আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

বর্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরে ২১ হাজার ৮১৪ বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, চলাচলে ভোগান্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েটি সড়ক ক্ষত-বিক্ষতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। একটানা বৃষ্টি, জোয়ার ও জলাবদ্ধতার পানি জমে সড়কে ‘ক্ষত’ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য একটি তালিকাও প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পরবর্তীতে বিটুমিন সংকটে সড়কের এ ক্ষত আর সারাতে পারেনি। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন সরেজমিনে সড়কগুলোর দুরবস্থা চোখে পড়েছে। তবে বিটুমিন সংকট কেটে যাওয়ায় শনিবার থেকে কার্পেটিং এর কাজ শুরু হয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী।
সরেজমিনে জিইসি, এ.কে.খান, নিমতলা সড়কে গিয়ে দুরবস্থা দেখা মিলে। সড়কের প্রস্তের দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে গভীর গর্ত। হা করে থাকা গর্তের চারপাশে নেই কোনো নিরাপত্তাবেস্টনি। সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কটি। ব্যস্ত সড়কের দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপে লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। নগরীর পোর্ট কলোনির মসজিদ সংলগ্ন এলাকার পর থেকে নিমতলা মোড়ের চিত্র এটি। ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের কাজ চলমান থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সড়কে রয়েছে একাধিক গর্ত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প নির্মাণ কাজের জন্য এখানে নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিন দেখা যায়, নিমতলা মোড় থেকে পোর্ট কানেক্টিং রোড় ধরে এগোলেই রাস্তার মধ্যভাগ পুরোটাজুড়ে গর্ত। ফলে সংকীর্ণ হয়ে গেছে রাস্তার দু’পাশ। সড়কটি বেশি ব্যবহার হয় বন্দরের ট্রাক যাতায়াতের জন্য। এই রোড়ের প্রায় অর্ধকিলোমিটারজুড়ে ট্রাকের সারি। দীর্ঘ সময় ধরে লেগে আছে জ্যাম।
নগরীর এ কে খান মোড় থেকে জিইসির দিকে যেতে জাকির হোসেন সড়ক ধরে কিছু দূর এগোলেই প্রায় রাস্তার এক তৃতীয়াংশজুড়ে গর্ত। সেখানে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাও। এছাড়াও নয়াবাজার মোড়, আনন্দীপুর, পোর্ট কানেক্টিং রোড হালিশহর কে ব্লক, ছোটপুল এলাকায় ছোট-বড় একাধিক গর্ত দেখা গেছে।
পোর্ট কলোনির মসজিদ সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী এরফান আলম জানান, ওয়াসার সোয়ারেজ প্রকল্পের কাজ চলার কারণে রাস্তার এক পাশ বন্ধ। একাধিক গর্তের কারণে নিয়মিত ছোট ছোট দুর্ঘটনাও ঘটছে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়া সড়কটি দিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচল করছে। মুখোমুখি দুটি যানবাহন এলেই লেগে যাচ্ছে যানজট। ফলে এক পাশ থেকে আসা যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে আরেক পাশ থেকে আসা যানবাহনগুলোকে যেতে দিতে হচ্ছে।
এদিকে হাটহাজারী সড়ক, বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক ও কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়ক সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় নগরীর নতুনপাড়া থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত হাটহাজারী সড়ক, অক্সিজেন থেকে দুই নম্বর গেট হয়ে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক ও অক্সিজেন মোড় থেকে ওয়াজেদিয়া পর্যন্ত কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কের বিভিন্নস্থানে পিচঢালাই উঠে ছোট-বড় বেশ কিছু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এসব সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি সড়কের দুই নম্বর গেট থেকে প্রবর্তক মোড় অংশ ও কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কের পিচঢালাই উঠে খোয়া বের হয়ে গেছে বিভিন্নস্থানে। এতে এসব সড়ক দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে নগরবাসীর। চলন্ত যান অসাবধানতাবশত গর্তে পড়ে ছোটবড় নানা দুর্ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও। নগরীর অক্সিজেন এলাকার ম্যাক্সিমা চালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি অক্সিজেন থেকে চকবাজার পর্যন্ত গাড়ি চালাই, গর্তের কারণে গাড়ি সবসময় দুলে, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝেমধ্যে সড়কেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এসব সড়কের বাকি অংশে ছোট-বড় অধিকাংশ গর্ত ভরাট করা হয়েছে কংক্রিটের মিশ্রণ দিয়ে। তাতেও কমেনি ভোগান্তি, কংক্রিটের মিশ্রণ সড়কের সঙ্গে মসৃণভাবে না মেলানোয় উঁচু-নিচু খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নগরীর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সড়কের উভয় পাশে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত দেখা যায়। কিছু কিছু গর্ত ভরাটে কংক্রিট দিয়েছে চসিক। তবে এরমধ্যে অনেক গর্ত থেকে ইতোমধ্যে কংক্রিট উঠে সড়কগুলো বড় ক্ষততে পরিণত হয়েছে। ছোট-বড় গর্ত, উঁচু-নিচু সড়ক, বিটুমিন ও পাথর উঠে নগরীর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক হচ্ছে সিডিএ এভিনিউ’র মুরাদপুর থেকে শুলকবহর পর্যন্ত। এরমধ্যে শুলকবহরের এশিয়ান হাউজিং এর আগে প্রায় ১০০ মিটার সড়কে রয়েছে অর্ধশত গর্ত। সেখানে সড়কের কার্পেটিং ছাড়া গর্ত ভরাটে চসিকের দেয়া কংক্রিটগুলোর কারণে সড়কটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ওয়াসা, বারিক বিল্ডিং থেকে ফকির হাট, মাইলের মাথা থেকে ফ্রি-পোর্ট সংলগ্ন ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজ রোড এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
কথা হলে ওয়াসা থেকে শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) রুটের মাহিদ্রা চালক মো. জুয়েল বলেন, এই রুটের ওয়াসা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে মুরাদপুর থেকে শুলকবহর পর্যন্ত। এ সড়ক পার হওয়ার সময় মনে হয়, এই বুঝি গাড়ি উল্টে যাবে। কয়েকবার গাড়ি নষ্ট ও একবার চাকা খুলে যায়। তবে যাত্রীরা কিছুটা আহত হলেও বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
চসিক সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় থেকে টানা বৃষ্টি, জোয়ার ও জলাবদ্ধতার পানি জমে সড়কে ‘ক্ষত’ সৃষ্টি হয়েছে। যা এখনো সারাতে পারেনি চসিক। সে সময় এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য একটি তালিকাও প্রস্তুত করে চসিক। তালিকা মতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার ৮১৪ বর্গমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়কের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ করতে পেরেছে চসিক। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সাধারণ ছুটি, কারফিউ, বৃষ্টি এবং সর্বশেষ বিটুমিনের কারণে কার্পেটিং এর কাজ আটকে যায়।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে আমরা কার্পেটিং করতে পারিনি। এরপর আবার বিটুমিনের সংকট দেখা দেয়। আমরা সড়ক ঢালাইয়ের জন্য যে মানের বিটুমিন ব্যবহার করি সেটা পাওযা যাচ্ছিল না। এ কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিটুমিন কার্পেটিং করতে পারিনি। তবে ইতোমধ্যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বিটুমিন চলে এসেছে। কার্পেটিং শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ