সাতক্ষীরা খলিশাখালির মৎস্যঘের জবর দখল ও লুঠপাটের হুমকিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি তে সংবাদ সম্মেলন

ইব্রাহীম হোসেন দেবহাটা উপজেলা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানাধীন খলিশাখালিতে মৎস্যঘের জবর দখল ও লুঠপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক পক্ষ। বুধবার (২ অক্টোবর) পারুলিয়াস্থা বেসরকারি সংস্থা আইডিয়ালের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালিক পক্ষের ডা. নজরুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, খলিশাখালি এলাকায় নামীয় ঘেরের ৪৩৯,২০ একর সম্পত্তিতে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা জবর দখল ও লুঠপাট করে। এতে প্রকৃত জমির মালিক ও লীজ দ্যতারা ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানী করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পারুলিয়া মৌজার ৪৩৯.২০ একর সম্পত্তি সিএস ১৮১২ নং খতিয়ানে ১১১৭৫ দাগ সহ ২৭ টি দাগের উপর উল্লেখিত ৪৩৯,২০ একর জমির সিএস খতিয়ানের মালিক চন্ডিচরণ ঘোষ। সেখান থেকে ১৯৩৭ সালের ৪ পাট্টা/খাট্টা ও কবুলতি দলিল নং ৭৪৯ ও ৭৫০ এবং ১৯৩৭ সালের ১৭ এপ্রিল ৭৯৩ ও ৭৯৪ কোর্টের রায় অনুযায়ী নিলাম খরিদের মাধ্যমে পরবর্তীতে মালিক তেজেন্দ্র নাথ চৌধুরী গং (প্রজাবিলি সহ)। তৎপরবর্তীতে কলিকাতা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালের ৪ মার্চ তারিখের ৬৯৪ নং বিনিময় দলিল মূলে মালিক হয়েন কাজী আব্দুল মালেক গং। উক্ত ৪৩৯.২০ একর সম্পত্তি ২৯৬২ থেকে ২৯৮০ মোট ১৯ টি খতিয়ানে কাজী আব্দুল মালেক গং, সহ প্রজাদের নামে এসএ রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এসএ রেকর্ড পরবর্তী কাজী আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর ওয়ারেশ গণ এবং প্রজাদের নিকট থেকে ক্রমিক হস্থান্তর সূত্রে বর্তমান মালিক গন দলিল মূলে ক্রয় করে মিউটিশন করেন এবং খারিজ খতিয়ানের দ্বারা মালিক হন এবং নিয়মিত সরকারের করাদি পরিশোধ করে ৬০ বছর উর্দ্ধেকাল ভোগদখলে আছি। পরবর্তীতে সেটেলমেন্ট জরিপে মাঠ পর্চা এবং প্রিন্ট পর্চার মাধ্যমে গেজেট প্রকাশিত হয় এবং সে অনুযায়ী সরকারের হালনাগাদ অর্থাৎ বাং-১৪৩০/১৪৩১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত করাদি পরিশোধ করা হয় এবং ভোগ দখলে আছে। বর্তমানে উক্ত ৪৩৯.২০ একর জমির মালিক প্রায় ২০০ জন। উক্ত সম্পতি কোন সময় শত্রু সম্পতি বা ভেস্টেট সম্পত্তি হিসাবে গন্য হয়নি। তালিকায় উক্ত সম্পতি “ক” বা “খ” তপশীলভূক্ত হয়নি। এসএ রেকর্ড পরবর্তী মোট সম্পত্তির মধ্যে ৮-১০ একর সম্পত্তি এসএ রেকর্ড মালিকগণ সিলিং বর্হিভূত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিকট সারেন্ডার করেন এবং পিও ৯৮ এর আওতায় সরকার খাস করে। দারিদ্র পরিবারের মধ্যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বিএস রেকর্ডে তাদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে উক্ত ৪৩৯.২০ একর জমির মধ্যে মাত্র ১২.৫৫ একর সম্পত্তি জমির মালিকদের পানি নিস্কাশনের জন্য খাল হিসেবে রেকর্ডভূক্ত হয়েছে, তবে তা কালের প্রবাহে বিলীন হয়ে জমিতে পরিনত হয়েছে। কিছু অর্থসম্পদ লোভী ভূমি দস্যু, কথিত ক’জন সংবাদকর্মী ও আইনজীবি লোভের বর্শবর্তী হয়ে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উস্কানী দিয়ে গত ২০২১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে মকরম শেখ, আকরাম হোসেন, আরিফুল ইসলাম পাড়, সাইফুল ইসলাম গাজী, কামরুল ইসলাম, রিপন হোসেন, গোপাল ঢালী, শরিফুল ইসলাম, বাবলু গাজী, পুটু, রবিউল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম কালু, আব্দুল গফুর, এসএম মহিউদ্দিন (আশাশুনি) সহ আরও ৫০/৬০ জন লোক আমাদের মৎস্য চাষকৃত জমিতে জবরদখল নেয় এবং কোটি টাকার উর্দ্ধে জমির মালিক এবং লীজ গ্রহিতারদের ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং নিস্ব করে দেয়। বর্তমান ওই জমি দখলে নিতে এবং চাষকৃত মাছ লুট করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমরা জমির মালিক এবং লীজ গ্রহিতাগণ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব এবং সেনাবাহিনীর কাছে উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানাচ্ছি। না হলে খলিশাখালি এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভবনা বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলন কালে জমির মালিক কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আনসার আলী, আব্দুল মাজেদ, আব্দুল মজিদ, রুহুল আমিন, এবাদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, রেজাউল ইসলাম, আব্দুল গফুর, আনারুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, আব্দুল গফ্ফার সহ লিজ গ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।পোস্টে হামলার পেছনে ‘সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করায় শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পরও বিতর্ক থামেনি।

একদিকে এপোস্টকে নিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ একাধিক নেতা জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে ‘ডিপ প্ল্যান’ খোঁজার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, শিবির-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের পক্ষের পোস্টও যথেষ্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপি ছাড়লেন মাহমুদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দল ছাড়লেন এনসিপি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ইব্রাহিম মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই নিজের ফেসবুকে আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমি ইব্রাহিম মাহমুদ, যুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কুলাউড়া উপজেলা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ