শেষ হলো কক্সবাজারের বৃক্ষমেলা, ৩৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারে শেষ হলো ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। এবার মেলায় সাতদিনে প্রায় ১৫ হাজার চারা বিক্রি হয়েছে। যা থেকে আয় হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা।মেলায় সরকারি—বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল ছিল ৩৫টি। শেষ দিনের সকাল থেকেই মেলায় লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল গড়াতেই দর্শণার্থীদের ভিড় দ্বিগুণ হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, বৃক্ষ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ বৃক্ষ নিধনে মেতে উঠেছে। তারা সমাজ ও দেশের শত্রু। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এসময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উত্তর বনবিভাগের বিভাগী বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ামিন হোসেন ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, ‘মানুষকে বৃক্ষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। মানুষের মধ্যে গাছের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা এবং গাছ কেনায় উৎসাহিত করে এই মেলা। যাতে তারা দেশের সবুজায়নে অবদান রাখতে পারে।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি ও সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও তার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে ২৩ হেক্টর আউশ ধান ও ১১০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার চরনদ্বীপ, পোপাদিয়া শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী,শাকপুরা ও পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।

পোপাদিয়া সৈয়দপুর কৃষক রমজান জানান, ৩০ কানি জমিতে আমন চাষের জন্য বৃষ্টির তিন দিন আগে ১৫ আড়ি ধানের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এতে আমনের আবাদও পিছিয়ে যাবে।

আমুচিয়া ইউনিয়নের মৎসউদ্যোগক্তা বেলাল জানান দুই কানি পুকুর মাছ চাষ করেছি কিন্তু টানা বষর্নে বন্যার পানিতে আমার সব মাছ তলিয়ে গেছে তার হিসাব মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল, মাসুদ নিহাল করিম সহ আরও অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টিজনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ছোট-বড় মাছের পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী পুকুরসহ প্রায় ৯৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মৎস্য খামার পুরোপুরি বা আংশিক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

কৃষিকে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনতে কৃষক কার্ড চালু : কৃষিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকার কৃষিকে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনতে কৃষক কার্ড চালু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এতে কোন এলাকায় কোন ফসল কতটুকু উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত চাহিদা রয়েছে-এসব তথ্য সরকারের হাতে থাকবে। ফলে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার সমন্বয় করা সম্ভব হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। একইসঙ্গে কৃষক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিই নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এতে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন ও ফসলভিত্তিক তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা এই কার্ডের মাধ্যমেই প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সোলারচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ভর্তুকি এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরও কেন আমদানি করতে হয় -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের চাহিদার তুলনায় আবাদযোগ্য জমি সীমিত। এছাড়া হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় আগাম পরিপক্ব ধানের জাত উদ্ভাবন এবং পানিবেষ্টিত এলাকায় ধান কাটার উপযোগী প্রযুক্তি ও যন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইলিশ রপ্তানি বৃদ্ধি করা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ