আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের পর সাতক্ষীরার সেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থাগিত

দেবহাটা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে লুটপাটসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিতর্কিত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী শরিফুল ইসলামকে পদথেকে স্থাগিত করা হয়েছে। জাতীয়বাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবি; হাসান জাফির তুহিন এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় প্যাডে এ আদেশ প্রদান করা হয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হওয়ার পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী শরিফুল ইসলাম ও তাদের সহযোগীরা হিংস্র হয়ে লুটপাট, ভাংচুর করে। এমনকি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদানের পাশাপাশি এক সিনিয়র সাংবাদিককে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ চেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকসহ কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানের পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও কুশুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কুশুলিয়া গ্রামের কাজী নবীদুল ইসলাম ওরফে নবু কাজীর ছেলে কাজী শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত কুশুলিয়া এবং লক্ষ্মীনাথপুর গ্রামে অবস্থিত তন্ময় মন্ডল নামে এক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালায়। তারা ওই ব্যবসায়ীর দু’টি দোকান থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার ফিড ও ঔষধ এবং লক্ষ্মীনাথ গ্রামে জনৈক মহাসিন হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা ব্যবসায়ী তন্ময় মন্ডলের একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। ওই চক্রটি আরও কয়েকজনের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট এবং মাছের ঘেরে লুটপাট করে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মৌতলা গ্রামের কাজী সোহেল লুটকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ওই ব্যবসায়ীর ভাই বিকাশ মন্ডল ওরফে বিকাশ সাধুর নিকট ফেরত দেন (কাজী সোহেলের অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ আছে)। সে সময়ে কাজী শরিফুলের কার্যক্রমের প্রকাশ্য মদদ দেন উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক উপজেলার ভদ্রখালী গ্রামের বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকন। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফুলের নিকট থেকে মোটর সাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্ধর্ষ রোকনুজ্জামান রোকন ও কাজী শরিফুল ইসলাম নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং তাদের সহযোগীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিনসহ ৪ সাংবাদিকের নামে কালিগঞ্জ থানার সম্মুখে মানববন্ধনের নামে মিথ্যা উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে ও মামলা-হামলা করার প্রকাশ্য হুমকি প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে তাদের একটি গ্রুপ উপজেলা সদরে অবস্থিত রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজে যেয়েও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একইদিন বেলা আড়াইটার দিকে রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের সম্মুখের রাস্তায় রোকনুজ্জামান রোকনের দুই অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা রিপোর্টার্স ক্লাবের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে হুমকি, অশ্লীল গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সমাজের সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিপক্ষে অবস্থান এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধমুলক কর্মকান্ড দমনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সংবাদপত্র। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিমূলক অসত্য কোন তথ্য থাকলে সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সাংবাদিকদের বিচারের সম্মুখীন করা যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ঢালাওভাবে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগে অভিযুক্ত করা ও প্রকাশ্য হুমকি ধামকি প্রদান, ভূয়া মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদানের বিষয়টি সাংবাদিক সমাজের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরণের দৃশ্যমান অপতৎপরতায় সাংবাদিক সমাজ হতাশা প্রকাশ করে রোকনুজ্জামান রোকন ও কাজী শরিফুল ইসলামসহ লুটেরা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, সমাজবিরোধী ও শান্তি-শৃঙ্খলা অবনতিকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং নির্ভয়ে যথাযথভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দলের সুনাম ধ্বংসের সাথে জড়িত নেতা-কর্মী ও তাদের মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিকবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপদে ফেলে গেছে সমর্থকদের, নির্দোষদের পাশে আছে বিএনপি: ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের বিপদে ফেলে গেছেন, তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেনি, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে এমপি নির্বাচন করছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা আর কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ওই ফ্যাসিস্ট, হাসিনার লোকেরা, পুলিশ, প্রশাসন। এবার একটা সঠিক ভোট হবে বলে আশা করছি আমরা। অর্থাৎ যার ভোট, সে দিতে পারবে। যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এবারের ভোটটা একটু অন্যরকম হচ্ছে। অন্যান্যবার এলাকায় আমার খালি দৌড়াদৌড়ি করি, নৌকা আর ধানের শীষ, নৌকা আর ধানের শীষ। এবার তো নৌকা নাই, নৌকা এবার পালাইছে। চলে গেছে হাসিনা, যারা সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সে বিপদ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াইছি।

যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য শাস্তি হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা হিন্দু ভাইদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যারা অন্যায় করছে তাদের জন্য শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা আমাদের বুকের মধ্যে রেখে দেবো।
তিনি শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীর্ষে ভোট চান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ গণতন্ত্রের পথে যাবে : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা ভালো। সব ধরনের খুটিনাটি নিয়ে, প্রপাগান্ডা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া সে পথে তো জনগণ যাবে না, জনগণ যাবে গণতন্ত্রের পথে। তারা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সে পথেই চলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের সল্ট গোলা ক্রসিং থেকে নিশ্চিন্তপাড়া ওয়ার্ড অফিস মাইজপাড়া, ১ নং সাইট, হিন্দু পাড়া, বাকের আলি ফকির টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটার জন্য বা এটার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে লেভেল ফিল্ড নেই। সব জায়গায় সব সময় সারা বিশ্বে ঘটে থাকে ছোটখাটো ঘটনা। এটার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্থাৎ যারা নির্বাচন চায় না তারা এই কাজগুলো এই কথাগুলো বলে।কিছু ছোটখাটো ঘটনা, এটা সারা বিশ্বে ঘটছে, এটা বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনগণের সমর্থনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই নির্বাচনে তার মালিকানা ফিরে পেতে চায় মানুষ।

তারা নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায়, যারা তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। সে অপেক্ষায় তারা আছে। এটাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারাই যাবে তারা নিজেরাই বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ