উপকরণ সংকটে চট্টগ্রামের সাত উপেজলায় ধুকে ধুকে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জেলার অন্তত ৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে বই, খাতা, স্কুল ড্রেস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুলের অবকাঠামো ও আসবাবপত্র। বন্যার প্রায় এক মাসের বেশি সময় পার হলেও স্কুলগুলোকে পাঠদানের উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। পানি নেমে গেলেও শিক্ষা উপকরণ সংকটে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণেও বড় সংকটে রয়েছে স্কুলগুলো। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই, খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ না পৌঁছানোর কারণে পড়াশোনা স্বাভাবিক হতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তাছাড়া অনেক এলাকায় এখনো বন্যার পানি থাকায় স্কুলের সংস্কার করা যায়নি। এ কারণে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হচ্ছে। স্কুলে পড়াশোনার পরিবেশ ফেরাতে হলে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া স্কুলগুলোকে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কম-বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ হাজার ৫৭৬টি স্কুলের মধ্যে ৩ হাজার ৪৯টি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ২৩৩টি স্কুল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্কুলের ২ লাখ ৬৯ হাজার ১২ শিক্ষার্থী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । তাদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭২ ও মেয়ে শিক্ষার্থী ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৪০ জন। বিভি- ন্ন স্কুলে বই, স্কুল ব্যাগ ও ড্রেসের চাহিদাপত্র হাতে পেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ।
চাহিদাপত্র অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ২৮০টি স্কুল ব্যাগ, ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪১৭ সেট স্কুল ড্রেস সরবরাহ করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া কী পরিমাণ বইয়ের চাহিদা জরুরি ভিত্তিতে রয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। কিছু প্রাথমিক চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। তবে চাহিদাপত্র অনুযায়ী বই পর্যাপ্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো, ইলেকট্রিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ টাকা। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ সময়সাপেক্ষ বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ।
চট্টগ্রাম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোয় পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ড্রেস, স্কুলব্যাগ, বইসহ অন্যান্য উপকরণের কিছুটা সংকট রয়েছে। আমরা জেলা কর্মকর্তাদের এসব উপকরণের চাহিদাপত্র দিতে বলেছি। চাহিদাপত্র ছাড়া শিক্ষার্থীদের বেশকিছু শিক্ষা উপকরণ সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে বন্যার সময় স্কুলগুলোয় থাকা বিভিন্ন উপকরণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম শতভাগ শুরু করা যায়নি। আমরা স্কুলগুলোয় গিয়ে শিক্ষাকদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছি। যেহেতু বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়ে গেছে, সেজন্য তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বিকল্প উপায়ে নিয়মিত করতে সহায়তা দরকার। ডিসেম্বর পর্যন্ত এখনো হাতে সময় রয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের সংকট নেই । শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, বন্যার কারণে স্কুলগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বইসহ অন্যান্য উপকরণ রক্ষা করতে পারেনি। স্কুলগুলোয় পলি জমে থাকায় ক্লাস শুরু করাই এখন চ্যালেঞ্জ । তাছাড়া স্কুলের অবকাঠামো, আসবাবপত্র ঠিকঠাক করে সম্পূর্ণভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে । আমাদের এখন প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ শেষ করা। শিক্ষার্থীদের খাতায় হাতে লিখে, ফটোকপি করে বা অন্যভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। স্কুলগুলোয় এখনো শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে চেষ্টা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে স্কুলগুলোয় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে । এখানকার স্কুলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, ব্যাগ, স্কুল ড্রেসসহ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষকদের নানা সংকট থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যতদিন না শিক্ষা উপকরণ হাতে হাতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, ততদিন হাতে লিখে বা বই শেয়ারিং বা অন্যান্য উপায়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাতিসংঘের শিশু কল্যাণবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষা উপকরণের মধ্যে খাতা, কলম, পেনসিল, স্কুলব্যাগ বা ড্রেসসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ রয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে ইউনিসেফের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। অবশ্য বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নীরব সমাজব্রতী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবুল হোছাইন সওদাগর (রহ.) অধ্যাপক মাওলানা এস এম ইউনুছ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত বাকলিয়া একটি ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এই এলাকাকে কেন্দ্র করে একাধিক ওয়ার্ড এবং একটি প্রশাসনিক থানা। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, ধনী, দরিদ্র শ্রমজীবী ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বহু মানুষের আবাসস্থল বাকলিয়া এলাকা। পূর্ব বাকলিয়ার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল হোছাইন (প্রকাশ বাংলাদেশ বাণিজ্য ভান্ডার)। চলন বলন আচরণে তিনি একজন নীরব ও নিরহংকার মানুষ ছিলেন। সদা হাসিমাখা চেহারা নিয়ে কথা বলতেন। কখনও কারো সাথে রূঢ় আচরণ করেছেন বলে আমার জানা নেই। তাঁর পিতার নাম মরহুম কালা মিয়া, মাতা মরহুমা মেওয়াজান খাতুন। তিনি স্থানীয় ঘাটকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শেষ করে কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৫৮ সনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পরিবারের হাল ধরেন এবং তাঁর মামা দানবীর আহমদীয়া করিমিয়া সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব সোনামিয়া সওদাগরের ব্যবসায়িক সহায়ক হিসেবে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। অত্যন্ত সততা আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে মামার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে মামার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। মামা-ভাগিনার যৌথ প্রচেষ্টায় ব্যবসার পরিধি অধিকতর সম্প্রসারিত হয়। শুটকির আড়ত ব্যবসা ছাড়াও নতুনভাবে আমদানি ব্যবসা এবং শিল্প কারখানা, হাসেম টেক্সটাইল মিলস লি: এবং চম্পা অয়েল মিলস লি: সহ আরও নানাবিধ প্রতিষ্ঠান তিনিই তদারকি করতেন। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের পর নিজে আছদগঞ্জ ইসলাম কলোনীর মুখে বাংলাদেশ বাণিজ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইমপোর্ট এক্সপোর্ট এবং শীপ ব্রেকিং সহ নানাবিধ ব্যবসার মাধ্যমে প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখেন। তাঁর সামাজিক ও দ্বীনি কর্মের উন্নত নিদর্শন হচ্ছে বাকলিয়াস্থ আহমদীয়া করিমিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। আলহাজ্ব সোনামিয়া সওদাগর তাঁর পীর ও মুর্শিদ গাউসে জামান শাহসুফি আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.) কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মামাকে নানাভাবে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিয়ে উজ্জীবিত করেন এবং ১৯৭৩ সনে প্রথমে তাঁর পীর ও মুর্শিদের নামে আহমদিয়া ফোরকানীয়া মাদ্রাসা চালু করেন। পরবর্তীতে পিতার নামসহ আহমদিয়া করিমিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা নামে ১৯৭৭ সনে দাখিল স্তরে উন্নীত করেন এবং বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করেন। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকাল হতে সুদীর্ঘ সময় তিনি এই মাদ্রাসার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। আমি ১৯৮৩ সনে এ মাদ্রাসায় সহসুপার পদে যোগদান করি। উনার অনুপ্রেরণায় ১৯৮৬ সনে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং তাঁর ঐকান্তিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় ১৯৮৯ সনে এই মাদ্রাসাকে আলিম স্তরে উন্নীত করে ১৯৯১ সনে তৎকালীন মন্ত্রী মরহুম জিয়াউদ্দিন বাবলুর সহযোগিতায় এম.পি.ও ভুক্ত করতে সক্ষম হই।

আমার সুদীর্ঘ ছয় বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে মাদ্রাসার সময়ে এবং দুঃসময়ে তিনি বটবৃক্ষের ছায়া দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেন এবং কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ রেখেছেন। এর জন্য আমি তাঁর কাছে ঋণী।

বৃহত্তর বাকলিয়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হলেও এলাকাটি শিক্ষা ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ ছিল। আজ থেকে তিন দশক পূর্বে পূর্ব বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ব্যতীত বৃহত্তর বাকলিয়ায় আর কোনো বিদ্যালয় ছিল না। এলাকার মানুষগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও তারা ছিলেন শিক্ষানুরাগী। প্রায় প্রতিটি পরিবার ছিল একটি মিনি পাঠশালা, প্রত্যেক ঘরে ঘরে লজিং মাস্টার থাকতো। তখনকার দিনে একটি প্রবাদ বাক্য ছিল, “বাকলিয়ার ভাত না খাইলে শিক্ষিত হওয়া যায় না।” বৃহত্তর চট্টগ্রামের অনেক বড় বড় শিক্ষাবিদ বাকলিয়ায় লজিং থেকে শিক্ষিত হয়েছেন। বাড়িতে লজিং মাস্টার রাখা বাকলিয়ার মানুষের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। শিক্ষায় পশ্চাৎপদ এলাকাকে আলোকিত করতে স্কুল, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা ছিল সময়ের দাবি। এই দাবি পূরণ করার লক্ষ্যে তিনি উত্তর-পূর্ব বাকলিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বাস্তবায়ন কমিটির সম্পাদক ছিলেন আবুল হোছাইন সওদাগর। পরে তা নুরুল ইসলাম বি.এস.সির অর্থায়নে সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় নামকরণ হয়। ঐ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি ঘাটকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বায়তুর জমা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। পটিয়া বানিগ্রাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টাসহ বহু দ্বীনি, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মরহুম আবুল হোসাইন ছিলেন ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত ধার্মিক এবং সামাজিক। সমাজের গরিব দুঃখী-দুস্থ মানবতার সেবায় তিনি সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করতেন। তাঁর সক্ষমতা অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করতেন। তিনি ধর্মীয় অনুশাসন ব্যক্তিগতভাবে এবং পারিবারিকভাবে যথাযথ পালন করতেন। তিনি হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর ভক্ত ও মুরিদ ছিলেন। তিনি তাঁর সন্তানদেরকেও ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলতে তাগাদা দিতেন। আর্থসামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলেও তাঁর সন্তানদের সবাইকে উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাকলিয়ায় তাঁর জন্মস্থান হলেও সন্তানদের ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শেখানোর জন্য জীবনের বেশিরভাগ সময় শহরের প্রাণকেন্দ্র আসকারদীঘির পশ্চিমপাড়, নন্দনকানন, জামালখান এলাকায় অতিবাহিত করেন এবং জীবন সায়াহ্নে নিজ এলাকায় পৈতৃক ভিটায় সুরম্য বাড়ি তৈরি করে সুখে সানন্দে শেষ জীবন সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সনের ১১ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯.৩০ মিনিটে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাঁর জীবনের সকল খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে উচ্চাসনে সমাসীন করুন আমিন।

মাওলানা এস.এম.ইউনুছ:
সাবেক বিভাগীয় প্রধান
আরবী ও ইসলামি শিহ্মা বিভাগ চট্টগ্রাম কলেজ
চট্টগ্রাম।

বিউটি রানী পাল সিলেট জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেটে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী আলোচনা চলে তাকে নিয়ে।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশাদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত চার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বিউটি রানী পাল ছাড়াও সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস রয়েছেন।

বিউটি রানী পাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ