ে দেয়ার আয়োজন হচ্ছে। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আমাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেয়ার কথা বলেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একই দিনে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। একই দিন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আমরা সব সময় সোচ্চার। বিবেকের তাড়নায় তাড়িত শিক্ষার্থীরা ঠিকই এর প্রতিবাদ করেছে। বিচার চেয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটা সত্য। দেশ স্বাধীনের পরও কিছু বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতির জন্ম নেয়। এটিকে দীর্ঘ সময় জিইয়ে রাখা রাস্ট্র ব্যবস্হার জন্য হুমকিস্বরুপ। দায়িত্বপ্রাপ্ত রায়। অতীতে অপরাধ করে অনেকেই পার পেয়েছে। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শাস্তি পাওয়ার নজিরও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা, মনে হয় এটিই প্রথম ঘটেছে।জানতে পারলাম সেই ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।
আবার এ কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেটির মামাতো বোনের কাছে ২ লক্ষ টাকা মোবাইল ফোনে চেয়েছে কোন একজন। স্বাধীনতা পর যখন যে সরকার ছিল প্রত্যেকেই ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার কথা বলেছে। বিগত সরকারগুলো সে কথাটা কতটুকু পালন করেছে, তা আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা দেখেছি। আমরা কখনো কখনো কথা বলেছি। আবার কখনো কখনো গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করার কালা কানুন করার জন্য কথা বলতে পারিনি। । সব সময়ই আমাদের হাত চেপে ধরা হয়েছে। কালা কানুনের মাধ্যমে আমাদের কলম চলতে দেয়া হয়নি। একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার অন্যদিকে গণ মানুষের কথা বলতে গিয়েও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আইনের জন্য বলতে পারিনি। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকের তাড়নায় তাড়িত ছাত্ররা প্রতিবাদ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইন প্রয়োগকারি বাহিনীর কাছে তুলে দিয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে বলতে শুনলাম আবেগের তাড়নায় মেরেছি।আমরা যে জীবন দিতে পারি না, কেড়ে নিতেও পারিনা। একথা সবাইকে বুঝতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। এ মহাবিদ্যা পিঠের শিক্ষার্থীরাই বেশি রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছে বিগত দিনে । তোফাজ্জল হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অনেকটা নামিয়ে দিয়েছে মাত্র কজন ছাত্র। অপরাধের সাথে যেই জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে। দলীয় পরিচয় সামনে না আনার চেয়ে বিচারের মুখোমূখি করা জরুরী। আরো এক লজ্জার বিষয় হলো কোন এক পুলিশ কর্মকর্তা নাকি ভাত খাইয়ে যা করার তাই করতেন। ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুসরণ করেছে বলে, অনেকে মনে করেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের ফুটেছে দেখতে পেলাম প্রথমে তোফাজ্জলকে খুব আদর করে খাওয়ালেন। তারপর নিলজ্জভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলেন তোফাজ্জলকে। আমরা কি বিগত দিনের খারাপ সংস্কৃতি ধারণ করব, নাকি ওই খারাপ সংস্কৃতি বাদ দিব?আমাদের আর পিছনের দিকে নয়, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অপরাধকে অনুসরণ নয়, অপরাধমুক্ত করতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি, প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ৮টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বর এলাকায় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এই ধর্মঘটের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী সঞ্চালনায় অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
অবস্থান র্ধমঘট চলাকালে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি অচিরেই বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যম কর্ণফুলীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনটি দাবি হচ্ছে- মহামান্য হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতাকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে। হাইকোর্ট নির্দেশিত নদী জীবত্ব সত্ত্বা আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরে টিকে থাকা সাড়ে তিন শতাধিক দেশিয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।পাশাপাশি নদী তীরে ব্যাপকহারে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদলে গ্রাম সরকার বা ওয়ার্ড সরকার করে তাদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা না করলে এই অব্যবস্থাপনা যাবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কর্ণফুলীর কারণে। দুখের কথা হচ্ছে- দেশের সঞ্চালক এই নদী রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসন বরাবর উদাসীন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি- আপনারা কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করুন, না হয় জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার আশায় ছিলাম। এখন অনেকে দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কর্ণফুলীকে চিরতরে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।

এসময় বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, সমাজসেবক আরমান হোসেন প্রমুখ।

বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে – প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে। সেতু চালু হলে দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। একটি কুচক্রী মহল এতদিন সেতু নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্থ করে রাখে। আজ ১৮জুন বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা সেতু ও কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু পরিদর্শন শেষে নগরপাড়ায় আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ হয়ে বালু নদের সেতু পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সহজেই আসা-যাওয়া করা যাবে। সেই দিক থেকে বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বালু নদের সেতু নির্মাণ কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। সেতু দু’টি চালু হলে লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিলেটসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় যানবাহন চলাচল আরো সহজ ও দ্রুত হবে। উল্লেখ বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু নির্মাণ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ