আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের পর সাতক্ষীরার সেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থাগিত

দেবহাটা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে লুটপাটসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিতর্কিত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী শরিফুল ইসলামকে পদথেকে স্থাগিত করা হয়েছে। জাতীয়বাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবি; হাসান জাফির তুহিন এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় প্যাডে এ আদেশ প্রদান করা হয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হওয়ার পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী শরিফুল ইসলাম ও তাদের সহযোগীরা হিংস্র হয়ে লুটপাট, ভাংচুর করে। এমনকি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদানের পাশাপাশি এক সিনিয়র সাংবাদিককে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ চেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকসহ কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানের পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও কুশুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কুশুলিয়া গ্রামের কাজী নবীদুল ইসলাম ওরফে নবু কাজীর ছেলে কাজী শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত কুশুলিয়া এবং লক্ষ্মীনাথপুর গ্রামে অবস্থিত তন্ময় মন্ডল নামে এক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালায়। তারা ওই ব্যবসায়ীর দু’টি দোকান থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার ফিড ও ঔষধ এবং লক্ষ্মীনাথ গ্রামে জনৈক মহাসিন হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা ব্যবসায়ী তন্ময় মন্ডলের একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। ওই চক্রটি আরও কয়েকজনের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট এবং মাছের ঘেরে লুটপাট করে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মৌতলা গ্রামের কাজী সোহেল লুটকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ওই ব্যবসায়ীর ভাই বিকাশ মন্ডল ওরফে বিকাশ সাধুর নিকট ফেরত দেন (কাজী সোহেলের অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ আছে)। সে সময়ে কাজী শরিফুলের কার্যক্রমের প্রকাশ্য মদদ দেন উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক উপজেলার ভদ্রখালী গ্রামের বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকন। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফুলের নিকট থেকে মোটর সাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্ধর্ষ রোকনুজ্জামান রোকন ও কাজী শরিফুল ইসলাম নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং তাদের সহযোগীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিনসহ ৪ সাংবাদিকের নামে কালিগঞ্জ থানার সম্মুখে মানববন্ধনের নামে মিথ্যা উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে ও মামলা-হামলা করার প্রকাশ্য হুমকি প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে তাদের একটি গ্রুপ উপজেলা সদরে অবস্থিত রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজে যেয়েও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একইদিন বেলা আড়াইটার দিকে রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের সম্মুখের রাস্তায় রোকনুজ্জামান রোকনের দুই অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা রিপোর্টার্স ক্লাবের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে হুমকি, অশ্লীল গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সমাজের সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিপক্ষে অবস্থান এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধমুলক কর্মকান্ড দমনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সংবাদপত্র। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিমূলক অসত্য কোন তথ্য থাকলে সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সাংবাদিকদের বিচারের সম্মুখীন করা যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ঢালাওভাবে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগে অভিযুক্ত করা ও প্রকাশ্য হুমকি ধামকি প্রদান, ভূয়া মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদানের বিষয়টি সাংবাদিক সমাজের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরণের দৃশ্যমান অপতৎপরতায় সাংবাদিক সমাজ হতাশা প্রকাশ করে রোকনুজ্জামান রোকন ও কাজী শরিফুল ইসলামসহ লুটেরা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, সমাজবিরোধী ও শান্তি-শৃঙ্খলা অবনতিকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং নির্ভয়ে যথাযথভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দলের সুনাম ধ্বংসের সাথে জড়িত নেতা-কর্মী ও তাদের মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিকবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ