আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

যে জীবন কেরে নিলে, সে জীবনতো দিতে পারবেবা

একটি হত্যাকান্ড প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে

উপসম্পাদকীয় -কিরন শর্মা

আমরা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে প্রবেশ করছি নাতো?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হত্যাকান্ড প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে। দলবদ্ধ ভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে তাদের নিলর্জ উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছে। তাও আবার ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য লজ্জার। জাতি হিসেবে আমাদের মাথা হেট হয়ে গেছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এই হলের এরকম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে। যে হলের নাম বাংলার বাঘ শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নামের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। আমি যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু মাধ্যমিকে পড়াুয়া এক সহপাঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুবাদে অনেক সময় কাটিয়েছি হলে। আড্ডা দিয়েছি অনেক সময় ঐবন্ধুটির সাথে ফজলুল হক হলে । এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ড দেখে সেই বন্ধুটিও খুব কষ্ট পেয়েছেন বলে আমার মনে হয়। তোফাজ্জল হত্যায় যে বা যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করে সাজা দেওয়া উচিত। রাজনৈতিকভাবে কোন পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কিংবা দোষ চাপানোর চেষ্টা করে কোন লাব নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা কঠিন কাজ নয়। এরই মধ্যে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কেউ এগিয়ে না এলেও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হয়। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কি আমরা কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি। আমরা কি আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে প্রবেশ করছি? নাকি অতি উৎসাহী কিছু লোক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এসব করে চলেছে। নাকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর এসকল দ্বায় চাপিয়ে দেয়ার আয়োজন হচ্ছে। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আমাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেয়ার কথা বলেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একই দিনে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। একই দিন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আমরা সব সময় সোচ্চার। বিবেকের তাড়নায় তাড়িত শিক্ষার্থীরা ঠিকই এর প্রতিবাদ করেছে। বিচার চেয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটা সত্য। দেশ স্বাধীনের পরও কিছু বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতির জন্ম নেয়। এটিকে দীর্ঘ সময় জিইয়ে রাখা রাস্ট্র ব্যবস্হার জন্য হুমকিস্বরুপ। দায়িত্বপ্রাপ্ত রায়। অতীতে অপরাধ করে অনেকেই পার পেয়েছে। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শাস্তি পাওয়ার নজিরও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা, মনে হয় এটিই প্রথম ঘটেছে।জানতে পারলাম সেই ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।
আবার এ কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেটির মামাতো বোনের কাছে ২ লক্ষ টাকা মোবাইল ফোনে চেয়েছে কোন একজন। স্বাধীনতা পর যখন যে সরকার ছিল প্রত্যেকেই ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার কথা বলেছে। বিগত সরকারগুলো সে কথাটা কতটুকু পালন করেছে, তা আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা দেখেছি। আমরা কখনো কখনো কথা বলেছি। আবার কখনো কখনো গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করার কালা কানুন করার জন্য কথা বলতে পারিনি। । সব সময়ই আমাদের হাত চেপে ধরা হয়েছে। কালা কানুনের মাধ্যমে আমাদের কলম চলতে দেয়া হয়নি। একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার অন্যদিকে গণ মানুষের কথা বলতে গিয়েও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আইনের জন্য বলতে পারিনি। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকের তাড়নায় তাড়িত ছাত্ররা প্রতিবাদ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইন প্রয়োগকারি বাহিনীর কাছে তুলে দিয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে বলতে শুনলাম আবেগের তাড়নায় মেরেছি।আমরা যে জীবন দিতে পারি না, কেড়ে নিতেও পারিনা। একথা সবাইকে বুঝতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। এ মহাবিদ্যা পিঠের শিক্ষার্থীরাই বেশি রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছে বিগত দিনে । তোফাজ্জল হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অনেকটা নামিয়ে দিয়েছে মাত্র কজন ছাত্র। অপরাধের সাথে যেই জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে। দলীয় পরিচয় সামনে না আনার চেয়ে বিচারের মুখোমূখি করা জরুরী। আরো এক লজ্জার বিষয় হলো কোন এক পুলিশ কর্মকর্তা নাকি ভাত খাইয়ে যা করার তাই করতেন। ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুসরণ করেছে বলে, অনেকে মনে করেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের ফুটেছে দেখতে পেলাম প্রথমে তোফাজ্জলকে খুব আদর করে খাওয়ালেন। তারপর নিলজ্জভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলেন তোফাজ্জলকে। আমরা কি বিগত দিনের খারাপ সংস্কৃতি ধারণ করব, নাকি ওই খারাপ সংস্কৃতি বাদ দিব?আমাদের আর পিছনের দিকে নয়, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অপরাধকে অনুসরণ নয়, অপরাধমুক্ত করতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সুরাইয়া হ-ত্যা-র বিচার দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন হ-ত্যা-র প্রতিবাদ ও হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের ফাঁ-সি-র দাবিতে বি-ক্ষো-ভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার খেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।


এ সময় জন্তিহার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, শিক্ষক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসানের ছায়া নির্দেশনায়, মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তারা নি-হ-ত সুরাইয়ার হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানান। তা না হলে, আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ